রাহুলকে নিশানা কিশন রেড্ডির, ২০১৩-এর নোটিফিকেশন তুলে E10 নিয়ে কংগ্রেসকে তোপ
ইথানল মিশ্রিত পেট্রল বা E20 নিয়ে দেশে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই কংগ্রেসকে পাল্টা আক্রমণ করেছেন বিজেপি নেতা জি কিশন রেড্ডি। তিনি ২০১৩ সালের ইউপিএ আমলের সরকারি নোটিফিকেশন এবং ইথানল আমদানির জন্য তৎকালীন গ্লোবাল টেন্ডারের তথ্য সামনে এনে রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেছেন। সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে পেট্রলে ৫ শতাংশ ইথানল মেশানোর নীতি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং প্রয়োজন মেটাতে তেল বিপণন সংস্থাগুলি ৮২.০৩ কোটি লিটার ইথানল আমদানির জন্য গ্লোবাল টেন্ডারও ডেকেছিল।
লিখেছেন
Priya Jana
ইথানল বিতর্কে রাহুল গান্ধীকে নিশানা, ২০১৩-এর নোটিফিকেশন তুলে ধরলেন জি কিশন রেড্ডি
নয়াদিল্লি: পেট্রলে ইথানল মেশানো নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে পাল্টা নিশানা করেছেন বিজেপি নেতা জি কিশন রেড্ডি। কংগ্রেস সরকারের আমলে ইথানল ব্লেন্ডিংয়ের নীতি কীভাবে এগিয়েছিল, তা তুলে ধরতে ২০১৩ সালের সরকারি নোটিফিকেশন এবং ইথানল আমদানির জন্য তৎকালীন গ্লোবাল টেন্ডারের তথ্য সামনে এনেছেন তিনি।
ইথানল-ব্লেন্ডেড পেট্রল বা E20 নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধীদের আক্রমণের জবাবে কেন্দ্রও জানিয়েছে, ভারতের ইথানল কর্মসূচি বর্তমান সরকারের আমলে শুরু হয়নি। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের জুলাই ২০২৬-এর সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দেশে ইথানল ব্লেন্ডিংয়ের পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছিল ২০০১ সালে। ২০০৪ সালে কর্মসূচিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় এবং ২০০৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যে E5 অর্থাৎ ৫ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল চালু হয়েছিল।
২০১৩ সালের নোটিফিকেশনে কী ছিল?
লোকসভায় ৬ ডিসেম্বর ২০১৩-এ দেওয়া সরকারি উত্তরে জানানো হয়েছিল, ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক একটি গেজেট নোটিফিকেশন জারি করে। সেখানে তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে পেট্রলে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মেশানোর অনুমতি দিয়ে দেশজুড়ে ৫ শতাংশ ইথানল ব্লেন্ডিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২২ নভেম্বর ৫ শতাংশ ইথানল ব্লেন্ডিং বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২০১৩ সালে দেশজুড়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় তৎকালীন ইউপিএ সরকার।
ইথানলের জন্য গ্লোবাল টেন্ডারও হয়েছিল
কিশন রেড্ডির বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হল ২০১৩ সালের ইথানল আমদানির গ্লোবাল টেন্ডার। লোকসভায় দেওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তৎকালীন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি ১৮ জানুয়ারি ২০১৩-এ ৮২.০৩ কোটি লিটার ইথানল সংগ্রহের জন্য একটি গ্লোবাল টেন্ডার ডেকেছিল। তবে বিদেশি সরবরাহকারীদের দর বেশি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেই টেন্ডার বাতিল করা হয়।
ভারত পেট্রোলিয়ামের সংরক্ষিত টেন্ডার নথিতেও ২০১৩ সালে IOC, BPCL এবং HPCL-এর জন্য ৮২০,৩৩১ কিলোলিটার আমদানিকৃত অ্যানহাইড্রাস ইথানল সংগ্রহের গ্লোবাল টেন্ডারের উল্লেখ রয়েছে। নথি অনুযায়ী, টেকনিক্যাল বিড খোলার নির্ধারিত তারিখ ছিল ২৬ মার্চ ২০১৩।
‘ইথানল নীতি নতুন নয়’, কেন্দ্রের যুক্তি
ইথানল নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকারও স্পষ্ট করেছে যে বর্তমান সরকার শূন্য থেকে এই নীতি শুরু করেনি। সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে ইউপিএ সরকারের সময় ইথানল ব্লেন্ডিংয়ের নীতিগত কাঠামো গেজেটে প্রকাশিত হয়েছিল। তবে সেই সময় দেশে পর্যাপ্ত ইথানল উৎপাদনের পরিকাঠামো না থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ব্লেন্ডিং করা সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সাল পর্যন্ত গড় ইথানল ব্লেন্ডিং প্রায় ১.৫ শতাংশের আশপাশে ছিল বলে কেন্দ্র জানিয়েছে।
