‘জিনিসপত্র-সহ দেহ কীভাবে দাহ করা হল?’: যুবরাজ মাঞ্চন্দা খুনের তদন্তে গুরুগ্রাম পুলিশকে ভর্ৎসনা আদালতের
যুবরাজ সিং মাঞ্চন্দা খুনের তদন্তে গুরুগ্রাম পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলল দিল্লির একটি আদালত। দেহের সঙ্গে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র কীভাবে দাহ করা হল, কেন গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি এবং কেন অজ্ঞাতপরিচয় দেহের তথ্য সময়মতো ZIPNET-এ আপলোড করা হয়নি—তা নিয়ে পুলিশকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হয়েছে।
লিখেছেন
Priya Jana
নয়াদিল্লি: যুবরাজ সিং মাঞ্চন্দা খুনের তদন্তে গুরুগ্রাম পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ফের কড়া প্রশ্ন তুলল দিল্লির আদালত। অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে উদ্ধার হওয়া যুবরাজের দেহ তাঁর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র-সহ কীভাবে দাহ করা হল, সেই প্রশ্ন তুলে পুলিশের তদন্তপ্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট ফার্স্ট ক্লাস রাহুল জৈন।
শনিবারের শুনানিতে আদালত জানতে চায়, অজ্ঞাতপরিচয় দেহ উদ্ধারের পর ইনকোয়েস্ট বা মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে আইনি তদন্তের জন্য কেন সংশ্লিষ্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হয়নি। একই সঙ্গে দেহের সঙ্গে থাকা সামগ্রী সংরক্ষণ না করার বিষয়টিও আদালতের নজরে আসে।
‘দেহের সঙ্গে জিনিসপত্র কীভাবে দাহ করা হল?’
যুবরাজের পরিবারের পক্ষের আইনজীবী অমিত প্রসাদ আদালতকে জানান, দেহ দাহের স্থান থেকে একটি পোড়া ঘড়ি ও কড়া উদ্ধার করা হয়েছিল। এরপরই বিচারক প্রশ্ন করেন, “দেহের সঙ্গে জিনিসপত্র কীভাবে দাহ করা হল? আইন কীভাবে অনুসরণ করা হল না?”
আদালত আরও জানতে চায়, অজ্ঞাতপরিচয় দেহের তথ্য কেন ZIPNET-এ সময়মতো আপলোড করা হয়নি। ZIPNET হল দিল্লি, হরিয়ানা-সহ একাধিক রাজ্যের পুলিশের মধ্যে নিখোঁজ ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতপরিচয় দেহের তথ্য মিলিয়ে দেখার জন্য ব্যবহৃত একটি আন্তঃরাজ্য পুলিশ নেটওয়ার্ক।
পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়েও প্রশ্ন
মামলার তদন্তে আদালত দুটি পোস্টমর্টেম রিপোর্টের মধ্যে অসঙ্গতির বিষয়টিও তুলে ধরে। একটি রিপোর্টে গুলির আঘাতের উল্লেখ রয়েছে, অন্যটিতে মৃত্যুর কারণ হিসেবে জলে ডুবে শ্বাসরোধ (asphyxiation due to antemortem drowning)-এর কথা বলা হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। পোস্টমর্টেমের ভিডিও রেকর্ডিং না থাকা এবং ভিসেরা সংরক্ষণ না করার বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে।
বিচারক মন্তব্য করেন, এই ধরনের মৌলিক প্রক্রিয়া কীভাবে বাদ পড়ল, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা পুলিশের কাছে থাকা উচিত। আদালতে উপস্থিত বাদশাহপুর থানার পুলিশ আধিকারিকের জবাব নিয়েও বিচারক অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
কীভাবে সামনে এল যুবরাজের দেহ?
