জাতীয়

'রাজনীতি হবে, ক্ষমতার অপব্যবহার হবে', বিশ্ববিদ্যালয়-বদলি বিলের বিরুদ্ধে আইনি পথে নওশাদ!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাস হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলির সংস্থান রাখা সংশোধনী বিল। বিলটি নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়েছে বিরোধীরা। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজনৈতিক কারণে শিক্ষক-কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বিলের বিরোধিতায় আইনি পথে যাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

Share
'রাজনীতি হবে, ক্ষমতার অপব্যবহার হবে', বিশ্ববিদ্যালয়-বদলি বিলের বিরুদ্ধে আইনি পথে নওশাদ!

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি বিল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে রাজ্য সরকার। এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের বদলির ক্ষমতা দেওয়ার লক্ষ্যে আনা সংশোধনী বিল বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর বিধানসভায় পাশ হয়েছে। ১৭১ জন বিধায়কের সমর্থনে বিলটি পাশ হয়, বিরোধিতা করেন ১৫ জন।

এই বিল ঘিরেই তীব্র আপত্তি তুলেছেন বিরোধী বিধায়করা। তাঁদের অন্যতম আশঙ্কা, প্রশাসনিক প্রয়োজনের কথা বলা হলেও ভবিষ্যতে এই ক্ষমতা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর দমনে ব্যবহার করা হতে পারে। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিও বিধানসভায় বিলটির বিরুদ্ধে সরব হন।

বিলে ঠিক কী রয়েছে?

‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’-এ ১৪এ ধারায় নতুন সংস্থান যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে রাজ্যের এক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের বদলি করার ব্যবস্থা তৈরি হবে।

বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মীর সার্ভিস সিনিয়রিটি বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বদলির সঙ্গে যুক্ত নির্দিষ্ট খরচ ও ট্রান্সফার গ্রান্ট দেওয়ার ব্যবস্থাও বিলে রাখা হয়েছে।

সরকারের যুক্তি কী?

রাজ্য সরকারের বক্তব্য, রাজ্যের নতুন ও তুলনামূলক দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অভিজ্ঞ শিক্ষক ও কর্মীদের পাঠানো গেলে সেখানে শিক্ষার মান এবং প্রশাসনিক পরিকাঠামো শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

বিশেষ করে ঝাড়গ্রাম, কোচবিহারের মতো নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের কাজে লাগিয়ে পঠনপাঠন ও গবেষণার পরিবেশ উন্নত করার যুক্তি দিয়েছে সরকার।

অর্থাৎ সরকারের দাবি, এই বদলি ব্যবস্থা রাজনৈতিক নয়, প্রশাসনিক ও শিক্ষাগত প্রয়োজনেই ব্যবহার করা হবে।

কিন্তু বিরোধীদের ভয় কোথায়?

বিরোধীদের প্রশ্ন, বদলির সিদ্ধান্ত যদি মূলত সরকারের হাতে থাকে, তাহলে একজন শিক্ষক বা কর্মী সরকারের কোনও সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেই কি তাঁকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হতে পারে?

বিধানসভায় এই ধরনের সম্ভাবনা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন নওশাদ সিদ্দিকি-সহ বিরোধী বিধায়করা। তাঁদের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়গুলি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন, পরিষেবা কাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর ক্ষেত্রে কর্মীর অধিকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন—দুই বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (JUTA)-ও বিলটির বিরোধিতা করেছে। তাদের অভিযোগ, এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন এবং শিক্ষক-কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (CUTA)-ও বিল আনার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে আরও আলোচনা করার দাবি জানিয়েছিল।

'রাজনীতি হবে, ক্ষমতার অপব্যবহার হবে'—নওশাদের আশঙ্কা

বিল নিয়ে আলোচনার সময় নওশাদ সিদ্দিকি এবং অন্যান্য বিরোধী বিধায়করা মূলত ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কাই সামনে আনেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রশাসনিক বদলির নামে যদি রাজনৈতিক মতাদর্শ বা সরকারের বিরোধিতাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়, তাহলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাধীন মতপ্রকাশের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এই কারণেই বিলটির সাংবিধানিক বৈধতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের সঙ্গে এর সামঞ্জস্য নিয়ে আইনি প্রশ্ন তোলার পথ খোলা রাখছে বিরোধীরা।

তবে নওশাদ ইতিমধ্যেই আদালতে মামলা দায়ের করেছেন—এমন নিশ্চিত তথ্য এই মুহূর্তে প্রকাশ্য নির্ভরযোগ্য সূত্রে স্পষ্ট নয়। তাই আপাতত এটিকে বিলের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি বা উদ্যোগ হিসেবেই দেখা নিরাপদ।

বিধানসভায় পাশ, এবার সামনে কী?

