INDIA ব্লকের লোকসভা স্পিকারের চা-চক্র বয়কট, খাড়গে-সোনিয়া রাজ্যসভার বৈঠকে
সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শেষ হওয়ার পর রাজনৈতিক উত্তাপ আরও একবার প্রকাশ্যে এল। বৃহস্পতিবার লোকসভা স্পিকারের ঐতিহ্যবাহী চা-চক্রে অংশ নেয়নি INDIA ব্লকের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শরিক দল। অন্যদিকে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের আয়োজিত পৃথক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং সোনিয়া গান্ধী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে চলমান টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেয়েছে।
লিখেছেন
Priya Jana
লোকসভা স্পিকারের চা-চক্র বয়কট INDIA ব্লকের
নয়াদিল্লি: সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শেষ হওয়ার পরও কাটল না রাজনৈতিক উত্তাপ। বৃহস্পতিবার লোকসভা স্পিকারের আয়োজিত প্রথাগত চা-চক্র বয়কট করল INDIA ব্লকের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শরিক দল। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টির মতো বিরোধী দলগুলি অনুষ্ঠানে যোগ দেয়নি বলে জানা গিয়েছে।
অধিবেশন শেষ হওয়ার পর লোকসভা স্পিকারের পক্ষ থেকে সাংসদদের জন্য এই ধরনের চা-চক্র আয়োজন সংসদীয় রীতির অংশ। কিন্তু সাম্প্রতিক অধিবেশনজুড়ে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে যে সংঘাত তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব শেষ দিনের আনুষ্ঠানিকতাতেও পড়ল।
এক প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জানিয়েছেন, দলের পক্ষ থেকে স্পিকারের চা-চক্রে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের সঙ্গে সংসদ পরিচালনা এবং বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিরোধের আবহেই এই বয়কটের সিদ্ধান্ত বলে সূত্রের খবর।
খাড়গে-সোনিয়ার উপস্থিতিতে রাজ্যসভার বৈঠক
অন্যদিকে, লোকসভা স্পিকারের চা-চক্র এড়ালেও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের আয়োজিত পৃথক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং প্রবীণ কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী সেখানে যোগ দেন।
এই দুই ঘটনার মধ্যে রাজনৈতিক তাৎপর্য দেখছেন সংসদীয় রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা। একদিকে লোকসভা স্পিকারের অনুষ্ঠানে বিরোধী দলগুলির অনুপস্থিতি সংসদে চলা সংঘাতের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে রাজ্যসভায় বিরোধী নেতৃত্বের উপস্থিতি দেখাচ্ছে, সংসদীয় সমন্বয়ের দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
INDIA ব্লকের মধ্যে কৌশলগত সমন্বয়
লোকসভা স্পিকারের অনুষ্ঠানে INDIA ব্লকের একাধিক প্রধান শরিক অনুপস্থিত থাকলেও সব শরিক একই অবস্থান নেয়নি। ডিএমকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল বলে জানা গিয়েছে। ফলে বিরোধী জোটের অভ্যন্তরেও বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কৌশলগত অবস্থানের পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে।
সংসদের অধিবেশনজুড়ে একাধিক ইস্যুতে বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। পাল্টা শাসক শিবিরও বিরোধীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সেই সংঘাতের আবহেই অধিবেশন শেষ হয়েছে।
সামনে আরও রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত?
লোকসভা স্পিকারের চা-চক্র বয়কটকে নিছক একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে অনুপস্থিতি হিসেবে দেখছেন না রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাঁদের মতে, সংসদে বিরোধী দলগুলির অবস্থান কতটা কঠোর, এই ঘটনাটি তারই একটি প্রতীকী প্রকাশ।
তবে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের বৈঠকে খাড়গে ও সোনিয়ার উপস্থিতি একইসঙ্গে দেখাচ্ছে যে সাংবিধানিক ও সংসদীয় পরিসরে যোগাযোগের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
বর্ষাকালীন অধিবেশন শেষ হলেও সরকার ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংঘাত যে অব্যাহত থাকবে, বৃহস্পতিবারের ঘটনাপ্রবাহে তারই ইঙ্গিত মিলেছে। আগামী অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ বিল, বিরোধীদের বিভিন্ন দাবি এবং সংসদ পরিচালনা নিয়ে ফের রাজনৈতিক সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
