CJP on Gyanesh Kumar: ফের পথে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি? এবার ইস্যু নির্বাচন কমিশন? ‘জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো’, লিখলেন অভিজিৎ দীপকে
নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতবিরোধের খবর প্রকাশ্যে আসার পর এবার নির্বাচন কমিশন সংস্কারের দাবিতে পথে নামার ইঙ্গিত দিয়েছে Cockroach Janta Party (CJP)। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “Election Commission Thik Karo! ... Gyanesh, it’s done bro.” পরবর্তী সময়ে CJP মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়ে দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।
লিখেছেন
Priya Jana
জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা, এবার নির্বাচন কমিশন নিয়ে পথে CJP
নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে মতবিরোধের খবরকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই আবহে Cockroach Janta Party (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে নির্বাচন কমিশনের সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
২৩ সেপ্টেম্বর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে দীপকে লেখেন, “Election Commission Thik Karo! Important PC tomorrow in Delhi. Gyanesh, it’s done bro.” এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে CJP তাদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে।
কী নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে বিতর্ক?
এই বিতর্কের সূত্র একটি Indian Express অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য—সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশী—গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁদের আপত্তির মধ্যে ছিল নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা পুনর্বহাল, ভোটার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল এবং ভোটার ডেটাবেস ব্যবহারের পদ্ধতি। কিছু নোটে তাঁরা নির্দিষ্ট পদক্ষেপকে ‘unauthorised’ এবং ‘illegal’ বলেও আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
SIR নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে
বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR (Special Intensive Revision)-এর সময় ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির কথা সামনে এসেছে।
Indian Express-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার ডেটাবেসের অ্যাক্সেস, Form 6-এর পরিবর্তন এবং পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি-বাদ দেওয়া সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও অভ্যন্তরীণ আপত্তি উঠেছিল।
তবে এই আপত্তিগুলিকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক অভিযোগগুলি উঠছে, সেগুলিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখা যায় না। এগুলি নিয়ে রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলির পৃথক দাবি রয়েছে।
ECI-এর পাল্টা বক্তব্য কী?
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কমিশনের অভ্যন্তরে বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও পর্যবেক্ষণের পার্থক্য থাকা সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ।
২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিবৃতিতে কমিশন বলেছে, গত এক বছরে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি পূর্ণ কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ছিল। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, তিন কমিশনারের পাশাপাশি অন্যান্য আধিকারিকও তাঁদের মতামত দিতে পারেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আলোচনা হয়।
২৪ সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১০ মাসে ১৪টি আপত্তি নথিভুক্ত হলেও কমিশনের তিন সদস্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠক ও প্রকাশ্য কর্মসূচিতেও একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
‘ইটস ডান ব্রো’—কী বলেছিলেন অভিজিৎ দীপকে?
দীপকের পোস্টের মূল বক্তব্য ছিল নির্বাচন কমিশন সংস্কারের দাবি। তাঁর কথায়, ভোটাধিকার রক্ষা না হলে CJP-এর স্কুল, আদিবাসী শিক্ষা, বেকারত্ব বা পরিকাঠামো নিয়ে চলা প্রচারগুলিও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারবে না।
CJP-এর মুখপাত্র সৌরভ দাসও নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ভোটাধিকার রক্ষাকে তাঁদের পরবর্তী আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় করার কথা জানান।
৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
২৪ সেপ্টেম্বরের সাংবাদিক বৈঠকে CJP মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। সেই সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
CJP-এর এই অবস্থান তাদের আগের বিভিন্ন প্রচারের তুলনায় নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালীকে আরও সরাসরি কেন্দ্র করে তুলেছে।
CJP কি ফের পথে নামছে?
CJP ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন সংস্কার এবং ভোটাধিকার রক্ষার বিষয়টি তারা সামনে আনতে চায়। সংগঠনের নির্ধারিত কয়েকটি কর্মসূচি বাতিল করে দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী আন্দোলনের বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়েও তারা ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছে।
তবে CJP-এর অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য—দুটি আলাদা অবস্থান। একদিকে CJP কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে ECI বলছে, অভ্যন্তরীণ মতামতের পার্থক্য স্বাভাবিক এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে।
নজরে এখন পরবর্তী পদক্ষেপ
জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে CJP-এর ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা এবং নির্বাচন কমিশন সংস্কারের দাবি আগামী কয়েক দিনে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ককে আরও বাড়াতে পারে। তবে CJP-এর পরবর্তী কর্মসূচি এবং নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও নতুন প্রতিক্রিয়া আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর।
Keep reading
More in রাজনীতি
রাজনীতি
Nandigram Bye Election: মিলন প্রধানকে দেওয়া স্বস্তি খারিজ, সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশে স্থগিতাদেশ! ভোটের আগে ফের জটিলতা
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ঘিরে আইনি জটিলতা আরও বাড়ল। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ ২০০৭ সালের এক…
রাজনীতি
Municipal Election: পুজোর ছুটির পরই হবে রাজ্যের ৭ পুরসভায় নির্বাচন, ভোট গণনা হতে পারে ডিসেম্বরের শুরুতেই
দুর্গাপুজোর ছুটি শেষ হওয়ার পরই পশ্চিমবঙ্গের সাতটি পুরসভায় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, ২৭ বা ২৮ নভেম্বর…
রাজনীতি
Supreme Court: জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে? কমিশনকে জানাতে বলল সুপ্রিম কোর্ট, শিবসেনার প্রসঙ্গ উঠল আদালতে
তৃণমূল কংগ্রেসের ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক ও দলের নাম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে করা মামলায় বৃহস…
রাজনীতি
Nandigram Bye Election: মিলন প্রধানের গ্রেফতারিতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ, বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ রাজ্যের
নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের একটি মামলায় নতুন করে গ্রেফতারি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে বড…
রাজনীতি
BJP in West Bengal: ভোটে এত টাকা খরচ করেছে বিজেপি? পাঁচ রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পশ্চিমবঙ্গেই
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি মোট ₹৫২৯.৩৮ কোটি টাকা খরচ করেছে বলে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া খরচের হিসাব থেকে জানা যাচ্ছে। এর মধ্যে পশ…
রাজনীতি
Municipal Election: পুজোর ছুটির পরই হবে রাজ্যের ৭ পুরসভায় নির্বাচন, ভোট গণনা হতে পারে ডিসেম্বরের শুরুতেই
পুজোর মরশুম শেষ হলেই পশ্চিমবঙ্গের ৭টি পুরসভায় নির্বাচন হতে পারে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর অনুযায়ী, কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ধূপ…
