NCPI-NDA জোটের ইতি? ‘দ্বিচারিতা মানুষ হজম করবে না’, শমীকের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যে নয়া জল্পনা
NCPI-এর কয়েকজন সাংসদের NDA-র বৈঠক এড়িয়ে চলা এবং বিজেপির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নিয়ে আপত্তির জেরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের ‘দ্বিচারিতা থেকে দূরে থাকুন’ মন্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি NCPI-NDA সমীকরণে ফাটল ধরছে?
লিখেছেন
Priya Jana

কলকাতা: তৃণমূল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করা NCPI-এর সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বাধীন NDA-র সম্পর্ক কি এবার ধাক্কার মুখে? মুর্শিদাবাদের তিন NCPI সাংসদের NDA-র বৈঠকে অনুপস্থিতি এবং বিজেপির সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক সম্পর্ক না রাখার অবস্থানের পর থেকেই নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তার মধ্যেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্যে সেই জল্পনায় আরও ইন্ধন পড়েছে।
সম্প্রতি NCPI-এর ২০ জন সাংসদের মধ্যে আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান NDA-র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা সরাসরি বিজেপিতে যেতে চান না এবং বিজেপির সঙ্গে কোনও কিছু ভাগ করে নেওয়ারও ইচ্ছা নেই। অন্যদিকে, NCPI-এর বাকি সাংসদরা এখনও NDA-র সঙ্গে থাকার অবস্থানেই রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
কী বলেছিলেন শমীক?
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই শমীক ভট্টাচার্য বলেন, তাঁর জানা অনুযায়ী NCPI-এর ২০ জন সাংসদ NDA-তে যোগ দিয়েছেন। এরপরই তিনি বলেন, “এই সমস্ত দ্বিচারিতা থেকে দূরে থাকুন।” তাঁর আরও বক্তব্য, “এ নাটকও কিন্তু মানুষ হজম করবে না।”
শমীকের এই মন্তব্য সরাসরি NCPI ভেঙে যাওয়ার ঘোষণা নয়। কিন্তু রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, NDA-র সঙ্গে থাকার দাবি করেও যদি দলের একাংশ বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখে, তাহলে ভবিষ্যতে এই সমীকরণ কতটা টিকবে?
তিন সাংসদের অবস্থানেই যত জট
মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদের অবস্থানই মূলত জল্পনার কেন্দ্রে। আবু তাহের স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা NDA-র বৈঠকে যাবেন না। একইসঙ্গে বিজেপিতে সরাসরি যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন।
অন্যদিকে NCPI-এর অন্য সাংসদদের অবস্থান তুলনামূলকভাবে আলাদা। তাঁরা বারবার বোঝানোর চেষ্টা করছেন, দলের মধ্যে কোনও বিভাজন নেই এবং NCPI NDA-র সঙ্গেই রয়েছে। ফলে একই দলের সাংসদদের মধ্যে রাজনৈতিক অবস্থানের এই পার্থক্যই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
NDA-র সঙ্গে NCPI-র সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল কীভাবে?
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসে বড় রাজনৈতিক ভাঙন দেখা দেয়। তৃণমূলের একাংশের সাংসদ দল ছেড়ে Nationalist Citizens Party of India বা NCPI-তে যোগ দেন। পরে তাঁরা সংসদে আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে বসার আবেদন জানান এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন NDA-কে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন।
পরবর্তী সময়ে NCPI সাংসদদের NDA-র বৈঠকে উপস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁদের বৈঠকও রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়েছিল।
কিন্তু সেই সমীকরণ কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।
কলকাতা পুরভোটেও জোট নিয়ে বিভ্রান্তি
NCPI-BJP সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা শুধু সংসদেই আটকে নেই। কলকাতা পুরসভা নির্বাচন নিয়েও একই ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
NCPI সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, তাঁর দল NDA-র শরিক হিসেবে বিজেপির সঙ্গে জোট করে KMC নির্বাচনে লড়বে। কিন্তু বিজেপির পক্ষ থেকে সেই দাবি কার্যত খারিজ করে দেওয়া হয়। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য ছিল, কলকাতা পুরভোটে দল নিজের শক্তিতেই লড়বে।
ফলে একদিকে সংসদে NDA-র সঙ্গে NCPI-এর ঘনিষ্ঠতা, অন্যদিকে রাজ্যের নির্বাচনে জোট নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়েছে।
‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে কেন এত কড়া শমীক?
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য এখানেই। তিনি অবশ্য NCPI-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে সরাসরি কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা বলেননি। বরং অন্য দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তকে তাঁদের নিজেদের বিষয় বলেই উল্লেখ করেছেন।
তবে একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, একদিকে NDA-র সঙ্গে থাকার দাবি এবং অন্যদিকে বিজেপির সঙ্গে কোনও সম্পর্ক না রাখার অবস্থান—এই দ্বৈত অবস্থান দীর্ঘদিন চালানো সহজ হবে না।
অর্থাৎ, শমীকের মন্তব্যকে NCPI-NDA সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ইতি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং এটি রাজনৈতিক চাপের একটি স্পষ্ট বার্তা বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
তাহলে কি সত্যিই ভাঙছে NCPI?
এই মুহূর্তে তার কোনও নিশ্চিত প্রমাণ নেই। বরং NCPI-এর একাংশ এখনও NDA-র সঙ্গে থাকার কথা বলছে। একইসঙ্গে তিন সাংসদ তাঁদের আলাদা অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
তাই আপাতত ছবিটা এমন—NCPI-র ভিতরে অবস্থানগত পার্থক্য রয়েছে, কিন্তু জোট ভেঙে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই। শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য সেই টানাপোড়েনকে প্রকাশ্যে আরও দৃশ্যমান করে তুলেছে।
রাজনৈতিক মহলের নজর এখন থাকবে NCPI নেতৃত্বের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদ শেষ পর্যন্ত কোন পথে হাঁটেন তার দিকে। কারণ তাঁদের অবস্থানই ভবিষ্যতের NCPI-NDA সমীকরণের বড় পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।
Keep reading
More in জেলার খবর
জেলার খবর
BJP in West Bengal: ভোটে এত টাকা খরচ করেছে বিজেপি! পাঁচ রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পশ্চিমবঙ্গেই
২০২৬ সালের পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির মোট রিপোর্ট করা খরচের অর্ধেকেরও বেশি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। নির্বাচন কমি…
জেলার খবর
LPG Gas Price: ১ অক্টোবর থেকে রান্নার গ্যাসের বুকিংয়ের নিয়মে বড় বদল! আধার যাচাই না করলে কী হবে?
১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে গার্হস্থ্য LPG সিলিন্ডার বুকিংয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। ভর্তুকি-সহ নির্ধারিত দামে (RSP) LPG রিফিল বু…

