‘তৃণমূল কংগ্রেস’ রেখেই কমিশনে ৩ নাম জমা দিলেন মমতা, কী কী? শেষ পর্যন্ত কোন নাম পেল অনুমোদন
তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির তিনটি বিকল্প দলের নাম জমা দেয়। তিনটি নামেই কোনও না কোনওভাবে ‘তৃণমূল কংগ্রেস’-এর পরিচিতি রাখা হয়েছিল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও যুক্ত ছিল। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি অনুমোদন করে। উপনির্বাচনের জন্য মমতা-শিবিরকে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীকও দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা আপাতত অন্তর্বর্তী এবং দলের সাংগঠনিক বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
लेखक
Priya Jana
তৃণমূলের নাম নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তের পর নতুন প্রস্তাব
কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞার পরই বিকল্প নাম নিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির।
৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের আগে দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে দুই গোষ্ঠীর দাবি সামনে আসায় নির্বাচন কমিশন ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং সংরক্ষিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক আপাতত ব্যবহার না করার নির্দেশ দেয়। দুই পক্ষকেই বিকল্প নাম ও প্রতীকের পছন্দ জমা দিতে বলা হয়েছিল।
কমিশনে মমতা শিবিরের জমা দেওয়া তিন নাম কী?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির কমিশনের কাছে তিনটি বিকল্প নাম প্রস্তাব করে। সেগুলি হল—
All India Trinamool Mamata Congress
All India Mamata Trinamool Congress
Mamata Trinamool Congress
অর্থাৎ, তিনটি নামের ক্ষেত্রেই ‘Trinamool’ বা ‘Trinamool Congress’-এর পরিচিতি বজায় রাখার পাশাপাশি ‘Mamata’ নামটি রাখা হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত কোন নাম অনুমোদন পেল?
শুক্রবার নির্বাচন কমিশন মমতা শিবিরের জন্য ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ (Mamata All India Trinamool Congress) নামটি অনুমোদন করে। অর্থাৎ, মমতা শিবিরের জমা দেওয়া তিনটি বিকল্পের মধ্যে একটি নামই কার্যকর করা হয়েছে।
প্রতীকেও বদল
শুধু দলের নাম নয়, আপাতত বদলেছে নির্বাচনী প্রতীকও। কমিশন মমতা শিবিরকে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দিয়েছে।
এর আগে মমতা শিবিরের তরফে ফুটবল-সম্পর্কিত একটি প্রতীকের পাশাপাশি ক্রিকেট ব্যাটের মতো আরও একটি ক্রীড়া-সম্পর্কিত প্রতীক চাওয়া হয়েছিল। কমিশন শেষ পর্যন্ত ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক বরাদ্দ করে।
কেন বদলাতে হল তৃণমূলের নাম ও প্রতীক?
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধের জেরে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দুই পক্ষই নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেসের বৈধ প্রতিনিধি বলে দাবি করছে। বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য সময় প্রয়োজন। কিন্তু সামনে উপনির্বাচন থাকায় আপাতত দুই গোষ্ঠীকে আলাদা নাম ও প্রতীকে নির্বাচনে লড়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
দুই শিবিরের জন্য আলাদা পরিচয়
মমতা শিবিরকে দেওয়া হয়েছে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক।
অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে এই নাম ও প্রতীক বরাদ্দ চূড়ান্ত সাংগঠনিক রায় নয়। নির্বাচন কমিশনের মূল সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এটি উপনির্বাচনকে সামনে রেখে কার্যকর অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা।
সামনে কী?
এখন নজর ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের দিকে। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের দাবি ও নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেও নজর থাকবে।
বর্তমান ব্যবস্থায় মমতা শিবির ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে এবং নতুন প্রতীকে নির্বাচনী লড়াই করবে। তবে ভবিষ্যতে মূল ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীকের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, তা নির্ভর করবে কমিশনের চূড়ান্ত সাংগঠনিক নিষ্পত্তির উপর।