বিলটি বিধানসভায় পাশ হয়ে যাওয়ায় বিতর্ক এখানেই থামছে না। শিক্ষক সংগঠনগুলির আপত্তি এবং বিরোধীদের আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনায় বিষয়টি আরও বড় রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কে পরিণত হতে পারে।

একদিকে সরকারের দাবি—নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে দক্ষ জনবল পৌঁছে দিয়ে উচ্চশিক্ষার মান বাড়ানো। অন্যদিকে বিরোধীদের প্রশ্ন—শিক্ষার উন্নতির নামে প্রশাসনিক ক্ষমতা কি অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত হচ্ছে?

এখন নজর থাকবে বিলটির পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জের দিকে।

Enjoyed this story? Share it.

Share

Keep reading

More in জাতীয়

সব দেখুন
Tatkal Ticket Booking: পুজোয় তৎকাল টিকিট কাটবেন? RailOne না IRCTC Rail Connect—কোন অ্যাপে বুকিং সহজ? কনফার্ম টিকিট পেতে জেনে রাখুন
New

জাতীয়

Tatkal Ticket Booking: পুজোয় তৎকাল টিকিট কাটবেন? RailOne না IRCTC Rail Connect—কোন অ্যাপে বুকিং সহজ? কনফার্ম টিকিট পেতে জেনে রাখুন

পুজোর মরশুমে ট্রেনের তৎকাল টিকিটের চাহিদা বাড়ে। এখন RailOne এবং IRCTC Rail Connect—দুই মাধ্যমেই রিজার্ভড টিকিট বুক করার সুবিধা রয়েছে। তবে ত…

3 min read
Nabanna West Bengal Government: সরকারি কর্মী-পেনশনভোগীদের জন্য বড় ঘোষণা, পুজোর আগেই মিলবে বেতন-পেনশন! কবে ঢুকবে টাকা?
New

জাতীয়

Nabanna West Bengal Government: সরকারি কর্মী-পেনশনভোগীদের জন্য বড় ঘোষণা, পুজোর আগেই মিলবে বেতন-পেনশন! কবে ঢুকবে টাকা?

দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য বড় ঘোষণা নবান্নের। অক্টোবর মাসের বেতন, পেনশন ও ফ্যামিলি পেনশন ১৫ অক্টোবর ২০২৬ দেওয়…

2 min read
EXCLUSIVE: ‘পঞ্চায়েত ভোটে রিগিং হয়েছিল, সিওর ছিলাম!’ বিস্ফোরক প্রাক্তন আমলা রাজীবা সিনহা
New

জাতীয়

EXCLUSIVE: ‘পঞ্চায়েত ভোটে রিগিং হয়েছিল, সিওর ছিলাম!’ বিস্ফোরক প্রাক্তন আমলা রাজীবা সিনহা

২০২৩ সালের পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন তৎকালীন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীবা সিনহা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন,…

3 min read
SIR Process: ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না হলে তা বেআইনি’, SIR বিতর্কে বিস্ফোরক প্রাক্তন CEC
New

জাতীয়

SIR Process: ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না হলে তা বেআইনি’, SIR বিতর্কে বিস্ফোরক প্রাক্তন CEC

ভোটার তালিকার Special Intensive Revision বা SIR নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের রিপোর্ট ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রাক…

2 min read
Cyclone Arnab: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে বড় বিপদের মুখে এই রাজ্য, কোন কোন জেলার জন্য জারি ‘রেড অ্যালার্ট’?
New

জাতীয়

Cyclone Arnab: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে বড় বিপদের মুখে এই রাজ্য, কোন কোন জেলার জন্য জারি ‘রেড অ্যালার্ট’?

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ের মতো শক্তিশালী না হলেও ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করেছে। ২৩ সেপ্টেম্বরের…

2 min read
'২০৪৭-এর মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশ করাই লক্ষ্য', WION Tourism Summit-এ বললেন গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত
New

জাতীয়

'২০৪৭-এর মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশ করাই লক্ষ্য', WION Tourism Summit-এ বললেন গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত

WION Iconic Tourism Summit 2026-এ কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটনমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশে পরিণত কর…

2 min read