আন্তর্জাতিক

G20 বৈঠকে রাশিয়াকে ফেরালেন ট্রাম্প, মস্কোর উপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ ইউরোপ

ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে G20-তে রাশিয়ার প্রত্যাবর্তন ঘিরে তীব্র কূটনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানভকে G20 অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক গভর্নরদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর এটি ছিল সিলুয়ানভের প্রথম সরাসরি উপস্থিতি। ইউরোপের একাধিক দেশ এই পদক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

Share
G20 বৈঠকে রাশিয়াকে ফেরালেন ট্রাম্প, মস্কোর উপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ ইউরোপ

G20-তে রাশিয়ার প্রত্যাবর্তন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ইউরোপে অস্বস্তি

ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের আমন্ত্রণে G20-এর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক গভর্নরদের বৈঠকে যোগ দিল রাশিয়া। নর্থ ক্যারোলিনার অ্যাশভিলে আয়োজিত বৈঠকে রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানভের উপস্থিতি ঘিরে ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এই প্রথম সিলুয়ানভ সরাসরি G20-এর কোনও বৈঠকে উপস্থিত হলেন। রাশিয়া অবশ্য G20-এর সদস্যপদ হারায়নি। ফলে মার্কিন প্রশাসনের যুক্তি, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক আলোচনার এই মঞ্চে রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা প্রয়োজন।

রাশিয়াকে নিয়ে জার্মানির কড়া অবস্থান

রাশিয়ার উপস্থিতি নিয়ে সবচেয়ে সরব হয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। জার্মানির অর্থমন্ত্রী লার্স ক্লিংবাইল স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালীন মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার কোনও প্রশ্নই উঠতে পারে না।

ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা এমনকি G20-এর প্রচলিত পারিবারিক ছবিতেও রুশ অর্থমন্ত্রীকে রাখার বিরোধিতা করেন। শেষ পর্যন্ত যে ছবি তোলা হয়, সেখানে সিলুয়ানভ উপস্থিত ছিলেন না।

পোল্যান্ডও রাশিয়ার অংশগ্রহণে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। পোল্যান্ডের অর্থমন্ত্রী আন্দ্রেজ ডোমানস্কি জানান, রাশিয়াকে নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন এবং মস্কোর প্রতি তাঁদের আস্থা নেই।

কেন রাশিয়াকে ফেরাচ্ছে আমেরিকা?

ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, যুদ্ধ বা রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও G20-এর মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলোচনার দরজা বন্ধ রাখা উচিত নয়। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক আধিকারিক এরিন ব্রাউন জানিয়েছেন, রাশিয়া G20-এর সদস্য এবং সংঘাতের সময়েও সংলাপ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও রুশ অর্থমন্ত্রী সিলুয়ানভের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। সেখানে ইউক্রেন যুদ্ধ, ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা এবং G20 কাঠামোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সূত্রের খবর, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়ার জন্য কোনও অর্থনৈতিক স্বস্তি বা নতুন চুক্তির সম্ভাবনা নেই।

ডিসেম্বরের G20 সম্মেলনে পুতিন?

রাশিয়াকে G20-তে ফেরানোর এই পদক্ষেপকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে ট্রাম্প প্রশাসনের আগের অবস্থান। ২০২৬ সালের এপ্রিলেই মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছিল, রাশিয়া G20-এর সদস্য হওয়ায় তাকে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এবং ডিসেম্বরের নেতৃবৃন্দের সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হবে। ট্রাম্প নিজেও জানিয়েছিলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন G20-তে উপস্থিত হলে তা আলোচনার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

ফলে ডিসেম্বর মাসে মিয়ামিতে আয়োজিত G20 নেতৃবৃন্দের সম্মেলনে পুতিনের উপস্থিতির সম্ভাবনাও আন্তর্জাতিক মহলের নজরে রয়েছে। তবে তাঁর উপস্থিতি এখনও নিশ্চিত নয়। রাশিয়া আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেও পুতিন নিজে সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি।

ইউরোপ-আমেরিকা সম্পর্কে নতুন চাপ

রাশিয়াকে G20-র আলোচনায় ফেরানো ইউক্রেন ইস্যুতে আমেরিকা ও ইউরোপের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য আরও স্পষ্ট করে তুলছে। ইউরোপীয় দেশগুলি এখনও মস্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেনকে সমর্থনের নীতিতে জোর দিচ্ছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা খুঁজছে।

এই পরিস্থিতিতে G20-এর বৈঠক শুধু অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণের মঞ্চে সীমাবদ্ধ থাকছে না। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মার্কিন-রুশ সম্পর্ক এবং পশ্চিমী দেশগুলির মধ্যে কৌশলগত মতপার্থক্যও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

রাশিয়ার প্রত্যাবর্তন তাই আন্তর্জাতিক মহলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে—মস্কোকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখার নীতি থেকে অন্তত আংশিকভাবে সরে এসে আলোচনার পথে হাঁটতে চাইছে ওয়াশিংটন। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় এই কূটনৈতিক পরিবর্তন ইউরোপের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

Enjoyed this story? Share it.

Share