H-1B ভিসায় বিপুল বদল! চাকরি গেলেই কি ভারতীয়দের আমেরিকা ছাড়তে হবে? ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাবে শেষ ৬০ দিনের ‘গ্রেস পিরিয়ড’
H-1B-সহ কয়েকটি অস্থায়ী কর্মভিসায় থাকা বিদেশি কর্মীদের চাকরি চলে গেলে যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড পাওয়া যায়, তা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মটি চূড়ান্ত হলে চাকরি শেষ হওয়ার পর নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজা বা অন্য বৈধ স্ট্যাটাসে যাওয়ার জন্য আগের মতো ৬০ দিন সময় নাও থাকতে পারে। তবে এটি এখনও প্রস্তাব, চূড়ান্ত নিয়ম নয়।
লিখেছেন
Priya Jana
H-1B ভিসাধারীদের জন্য বড় ধাক্কার আশঙ্কা
আমেরিকায় কাজ করা ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য ফের বড় খবর। H-1B ভিসা-সহ একাধিক অস্থায়ী কর্মভিসার ক্ষেত্রে চাকরি হারানোর পর পাওয়া সর্বোচ্চ ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
মার্কিন Department of Homeland Security (DHS) এই প্রস্তাব Federal Register-এ প্রকাশ করেছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে কোনও H-1B কর্মীর চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমেরিকায় থাকার বর্তমান ‘সেফটি নেট’ অনেকটাই সঙ্কুচিত হয়ে যাবে।
কী এই ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড?
বর্তমান নিয়মে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে H-1B কর্মীর চাকরি শেষ হয়ে গেলে সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত আমেরিকায় থেকে নতুন চাকরি খোঁজা, নতুন নিয়োগকর্তার মাধ্যমে H-1B প্রক্রিয়া এগোনো অথবা অন্য কোনও বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে যাওয়ার সুযোগ থাকে।
এই সুবিধাটি ২০১৭ সালে চালু হয়েছিল। চাকরি হারানোর পর কর্মী এবং তাঁর পরিবারকে বাড়ি গুছিয়ে নেওয়া, সন্তানদের স্কুল সংক্রান্ত বিষয় সামলানো কিংবা নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার জন্য কিছুটা সময় দেওয়াই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
এবার কী করতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন?
DHS-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড তুলে দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ, চাকরির সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলে আগের মতো ৬০ দিন অপেক্ষা করার সুযোগ আর নাও থাকতে পারে।
তবে এখানেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—এখনই কাউকে আমেরিকা ছাড়তে বলা হয়নি।
এটি একটি প্রস্তাবিত নিয়ম (proposed rule)। সাধারণ মানুষের মতামত জানানোর জন্য দুই মাসের public comment period রাখা হয়েছে। এরপর প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে নিয়মটি চূড়ান্ত করা হবে কি না।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে ভারতীয়দের উপর?
H-1B ব্যবস্থায় ভারতীয় পেশাজীবীদের উপস্থিতি অত্যন্ত বড়। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং, কনসালটিং এবং বিভিন্ন উচ্চদক্ষতার পেশায় বহু ভারতীয় এই ভিসার মাধ্যমে আমেরিকায় কাজ করেন।
Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, Deloitte, PwC, Ernst & Young-এর মতো কনসালটেন্সি সংস্থা এবং TCS, Infosys, HCLTech ও LTIMindtree-এর মতো ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলি H-1B-এর বড় স্পনসরদের মধ্যে রয়েছে। ফলে চাকরি চলে গেলে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার সময় কমে যাওয়ার প্রভাব ভারতীয় কর্মীদের উপরও পড়তে পারে।
শুধু H-1B নয়
প্রস্তাবিত পরিবর্তন শুধু H-1B-তেই সীমাবদ্ধ নয়। DHS-এর প্রস্তাব অনুযায়ী E-1, E-2, L-1, O-1, TN, H-1B1 এবং E-3-সহ আরও কয়েকটি অস্থায়ী কর্মভিসাও এর আওতায় আসতে পারে।
অর্থাৎ, বিষয়টি কেবল ভারতীয় IT কর্মীদের জন্য নয়; আমেরিকায় বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী কর্মভিসায় থাকা বিদেশি পেশাজীবীদের জন্যই এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হতে পারে।
তাহলে কি ভারতীয়দের ‘গলাধাক্কা দিয়ে’ বের করে দেওয়া হবে?
