‘দেশের ভবিষ্যৎ মানুষই ঠিক করবেন’, জন্তর মন্তর বিক্ষোভের আগে বললেন AISA-র নেত্রী নেহা বোরাই
জন্তর মন্তরে ২ অক্টোবরের প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আগে All India Students' Association (AISA)-এর জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাই নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম, ভোটার তালিকার Special Intensive Revision (SIR) এবং নির্বাচনী জবাবদিহিতা নিয়ে সংগঠনের অবস্থান তুলে ধরেছেন। দিল্লি পুলিশ এই বিক্ষোভের জন্য কোনও সংগঠনকে অনুমতি দেয়নি এবং কেন্দ্রীয় দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
লিখেছেন
Priya Jana
জন্তর মন্তর বিক্ষোভের আগে কী বললেন নেহা বোরাই?
২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীতে দিল্লির জন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও নাগরিক পরিসরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক All India Students' Association (AISA)-এর জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাই জানিয়েছেন, এই কর্মসূচিকে তিনি শুধুমাত্র দিল্লিকেন্দ্রিক একটি প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা এবং ভোটারদের অধিকার নিয়ে প্রশ্নটি আরও বিস্তৃত মানুষের কাছে পৌঁছনোর বিষয়।
Hindustan Times-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বোরাই বলেন, “People will decide the country’s fate”—অর্থাৎ দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন দেশের মানুষ। তাঁর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ছিল নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহিতা নিয়ে AISA-সহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির দাবি।
SIR এবং নির্বাচন কমিশন নিয়ে আপত্তি
বিক্ষোভের অন্যতম বিষয় হল Special Intensive Revision বা SIR। আয়োজকদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়ায় ভোটারদের নাম বাদ পড়া এবং ভোটাধিকার নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। সেই সঙ্গে Chief Election Commissioner Gyanesh Kumar-এর পদত্যাগ বা অপসারণের দাবিও কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
তবে এগুলি মূলত বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ও দাবি। নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী এবং SIR নিয়ে কমিশনের নিজস্ব অবস্থান রয়েছে। ফলে বিক্ষোভকারীদের বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে নয়, আয়োজকদের দাবি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
‘শুধু একজন ব্যক্তিকে ঘিরে প্রতিবাদ নয়’
নেহা বোরাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, শুক্রবারের কর্মসূচির মূল প্রশ্ন শুধু CEC Gyanesh Kumar-এর পদে থাকা বা না-থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর কথায়, এর সঙ্গে নির্বাচনী জবাবদিহিতা, প্রতিষ্ঠানগুলির দায়িত্ব এবং ভোটারদের অধিকার-এর বৃহত্তর প্রশ্ন যুক্ত রয়েছে।
AISA-র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে মানুষের আস্থা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির কাজকর্মের ক্ষেত্রে আরও জবাবদিহিতা প্রয়োজন।
বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ
এদিকে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, জন্তর মন্তরে এই বিক্ষোভের জন্য কোনও সংগঠনকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুলিশ আশঙ্কা করছে, অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ সেখানে জমায়েত হতে পারেন। সেই কারণে জন্তর মন্তর এবং লুটিয়েন্স দিল্লির বিভিন্ন অংশে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
জন্তর মন্তরের প্রবেশপথগুলিতে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সম্ভাব্য জমায়েত সামলাতে অতিরিক্ত বাহিনীর ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় দিল্লিতে ১৬৩ ধারা
বিক্ষোভের আগে New Delhi district-এ BNSS-এর ১৬৩ ধারা কার্যকর করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগাম লিখিত অনুমতি ছাড়া পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, বিক্ষোভ, পিকেটিং বা ধর্নার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অনুমতি ছাড়া স্লোগান বা বক্তৃতার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে।
একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় দিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ডাইভারশন করা হচ্ছে। Connaught Place, Patel Chowk, GPO, Tolstoy Marg, Jantar Mantar Road এবং Parliament Street-এর মতো এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে।
বিক্ষোভের সঙ্গে কারা যুক্ত?
২ অক্টোবরের কর্মসূচির সঙ্গে AISA-র পাশাপাশি আইনজীবী Prashant Bhushan এবং RJD সাংসদ Manoj Jha-র নামও আয়োজকদের পক্ষ থেকে সামনে এসেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর আয়োজকদের পক্ষ থেকে মানুষকে জন্তর মন্তরের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
এদিকে Indian Youth Congress-ও জন্তর মন্তরে পৃথক কর্মসূচির অনুমতি চেয়েছিল বলে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে। সেই অনুমতিও দেওয়া হয়নি।
বোরাইয়ের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট
নেহা বোরাই সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র আন্দোলন এবং নির্বাচনী ইস্যুতে সক্রিয়ভাবে সামনে এসেছেন। Indian Express-এর একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জন্তর মন্তর আন্দোলন, AISA-র ভূমিকা এবং নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন।
২ অক্টোবরের কর্মসূচিকে ঘিরে তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হল নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে জনসাধারণের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের মূল উদ্বেগ হল অনুমতি ছাড়া সম্ভাব্য জমায়েত এবং কেন্দ্রীয় দিল্লিতে আইনশৃঙ্খলা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ।
ফলে গান্ধী জয়ন্তীর দিনে জন্তর মন্তরকে ঘিরে বিক্ষোভকারীদের রাজনৈতিক ও নাগরিক দাবি এবং প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা—দুই দিকই এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
Keep reading
More in জাতীয়
জাতীয়
‘You saved everyone’: Smit Machchhar-এর সাহসে মুগ্ধ PM Modi, বললেন—‘ভারতীয় পাইলটদের সম্মানও রক্ষা করেছেন’
ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানে মাঝআকাশে ভয়াবহ হামলার পর পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে ফোন করে তাঁর সাহস, উপস্থিত বুদ্ধি ও মানসিক দৃঢ়তার প্রশংস…
জাতীয়
‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ প্যানেলের প্রস্তাব খারিজ, CJI সূর্য কান্ত ও অন্যান্য বিচারপতির সঙ্গে হবে না বৈঠক
‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ সংক্রান্ত বিল পরীক্ষা করা যৌথ সংসদীয় কমিটির সঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বর্তমান বি…
জাতীয়
মুম্বইয়ে অভিজিৎ দিপকেকে আটক করার খবর অস্বীকার CJP-র, Gyanesh Kumar-কে নিশানা
মুম্বইয়ে প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আগে Cockroach Janta Party (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেকে পুলিশ আটক করেছে—এমন খবর অস্বীকার করেছে দলটি। CJP-র…
জাতীয়
জন্তর মন্তর বিক্ষোভে অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ, বাড়ানো হল নিরাপত্তা
জন্তর মন্তরে ২ অক্টোবর প্রস্তাবিত বিক্ষোভের জন্য কোনও সংগঠনকেই অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। Special Intensive Revision (SIR)…
জাতীয়
দিল্লিতে MCD-র পার্ক বুকিংয়ের নিয়ম বদল, ৫ বছরের ইভেন্ট ইতিহাস থাকলে মিলবে অনুমতি
দিল্লির মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (MCD) পার্কে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের বুকিংয়ের নিয়মে পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়মে কোনও ornamental park-এ অন্…
জাতীয়
জন্তর মন্তর বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে নিষেধাজ্ঞা, কেন্দ্রীয় এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ
জন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে ঘিরে ২ অক্টোবর দিল্লির নিউ দিল্লি জেলায় BNSS-এর ১৬৩ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। পাঁচ বা তার বেশি ম…
