প্রযুক্তি

ভারতে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনের সম্ভাবনা সীমিত, বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহার হতে পারে: বিশেষজ্ঞরা

ভারতে পরিবেশবান্ধব রেল ব্যবস্থার লক্ষ্যে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ব্যবহার সীমিত পরিসরে হতে পারে। উচ্চ খরচ, পরিকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ এবং বিদ্যুৎচালিত রেলের আধিপত্যের কারণে হাইড্রোজেন ট্রেন দেশের রেল ব্যবস্থায় একটি নির্দিষ্ট ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

Share
ভারতে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনের সম্ভাবনা সীমিত, বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহার হতে পারে: বিশেষজ্ঞরা

ভারতে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনের ভূমিকা সীমিত হতে পারে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

পরিবেশ দূষণ কমাতে বিশ্বজুড়ে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে। সেই তালিকায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম হাইড্রোজেন। ভারতীয় রেল ব্যবস্থাতেও হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে এই প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপক আকারে নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন মূলত জ্বালানি হিসেবে হাইড্রোজেন ব্যবহার করে। ফুয়েল সেল প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে এই ট্রেন চলতে পারে। এর অন্যতম সুবিধা হল, প্রচলিত ডিজেল ইঞ্জিনের তুলনায় কার্বন নিঃসরণ অনেক কম।

বিদ্যুৎচালিত রেলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা কঠিন

ভারত ইতিমধ্যেই রেলপথের ব্যাপক বৈদ্যুতিকীকরণের দিকে এগিয়েছে। দেশের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ রেল রুটে বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন ব্যবহারের ফলে হাইড্রোজেন প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে সেখানে বৈদ্যুতিক ট্রেন তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর ও সাশ্রয়ী। ফলে হাইড্রোজেন ট্রেনের ব্যবহার মূলত সেইসব রুটে হতে পারে যেখানে বিদ্যুতায়ন করা কঠিন বা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়।

খরচ ও পরিকাঠামো বড় চ্যালেঞ্জ

হাইড্রোজেন উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং সরবরাহের জন্য আলাদা পরিকাঠামো প্রয়োজন। এই প্রযুক্তির প্রাথমিক বিনিয়োগও অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতীয় রেলের মতো বিশাল নেটওয়ার্কে হাইড্রোজেন প্রযুক্তি প্রয়োগ করতে গেলে বড় ধরনের পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।

এছাড়া পরিবেশবান্ধব "গ্রিন হাইড্রোজেন" উৎপাদনের খরচ কমানোও একটি বড় বিষয়। নবায়নযোগ্য শক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত হাইড্রোজেনই ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তিকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে।

বিশেষ রুটে সম্ভাবনা বেশি

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি এলাকা, পর্যটন কেন্দ্র বা কম ব্যস্ত রেলপথে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনের ব্যবহার বেশি সম্ভাবনাময় হতে পারে। যেখানে ডিজেল ট্রেন এখনও ব্যবহার করা হয় এবং সম্পূর্ণ বিদ্যুতায়ন কঠিন, সেখানে এই প্রযুক্তি বিকল্প সমাধান দিতে পারে।

ভারতীয় রেল ইতিমধ্যেই হাইড্রোজেন প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নিয়েছে। তবে আগামী দিনে এটি দেশের রেল ব্যবস্থার প্রধান অংশ হবে নাকি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তির খরচ, দক্ষতা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর।

সবুজ পরিবহনের পথে ভারতের পদক্ষেপ

কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং জ্বালানি নির্ভরতা হ্রাস করার লক্ষ্য নিয়ে ভারত পরিবহন ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করছে। হাইড্রোজেন ট্রেন সেই উদ্যোগের একটি অংশ হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বাস্তব পরিস্থিতিতে এটি একটি "নিশ প্রযুক্তি" হিসেবেই বেশি কার্যকর হতে পারে।

Enjoyed this story? Share it.

Share