Nandigram Bye Election: মিলন প্রধানকে দেওয়া স্বস্তি খারিজ, সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশে স্থগিতাদেশ! ভোটের আগে ফের জটিলতা
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ঘিরে আইনি জটিলতা আরও বাড়ল। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ ২০০৭ সালের একটি মামলায় তাঁকে ওই মামলায় গ্রেফতার হিসেবে গণ্য না করা এবং ১২ অক্টোবর পর্যন্ত কোনও কড়া পদক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু ২৫ সেপ্টেম্বর ডিভিশন বেঞ্চ সেই অন্তর্বর্তী সুরক্ষা খারিজ করে দিয়েছে। ফলে কাঁথি ACJM আদালতের দেওয়া ৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশই বহাল থাকল।
লিখেছেন
Priya Jana
ভোটের আগে মিলন প্রধানকে ঘিরে ফের বড় আইনি মোড়
নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ঘিরে আইনি টানাপোড়েন নতুন মোড় নিল। ২৪ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ খেজুরি থানার ২০০৭ সালের একটি মামলায় মিলন প্রধানকে ‘শোন অ্যারেস্ট’ হিসেবে গণ্য না করার নির্দেশ দিয়েছিল। ওই মামলায় ১২ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ না করার কথাও বলা হয়েছিল।
কিন্তু ২৫ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের দেওয়া সেই অন্তর্বর্তী সুরক্ষা খারিজ করে দিয়েছে। ফলে মিলন প্রধানের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ বহাল থাকল।
কী নির্দেশ দিয়েছিল বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ?
খেজুরি থানার ৪৫ নম্বর মামলাটি ২০০৭ সালের। এই মামলায় মিলন প্রধানকে ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়েছিল। তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, আগের শুনানিতে রাজ্য আদালতকে জানিয়েছিল যে ২০০৭ সালের অন্য মামলাগুলি ছাড়া নতুন করে কোনও মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হবে না।
এই পরিস্থিতিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, এত পুরনো একটি মামলায় ২০২৬ সালে এসে কেন তাঁকে ‘শোন অ্যারেস্ট’ করা হল। আদালতের সামনে ওই মামলায় প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট যথাযথভাবে পরিবেশিত হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
এরপর সিঙ্গল বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ওই মামলায় পুলিশের কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না এবং মিলন প্রধানকে ওই মামলায় গ্রেফতার হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য
সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশের পরই রাজ্য সরকার ডিভিশন বেঞ্চে যায়। রাজ্যের বক্তব্য ছিল, সংশ্লিষ্ট মামলাটি নতুন করে তৈরি হয়নি। ২০০৭ সালের এই মামলাগুলি আগে থেকেই ছিল এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেগুলি পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পর গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়েছিল।
রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতে জানিয়েছিলেন, মামলাটি পুরনো হলেও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া চলছিল। অন্যদিকে মিলন প্রধানের আইনজীবী গ্রেফতারির সময় এবং নির্বাচনের আগে পরপর পুরনো মামলায় তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন।
২৫ সেপ্টেম্বর ডিভিশন বেঞ্চে কী হল?
শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি আর ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাই-এর ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের দেওয়া অন্তর্বর্তী সুরক্ষা খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ফৌজদারি আইনে কোনও অভিযুক্তকে শুধুমাত্র নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কারণে এই ধরনের বিশেষ অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেওয়ার বিধান নেই।
ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশের ফলে কাঁথি ACJM আদালতের দেওয়া ৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ বহাল থাকছে। নন্দীগ্রামে ভোট হওয়ার কথা ৬ অক্টোবর এবং প্রচার শেষ হবে ৪ অক্টোবর। ফলে নির্বাচনের ঠিক আগে এই নির্দেশ মিলন প্রধানের প্রচারে অংশগ্রহণের প্রশ্নকে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে মামলাগুলি কত পুরনো?
মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির সূত্র ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম ও খেজুরি এলাকার জমি অধিগ্রহণ-বিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত পৌঁছয়। বিভিন্ন মামলায় খুন, খুনের চেষ্টা, অপহরণ, দাঙ্গা এবং অস্ত্র আইনের মতো অভিযোগের কথা আদালতে উঠে এসেছে।
পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, পুরনো মামলাগুলিতে জারি থাকা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে তাঁর আইনজীবী গ্রেফতারির সময় নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তুলেছেন।
উপনির্বাচনের আগে কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে ৬ অক্টোবর ২০২৬। ফলে প্রার্থী নিজে প্রচারে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা এখন আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের আদালতে মিলন প্রধানের জামিন সংক্রান্ত শুনানিতেও তাঁকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ এসেছিল। তবে সেটি ছিল প্রাথমিক পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ; পরবর্তী আইনি নির্দেশই চূড়ান্ত পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে।
এদিকে ২৫ সেপ্টেম্বর ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের সুরক্ষা খারিজ করায় পরিস্থিতি আরও বদলে গেল। ফলে মিলন প্রধানের নির্বাচনী প্রচারে সরাসরি অংশগ্রহণ এবং ভোটের আগে তাঁর জামিন—দুই বিষয়েই এখন পরবর্তী আদালতের নির্দেশ গুরুত্বপূর্ণ।
এখন কী হবে?
বর্তমান পরিস্থিতিতে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ বহাল রয়েছে। তবে মিলন প্রধানের অন্যান্য মামলায় জামিনের আবেদন এবং আইনি প্রক্রিয়া আলাদাভাবে চলতে পারে। একটি মামলায় ডিভিশন বেঞ্চের এই নির্দেশের অর্থ তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সব মামলার আইনি অবস্থান একই হয়ে গেল—এমন নয়।
অর্থাৎ, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে মিলন প্রধানের গ্রেফতারি ও জামিন নিয়ে আইনি লড়াই এখনও শেষ হয়নি। সিঙ্গল বেঞ্চের দেওয়া অন্তর্বর্তী সুরক্ষা খারিজ হওয়ার পর এখন পরবর্তী আদালতের নির্দেশের দিকেই নজর।
Keep reading
More in রাজনীতি
রাজনীতি
Municipal Election: পুজোর ছুটির পরই হবে রাজ্যের ৭ পুরসভায় নির্বাচন, ভোট গণনা হতে পারে ডিসেম্বরের শুরুতেই
দুর্গাপুজোর ছুটি শেষ হওয়ার পরই পশ্চিমবঙ্গের সাতটি পুরসভায় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, ২৭ বা ২৮ নভেম্বর…
রাজনীতি
Supreme Court: জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে? কমিশনকে জানাতে বলল সুপ্রিম কোর্ট, শিবসেনার প্রসঙ্গ উঠল আদালতে
তৃণমূল কংগ্রেসের ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক ও দলের নাম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে করা মামলায় বৃহস…
রাজনীতি
Nandigram Bye Election: মিলন প্রধানের গ্রেফতারিতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ, বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ রাজ্যের
নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের একটি মামলায় নতুন করে গ্রেফতারি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে বড…
রাজনীতি
BJP in West Bengal: ভোটে এত টাকা খরচ করেছে বিজেপি? পাঁচ রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পশ্চিমবঙ্গেই
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি মোট ₹৫২৯.৩৮ কোটি টাকা খরচ করেছে বলে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া খরচের হিসাব থেকে জানা যাচ্ছে। এর মধ্যে পশ…
রাজনীতি
CJP on Gyanesh Kumar: ফের পথে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি? এবার ইস্যু নির্বাচন কমিশন? ‘জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো’, লিখলেন অভিজিৎ দীপকে
নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতবিরোধের খবর প্রকাশ্যে আসার পর এবার নির্বাচন কমিশন সংস্কারের দাবিতে পথে নামার ইঙ্গিত দিয়েছে Cockroach Janta Party (…
রাজনীতি
Municipal Election: পুজোর ছুটির পরই হবে রাজ্যের ৭ পুরসভায় নির্বাচন, ভোট গণনা হতে পারে ডিসেম্বরের শুরুতেই
পুজোর মরশুম শেষ হলেই পশ্চিমবঙ্গের ৭টি পুরসভায় নির্বাচন হতে পারে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর অনুযায়ী, কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ধূপ…