জেলার খবর
পুজোর বিজ্ঞাপন রাস্তায়? এবার KMC-এর NOC মাস্ট! ৩ অক্টোবরের আগে ব্যানার-হোর্ডিং লাগালেই বিপদ
দুর্গাপুজোর আগে কলকাতার রাস্তায় ইচ্ছেমতো ব্যানার, ফ্লেক্স বা বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং লাগানো যাবে না। এবার পুজোর অস্থায়ী বিজ্ঞাপনের জন্য কলকাতা পু…

জেলার খবর
Weather Update: ঝড়বৃষ্টিতে দক্ষিণের সঙ্গে পাল্লা দেবে উত্তরের জেলাগুলিও, আগামী কয়েকদিন ভারী দুর্যোগের আশঙ্কা কোন কোন জেলায়?
পুজোর আগে ফের সক্রিয় বর্ষা। ১৭ সেপ্টেম্বর উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, সঙ্গে কোচবিহার, কালিম্পং, জলপা…
জেলার খবর
দুর্বল হয়েও খেল দেখাবে নিম্নচাপ! আগামী ২৪ ঘণ্টায় ৯ জেলায় ধেয়ে আসছে ঘোর দুর্যোগ, জারি সতর্কতা
গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর থাকা নিম্নচাপ ধীরে ধীরে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে সরে গেলেও তার প্রভাবে বৃষ্টি থেকে এখনই রেহাই নেই বাংলার। আগামী ২৪ ঘ…
জেলার খবর
যারা একবারও অন্নপূর্ণার ৩০০০ টাকা পাননি, আর যাঁরা একবার পেয়েই বন্ধ হয়ে গিয়েছে, তাঁরা কবে পাবেন? বড় আপডেট জেনে নিন
অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকা নিয়ে এখনও বহু মহিলার অপেক্ষা কাটেনি। কেউ এখনও একবারও টাকা পাননি, আবার কেউ প্রথম মাসে টাকা পেলেও পরের মাসে আর পা…