পরে ২০১৮ সালে জাতীয় বায়োফুয়েল নীতি এবং পরবর্তী সময়ে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ইথানল সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কেন্দ্রের দাবি, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ইথানল ব্লেন্ডিং ১০ শতাংশে পৌঁছয় এবং ২০২৫ সালে ২০ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারিত সময়ের পাঁচ বছর আগে অর্জিত হয়।
রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে E20
বর্তমানে বিতর্কের মূল বিষয় E20—অর্থাৎ ৮০ শতাংশ পেট্রলের সঙ্গে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি। একদিকে কেন্দ্রের দাবি, ইথানল ব্যবহার করলে অপরিশোধিত তেল আমদানির উপর নির্ভরতা কমে, কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত বাজার তৈরি হয় এবং পরিবেশগত সুবিধা পাওয়া যায়। অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, পুরনো গাড়ির ক্ষেত্রে E20 ব্যবহারের উপযোগিতা এবং মাইলেজ কমে যাওয়ার মতো বিষয় নিয়ে আরও স্পষ্টতা প্রয়োজন।
জুলাই ২০২৬-এ পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের প্রকাশিত প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে, ভারত ২০২২ সালের জুনে E10 অর্থাৎ ১০ শতাংশ ইথানল ব্লেন্ডিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে গড় ব্লেন্ডিং ১৯.২০ শতাংশে পৌঁছেছিল এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২০ শতাংশে পৌঁছেছে।
ফলে ইথানল নীতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক এখন মূলত একটি প্রশ্ন ঘিরে—দেশে এই কর্মসূচির সূচনা কার আমলে এবং পরবর্তী সময়ে এর বাস্তবায়ন কতটা দ্রুত হয়েছে। ২০১৩ সালের নোটিফিকেশন ও গ্লোবাল টেন্ডারের তথ্য সামনে এনে জি কিশন রেড্ডি কংগ্রেসের সমালোচনার জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সরকারি নথি অবশ্য দেখাচ্ছে, ইথানল ব্লেন্ডিংয়ের নীতির শিকড় বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় আসার আগের সময়েই রয়েছে।
Keep reading
More in রাজনীতি
রাজনীতি
স্টোল থেকে একই মঞ্চে: রাজনৈতিক টানাপোড়েন পেরিয়েও মমতা-সোনিয়ার সম্পর্ক
দিল্লিতে INDIA ব্লকের সাম্প্রতিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সোনিয়া গান্ধীর উষ্ণ মুহূর্ত ফের নজর কেড়েছে। মমতা সোনিয়াকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আনা…

রাজনীতি
Gyanesh Kumar ও SIR ইস্যুতে ৪ অক্টোবর মুম্বইয়ে প্রতিবাদ মিছিল, যোগ দেবে NCP-SP ও কংগ্রেস
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকার Special Intensive Revision (SIR)-কে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে ৪ অক্টোবর মুম্বইয়ে প্রস্তাবিত…
রাজনীতি
কর্ণাটকে SIR নিয়ে নতুন বিতর্ক, Form 7-এ ভোটার বাদ দেওয়ার তথ্য চাইলেন শিবকুমার
কর্ণাটকে চলা Special Intensive Revision (SIR) নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার Form 7-এর মাধ্যমে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার আবে…
রাজনীতি
‘ইস্তফা জনতা পার্টি’ কটাক্ষ রামদাস আঠাওয়ালের, CEC জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি ঘিরে বিতর্ক
CEC জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যে CJP-কে ‘ইস্তফা জনতা পার্টি’ বলে কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী…
রাজনীতি
SIR বিতর্কে কংগ্রেসের ৫ দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও CEC-এর পদত্যাগ চাইল দল
নির্বাচন কমিশনের Special Intensive Revision বা SIR ঘিরে চলা বিতর্কের মধ্যে মঙ্গলবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি একাধিক দাবি তুলেছে। দলের পক্ষ থেক…
রাজনীতি
রেভন্থ রেড্ডির ‘ধনী-গরিবের ঈশ্বর’ মন্তব্যে বিতর্ক, তীব্র আক্রমণ BJP-র
তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেভন্থ রেড্ডি ভগবান রামকে ‘ধনীদের ঈশ্বর’ এবং ভগবান শিবকে ‘গরিবদের ঈশ্বর’ হিসেবে উল্লেখ করায় রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হ…
