CEC জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত, SIR নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক
নির্বাচন কমিশনের Special Intensive Revision (SIR) প্রক্রিয়া এবং কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে। কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ বা অপসারণের দাবি তুলেছে। অন্যদিকে বিজেপি ও এনডিএ-র নেতারা নির্বাচন কমিশনের পদ্ধতির পক্ষে সওয়াল করেছেন। কমিশন জানিয়েছে, SIR সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি তিন নির্বাচন কমিশনারের অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে।
লিখেছেন
Priya Jana
ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)-কে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ভোটার তালিকার Special Intensive Revision (SIR) এবং কমিশনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্যের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দল Chief Election Commissioner (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ বা অপসারণের দাবি জানাচ্ছে। পাল্টা বিজেপি ও বিভিন্ন বিজেপি-শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা নির্বাচন কমিশনের অবস্থানকে সমর্থন করেছেন।
কী নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক?
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকার SIR প্রক্রিয়া। The Indian Express-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের আগস্টের মধ্যে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি বা মতামত জানিয়েছিলেন।
এই প্রতিবেদনের পর বিরোধী দলগুলি কমিশনের নিরপেক্ষতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জোরদার করে।
নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য কী?
নির্বাচন কমিশন অবশ্য অভ্যন্তরীণ মতামতের পার্থক্যকে স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। কমিশনের দাবি, SIR সংক্রান্ত নির্দেশ ও সিদ্ধান্ত তিন নির্বাচন কমিশনারের অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে। কমিশন আরও জানিয়েছে, তার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলি নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
২৬ সেপ্টেম্বরের বিতর্কের পর কমিশন ECINET পোর্টাল পর্যালোচনার সিদ্ধান্তও নেয়। পাশাপাশি নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত Form 6-এ পরিবর্তন নিয়েও কমিশন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
বিরোধীদের আন্দোলন
কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলি ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করেছে। ২৫ সেপ্টেম্বর কংগ্রেস কর্মীদের বিক্ষোভ চলাকালে দিল্লি, চণ্ডীগড়, পাটনা-সহ বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়; কিছু এলাকায় জলকামানও ব্যবহার করা হয়েছিল।
বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয়েছে। কংগ্রেসের পাশাপাশি CPI(M), NCP (Sharadchandra Pawar), TMC, SP, DMK, AAP এবং Shiv Sena (UBT)-সহ একাধিক বিরোধী দল কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
কংগ্রেস জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য ইমপিচমেন্ট নোটিস আনার প্রস্তুতিও নিচ্ছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি অন্তত ২১টি বিরোধী দল ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বৈঠক করে পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা করেছে।
বিজেপির পাল্টা বক্তব্য
বিজেপি এবং বিজেপি-শাসিত কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা বিরোধীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা করেছেন।
ফড়নবিশ এবং অন্যান্য বিজেপি নেতারা বিরোধীদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে মানুষের আস্থা নষ্ট করার চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছেন। এসব বক্তব্য রাজনৈতিক দলগুলির নিজস্ব দাবি ও অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
SIR প্রক্রিয়ায় নতুন সিদ্ধান্ত
বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন দিল্লি ও মহারাষ্ট্রে চলমান SIR-এর বিভিন্ন সময়সীমা প্রায় এক মাস বাড়িয়েছে। পাশাপাশি নথি জমা ও শুনানির নিয়মেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এদিকে, ২৭ সেপ্টেম্বর সামাজিক মাধ্যমে জ্ঞানেশ কুমারের নামে একটি কথিত পদত্যাগপত্র ছড়িয়ে পড়ে। নির্বাচন কমিশন সেটিকে ভুয়ো বলে স্পষ্ট করেছে। ফলে CEC জ্ঞানেশ কুমার এখনও পদে বহাল রয়েছেন।
সামনে কী?
৩০ সেপ্টেম্বর বিরোধী দলগুলির বৈঠক এবং SIR নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পরবর্তী পর্যায় এখন নজরে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং কমিশনের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলির উত্তর দেওয়ার চাপও বাড়ছে।
তবে বিরোধীদের অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা—দুই পক্ষের বক্তব্যই আলাদা। SIR প্রক্রিয়া বা কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তদন্ত, নথি এবং আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হবে।
Keep reading
More in রাজনীতি
রাজনীতি
পারভেশ বর্মার ‘চড়-কাণ্ড’ নিয়ে দিল্লিতে রাজনৈতিক চাপানউতোর, পদক্ষেপের দাবি রাহুল-আপের
দিল্লির তিলক নগরে রাস্তা পরিদর্শনের সময় এক যুবককে চড় মারার অভিযোগ ঘিরে PWD মন্ত্রী পারভেশ সাহিব সিং বর্মাকে নিশানা করেছে কংগ্রেস ও আম আদমি…
রাজনীতি
‘জিরো টলারেন্স’ নীতি, সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ১০ বছর পূর্তিতে ‘মন কি বাত’-এ বার্তা মোদীর
২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ১০ বছর পূর্তির প্রাক্কালে ‘মন কি বাত’-এর ১৩৮তম পর্বে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ক…
রাজনীতি
UKSSSC নিয়োগ পরীক্ষার মামলায় ED দফতরে হাজির হরিশ রাওয়াত, চাওয়া হয়েছে একাধিক নথি
উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা হরিশ রাওয়াত ২০১৬ সালের একটি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সংক্রান্ত অর্থপাচার মামলায…
রাজনীতি
‘নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের সেবা করেছেন’: প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রী মোদির
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ এক্স-এ বার্তা…
রাজনীতি
Nandigram Bye Election: মিলন প্রধানকে দেওয়া স্বস্তি খারিজ, সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশে স্থগিতাদেশ! ভোটের আগে ফের জটিলতা
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ঘিরে আইনি জটিলতা আরও বাড়ল। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ ২০০৭ সালের এক…
রাজনীতি
Municipal Election: পুজোর ছুটির পরই হবে রাজ্যের ৭ পুরসভায় নির্বাচন, ভোট গণনা হতে পারে ডিসেম্বরের শুরুতেই
দুর্গাপুজোর ছুটি শেষ হওয়ার পরই পশ্চিমবঙ্গের সাতটি পুরসভায় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, ২৭ বা ২৮ নভেম্বর…