৩১ বছর বয়সি দিল্লির রিয়েল এস্টেট পেশাদার যুবরাজ সিং মাঞ্চন্দাকে ৬ সেপ্টেম্বর খুন করা হয়েছে বলে পুলিশের অভিযোগ। দিল্লি পুলিশের দাবি, তাঁর প্রাক্তন সহকর্মী অনন্যা ভাটস এবং তাঁর সঙ্গী সন্যম সচদেবা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত।
পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, গুরুগ্রামে একটি গাড়ির ভিতরে যুবরাজকে গুলি করা হয়। এরপর অভিযুক্তরা প্রায় দু’দিন তাঁর দেহ গাড়িতে রাখে এবং ৮ সেপ্টেম্বর বাদশাহপুরের একটি নর্দমায় ফেলে দেয় বলে তদন্তকারীদের দাবি। ১০ সেপ্টেম্বর গুরুগ্রাম পুলিশ সেখান থেকে একটি অজ্ঞাতপরিচয় দেহ উদ্ধার করে।
কিন্তু সেই দেহটি যুবরাজের বলে শনাক্ত হওয়ার আগেই ১৪ সেপ্টেম্বর তা দাহ করা হয়। তাঁর পরিবারের আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, দেহের পরিচয় নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং সামগ্রী যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি।
ZIPNET নিয়ে বিতর্ক
মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল ZIPNET-এ যুবরাজের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য এবং উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় দেহের তথ্যের মধ্যে সমন্বয় কেন সময়মতো হয়নি।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লি পুলিশ ১২ সেপ্টেম্বর ZIPNET-এ যুবরাজের ছবি ও তথ্য আপলোড করেছিল। কিন্তু গুরুগ্রাম পুলিশ ১০ সেপ্টেম্বর একটি অজ্ঞাতপরিচয় দেহ উদ্ধার করার পরও ১৪ সেপ্টেম্বর সেটি দাহ করা হয়। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর দেহের তথ্য ZIPNET-এ আপলোড করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে হরিয়ানা পুলিশ পরিবারের অভিযোগে ওঠা প্রক্রিয়াগত গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এক পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল এবং ZIPNET-কে অজ্ঞাতপরিচয় দেহ শনাক্ত করার একমাত্র বা প্রধান সর্বভারতীয় ডেটাবেস হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।
আদালতে তদন্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ
এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বরের শুনানিতেও আদালত গুরুগ্রাম পুলিশের তদন্তকে “botched up” বলে মন্তব্য করেছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, দেহ ইতিমধ্যেই দাহ হয়ে যাওয়ার পর তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুবরাজের বোন হরসিমরান আদালতের কাছে দেহ উদ্ধারের নথি, পোস্টমর্টেম সংক্রান্ত রেকর্ড, DNA ও জৈবিক নমুনা, ফরেনসিক রিপোর্ট, ছবি-ভিডিও, দেহের সঙ্গে পাওয়া সামগ্রীর বিবরণ এবং ZIPNET সংক্রান্ত রেকর্ড সংরক্ষণ ও আদালতে পেশ করার আবেদন করেছেন। আদালত আবেদনটির উপর আদেশ সংরক্ষণ করেছে এবং পরিবারের উদ্বেগগুলি বিবেচনা করার কথা জানিয়েছে।
মামলায় অভিযুক্ত অনন্যা ভাটস ও সন্যম সচদেবকে ১৬ সেপ্টেম্বর উত্তরাখণ্ডের কৈচি ধাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
Keep reading
More in অপরাধ
অপরাধ
মুম্বইয়ে বড় খাদ্য জালিয়াতি: বদলানো হচ্ছিল Lay's, Kurkure, Maggi-র মেয়াদ
মুম্বইয়ের কাছে নবি মুম্বইয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্যের লেবেল ও expiry date বদলে বাজারজাত করার অভিযোগে বড়সড় চক্রের হদিশ মিলেছে। মহারাষ্ট্রের…
অপরাধ
গুজরাত থেকে মুম্বইয়ে ৩০ লক্ষ টাকার মাদক পাচার, গ্রেফতার প্রাক্তন কেবিন ক্রু
গুজরাত থেকে মুম্বইয়ে মাদক পাচারের অভিযোগে প্রাক্তন কেবিন ক্রু মানসি সায়েদ এবং তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ভদোদ…
অপরাধ
বিহারে অফিসার খুন: চালককে টয়লেট বিরতি না দেওয়ার পর হত্যার অভিযোগ, বিধায়কের বিরুদ্ধে স্ত্রীর বিস্ফোরক দাবি
বিহারে এক সরকারি আধিকারিক হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মৃত আধিকারিকের স্ত্রী অভিযোগ করেছেন, গাড়ির চালককে টয়লেট ব্যবহারের জ…
অপরাধ
বিহারের সিওয়ানে ছাত্র বিক্ষোভে AK-47 চালানো পুলিশকর্মী সাসপেন্ড, তদন্ত শুরু
বিহারের সিওয়ানে ছাত্র বিক্ষোভের সময় AK-47 থেকে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠা এক পুলিশকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়…
-1785143483008_v.jpg&w=3840&q=75)
অপরাধ
বারাবাঁকিতে বড় সাফল্য পুলিশের, দাগী অপরাধীসহ ৯ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার; উদ্ধার চোরাই মালপত্র
উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকি জেলায় পুলিশের বড় সাফল্য। অভিযান চালিয়ে একজন দাগী অপরাধীসহ মোট নয়জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের…
অপরাধ
রাম মন্দির অনুদান চুরির রহস্য ফাঁস, ওয়াশরুমে মিলল ৪০ হাজার টাকা নগদ
রাম মন্দিরের অনুদানের অর্থ চুরির অভিযোগের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। একটি ওয়াশরুম থেকে উদ্ধার হওয়া ৪০ হাজার টাকা নগদ অর্থই তদন্তকার…
