কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু হলে বাংলায় বাড়তে পারে শিল্প বিনিয়োগ, দাবি শিল্পমহলের
কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক শিল্প ও পরিকাঠামো প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর হলে রাজ্যে নতুন শিল্প বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাড়তে পারে বলে মনে করছে শিল্পমহল। বিশেষ করে উৎপাদন, লজিস্টিক, MSME ও কর্মসংস্থান খাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, নীতি বাস্তবায়ন এবং দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদন মিললে আগামী কয়েক বছরে বাংলায় বড় বিনিয়োগ আসতে পারে।
লিখেছেন
Priya Jana
পশ্চিমবঙ্গে শিল্প বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে ফের আশাবাদী শিল্পমহল। কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক শিল্প, পরিকাঠামো ও উৎপাদনমুখী প্রকল্প রাজ্যে কার্যকরভাবে চালু হলে আগামী দিনে বাংলায় নতুন শিল্প বিনিয়োগ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও শিল্প বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রের তরফে শিল্প করিডর, মাল্টি-মোডাল লজিস্টিক পার্ক, রেল ও বন্দর উন্নয়ন, MSME সহায়তা প্রকল্প এবং উৎপাদন-সংক্রান্ত প্রণোদনা কার্যকর হলে পশ্চিমবঙ্গ পূর্ব ভারতের অন্যতম বড় শিল্পকেন্দ্র হিসেবে উঠে আসতে পারে।
রাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থান এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলার গুরুত্ব দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। এর সঙ্গে যদি আধুনিক পরিকাঠামো, দ্রুত অনুমোদন ব্যবস্থা এবং শিল্পবান্ধব নীতি যুক্ত হয়, তাহলে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে বলেই মনে করছে শিল্পমহল।
বিশেষ করে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, টেক্সটাইল, চামড়া শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তাঘাট, রেল যোগাযোগ এবং লজিস্টিক ব্যবস্থার উন্নতি হলে শিল্প স্থাপনের খরচ কমবে এবং ব্যবসা পরিচালনা আরও সহজ হবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়তে পারে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য উৎপাদন ও প্রযুক্তি খাতে নতুন চাকরির সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি MSME খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শুধুমাত্র প্রকল্প ঘোষণা করলেই হবে না, বাস্তবায়নের গতি এবং কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জমি, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত সমাধান করতে পারলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়বে।
শিল্পমহলের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের শিল্প সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও স্থিতিশীল নীতির প্রয়োজন। কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে কাজ করলে আগামী কয়েক বছরে বাংলায় শিল্প বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত খুলতে পারে বলেই আশা সংশ্লিষ্ট মহলের।
Keep reading
More in ব্যবসা-বাণিজ্যের

ব্যবসা-বাণিজ্যের
সোনার দামে বড় পতন, ৩১ অক্টোবর ২৪ ক্যারেটে গ্রামপ্রতি কমল ৩৩৮ টাকা
৩১ অক্টোবর ২০২৬-এ দেশের বাজারে সোনার দামে উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। ২৪ ক্যারেট সোনার দাম গ্রামপ্রতি ৩৩৮ টাকা, ২২ ক্যারেটের দাম ৩১০ টাকা এবং ১৮…

ব্যবসা-বাণিজ্যের
পিএম কিষান যোজনার ২৪তম কিস্তি কবে? কৃষকদের অ্যাকাউন্টে ২,০০০ টাকা পাঠানোর সম্ভাব্য তারিখ
প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনার ২৪তম কিস্তি নিয়ে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ৩০ অক্টোবর ২০২৬-এ কিস্তি দেওয়…

ব্যবসা-বাণিজ্যের
সবুজ বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়তেই চাপে উত্তর ভারতের পাওয়ার গ্রিড, নিরাপদ সীমা ছাড়াচ্ছে ট্রান্সফরমারের লোড
রাজস্থানে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন দ্রুত বাড়ায় উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যু…

ব্যবসা-বাণিজ্যের
উৎপাদন খরচের চাপে ফের দাম বাড়াবে হিন্দুস্তান ইউনিলিভার, জানালেন সিইও প্রিয়া নায়ার
কাঁচামাল ও অন্যান্য উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দাম ধাপে ধাপে বাড়ানোর পরিকল্পনা চালিয়ে যাবে হিন্দুস্তান ইউনিলিভার লিমিটেড (HUL)। সংস্…

ব্যবসা-বাণিজ্যের
৫০ বছরের অভিজ্ঞ কর্মী থেকে ২৩ বছরের ইঞ্জিনিয়ার—মাইক্রোসফটের স্বেচ্ছাবসর প্রস্তাবে দ্বিধায় কর্মীরা
মাইক্রোসফট বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০,০০০ কর্মীকে আর্থিক সহায়তাসহ স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব বিবেচনা করার সুযোগ দিয়েছে। ভারতে সংস্থাটির কর…
ব্যবসা-বাণিজ্যের
টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদ নিয়ে নোয়েল টাটার আপত্তি, চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক
টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরনের আরও পাঁচ বছরের মেয়াদে পুনর্নিয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল ট…