এমনটা বলা এখনই ঠিক হবে না।
প্রস্তাবটি H-1B ভিসাধারীদের গণহারে আমেরিকা থেকে বের করে দেওয়ার কোনও নির্দেশ নয়। বরং চাকরি হারানোর পর যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন কর্মসংস্থান বা অন্য বৈধ স্ট্যাটাসের ব্যবস্থা করার সুযোগ রয়েছে, সেটি বাতিল করার প্রস্তাব।
নিয়মটি চূড়ান্ত হলে অবশ্য চাকরি হারানো বিদেশি কর্মীদের পরিস্থিতি অনেক কঠিন হয়ে উঠতে পারে। নতুন নিয়োগকর্তার কাছে দ্রুত আবেদন করা এবং ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু করা তখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
কেন এই পরিবর্তন চাইছে আমেরিকা?
DHS-এর যুক্তি হল, কর্মসংস্থান শেষ হওয়ার পর বিদেশি কর্মীদের দীর্ঘ সময় আমেরিকায় থাকার সুযোগ দেওয়ার বর্তমান ব্যবস্থা বদলে দেওয়া হলে মার্কিন শ্রমবাজারে আমেরিকান কর্মীদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞ ও শিল্পমহলের একাংশের আশঙ্কা, এত কম সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা কঠিন হবে। বিশেষ করে বহু বছর ধরে আমেরিকায় বসবাসকারী কর্মীদের পরিবার, বাড়ি এবং সন্তানদের পড়াশোনার মতো বিষয় সামলানোও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
এখনই কী করবেন H-1B কর্মীরা?
এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, কারণ প্রস্তাবটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে আমেরিকায় H-1B-তে কর্মরত ভারতীয়দের ক্ষেত্রে চাকরি পরিবর্তন বা সম্ভাব্য layoff-এর পরিস্থিতিতে ইমিগ্রেশন আইনজীবীর সঙ্গে আগেভাগে পরিকল্পনা করে রাখা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সবচেয়ে জরুরি কথা: “৬০ দিনের নিয়ম আজ থেকেই বন্ধ” বা “সব H-1B ভারতীয়কে আমেরিকা ছাড়তে হবে”—এই দুই দাবিই এখন অতিরঞ্জিত। বর্তমানে বিষয়টি একটি প্রস্তাবিত পরিবর্তন এবং final rule হওয়ার আগে public comment ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে।
Keep reading
More in আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক
ইউরোপের সঙ্গে কোনও সংঘাতের প্রস্তুতি নেই, ইউক্রেন নিয়ে আলোচনার দরজাও খোলা: পুতিন
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউরোপের সঙ্গে কোনও ধরনের সামরিক সংঘাতের জন্য রাশিয়া প্রস্তুতি নিচ্ছে না। একইসঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের অব…
আন্তর্জাতিক
কে শন সাকাইডা? প্রাক্তন Moanalua High School wrestling coach-এর বিরুদ্ধে শিশু পর্নোগ্রাফি মামলায় অভিযোগ
হাওয়াইয়ের Moanalua High School-এর প্রাক্তন girls wrestling coach শন সাকাইডাকে শিশু পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেফতার করেছে FBI। ৪৪ বছর…
আন্তর্জাতিক
কে এই জেন স্মিথ? ‘Lake America’ লেখা AI ছবির বিতর্কে চাকরি গেল মিশিগানের CEO-র
মিশিগানের Family First Credit Union-এর CEO জেন স্মিথ একটি AI-এডিট করা পারিবারিক ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পর বিতর্কে জড়ান। ছবিতে পরিবা…
আন্তর্জাতিক
বীভৎস টাইফুন দুজুয়ানে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ৫০ হাজার, সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে ২০ লক্ষ বাসিন্দাকে! কত মৃত্যু? নিখোঁজ?
জাপানে তাণ্ডব চালানো টাইফুন দুজুয়ানের প্রভাবে পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। ২৩ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, মৃতের সং…
আন্তর্জাতিক
ইমরান সমর্থকদের মিছিলে গুলি, মন্ত্রীকে অপহরণ! ক্রমশ গৃহযুদ্ধের দিকে পাকিস্তান?
পাকিস্তানে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল PTI-র ২৭ সেপ্টেম্বরের ইসলামাবাদ মিছিল ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। খাইবার পাখতুনখোয়ায় প্রাদেশিক মন…
আন্তর্জাতিক
'আমরা জিতলে এটা ভেঙে ফেলব'! কেন এত রাগ ৯০ ফুটের হনুমানমূর্তির উপর? রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে...
আমেরিকার টেক্সাসের সুগার ল্যান্ডে ৯০ ফুটের হনুমানমূর্তি ঘিরে ফের রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রক্ষণশীল ইউটিউবার জেসি হিউজেস সোশ্যাল মিডিয়ায় ল…
