১০০ দিনেই বড় ঘোষণা: অতীত সরকারের নীতি-দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে ৩ কমিটি, Zee 24 Ghanta Conclave-এ সুদেন্দু অধিকারী
সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে Zee 24 Ghanta-র ‘সরকারের ১০০ দিন’ মেগা কনক্লেভে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সুদেন্দু অধিকারী। পূর্ববর্তী সরকারের আমলের শিল্পনীতি, প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং কথিত দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিনটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে শিল্প পুনরুজ্জীবন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং রাজ্যের আত্মনির্ভরতার উপর জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী।
লিখেছেন
Priya Jana
১০০ দিনেই বড় ঘোষণা, অতীত সরকারের কাজ খতিয়ে দেখতে ৩ কমিটি গড়লেন সুদেন্দু অধিকারী
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের ১০০ দিন পূর্তিকে সামনে রেখে বড়সড় প্রশাসনিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী সুদেন্দু অধিকারী। Zee 24 Ghanta-র ‘সরকারের ১০০ দিন’ মেগা কনক্লেভে তিনি জানান, পূর্ববর্তী সরকারের আমলের শিল্পনীতি, বিভিন্ন প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং কথিত দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিনটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে।
২৫ অগস্ট আয়োজিত এই কনক্লেভে রাজ্য সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কাজের পাশাপাশি আগামী দিনের রূপরেখাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, মাত্র ১০০ দিনের ভিত্তিতে কোনও সরকারের সামগ্রিক সাফল্য বা ব্যর্থতার বিচার করা সম্ভব নয়। বরং আগামী দিনে রাজ্যের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলি সমাধানের দিকে নজর দিতে হবে।
কোন বিষয়ে কাজ করবে তিন কমিটি?
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় তিনটি বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে।
প্রথম কমিটিটি রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রের সমস্যা এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ করবে। শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ দফতরের মন্ত্রী তাপস রায়ের নেতৃত্বে এই কমিটি শিল্পক্ষেত্রে সমস্যাগুলি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি নতুন শিল্পনীতির কাঠামো তৈরির বিষয়টিও দেখবে।
দ্বিতীয় কমিটিটি পূর্ববর্তী সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া কথিত দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখবে। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন।
তৃতীয় কমিটির দায়িত্ব হবে আগের সরকারের বিভিন্ন নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা। মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের নেতৃত্বে এই কমিটি কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।
‘১০০ দিনে পারফরম্যান্স বিচার করা যায় না’
কনক্লেভে সুদেন্দু অধিকারী বলেন, ১০০ দিন কোনও সরকারের দীর্ঘমেয়াদি কর্মক্ষমতা বিচার করার জন্য যথেষ্ট সময় নয়। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, অতীতের সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করা।
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকার রাজ্যকে আর্থিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রেখে গিয়েছে। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গকে আরও আত্মনির্ভর করে তুলতে শিল্প, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন করে আস্থা তৈরি করা জরুরি।
শিল্প ও বিনিয়োগে নজর
নতুন সরকারের ঘোষিত রোডম্যাপে শিল্প পুনরুজ্জীবন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কনক্লেভে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অতীতের শিল্প প্রকল্পগুলির প্রসঙ্গও ওঠে। বিশেষ করে টাটা ন্যানো প্রকল্পের সিঙ্গুর-পর্বের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে শিল্প সংস্থাগুলি বাধাহীনভাবে ব্যবসা করতে পারে।
নতুন শিল্পনীতি তৈরি এবং বন্ধ শিল্পের সমস্যা পর্যালোচনার জন্য পৃথক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত সেই বৃহত্তর শিল্প পুনরুজ্জীবন পরিকল্পনারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও পর্যালোচনার আওতায়
শুধু দুর্নীতির অভিযোগ নয়, পূর্ববর্তী সরকারের বিভিন্ন নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও নতুন কমিটির পর্যালোচনার আওতায় আসছে। এর ফলে আগের সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।
মুখ্যসচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটির কাজ মূলত এই নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলির পর্যালোচনার দিকে থাকবে। তবে কোন কোন সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং তদন্তের পর কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হতে পারে।
সীমান্ত, নিরাপত্তা ও যাদবপুর নিয়েও বার্তা
কনক্লেভে শিল্প ও প্রশাসনের পাশাপাশি রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন সুদেন্দু অধিকারী। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কথিত ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান এবং চরমপন্থী বা নকশালপন্থী মতাদর্শ নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
পর্যটন ও নগরোন্নয়নেও আলাদা পরিকল্পনা
‘সরকারের ১০০ দিন’ কনক্লেভে রাজ্যের পর্যটন, নগরোন্নয়ন এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়। পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ ‘পার্টনারশিপ ইন প্রগ্রেস’ এবং ‘ট্যুরিজম ফর অল’ ভাবনাকে সামনে রেখে পর্যটনক্ষেত্রে নতুন পরিকল্পনার কথা জানান।
নগরোন্নয়ন ও পরিকাঠামো নিয়ে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। কেন্দ্রীয় কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন নিয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
১০০ দিনের পর এবার দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ
Zee 24 Ghanta-র এই মেগা কনক্লেভ কার্যত সরকারের প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়নের পাশাপাশি আগামী দিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক রোডম্যাপ প্রকাশের মঞ্চ হয়ে ওঠে। শিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে শিক্ষা, পর্যটন, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সংস্কার—একাধিক ক্ষেত্রকে সামনে রেখে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
তিনটি বিশেষ কমিটি গঠনের ঘোষণা অবশ্যই এই কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। অতীত সরকারের নীতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং কথিত দুর্নীতির অভিযোগ কতটা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হয় এবং তার ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
Keep reading
More in রাজনীতি
রাজনীতি
স্টোল থেকে একই মঞ্চে: রাজনৈতিক টানাপোড়েন পেরিয়েও মমতা-সোনিয়ার সম্পর্ক
দিল্লিতে INDIA ব্লকের সাম্প্রতিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সোনিয়া গান্ধীর উষ্ণ মুহূর্ত ফের নজর কেড়েছে। মমতা সোনিয়াকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আনা…

রাজনীতি
Gyanesh Kumar ও SIR ইস্যুতে ৪ অক্টোবর মুম্বইয়ে প্রতিবাদ মিছিল, যোগ দেবে NCP-SP ও কংগ্রেস
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকার Special Intensive Revision (SIR)-কে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে ৪ অক্টোবর মুম্বইয়ে প্রস্তাবিত…
রাজনীতি
কর্ণাটকে SIR নিয়ে নতুন বিতর্ক, Form 7-এ ভোটার বাদ দেওয়ার তথ্য চাইলেন শিবকুমার
কর্ণাটকে চলা Special Intensive Revision (SIR) নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার Form 7-এর মাধ্যমে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার আবে…
রাজনীতি
‘ইস্তফা জনতা পার্টি’ কটাক্ষ রামদাস আঠাওয়ালের, CEC জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি ঘিরে বিতর্ক
CEC জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যে CJP-কে ‘ইস্তফা জনতা পার্টি’ বলে কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী…
রাজনীতি
SIR বিতর্কে কংগ্রেসের ৫ দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও CEC-এর পদত্যাগ চাইল দল
নির্বাচন কমিশনের Special Intensive Revision বা SIR ঘিরে চলা বিতর্কের মধ্যে মঙ্গলবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি একাধিক দাবি তুলেছে। দলের পক্ষ থেক…
রাজনীতি
রেভন্থ রেড্ডির ‘ধনী-গরিবের ঈশ্বর’ মন্তব্যে বিতর্ক, তীব্র আক্রমণ BJP-র
তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেভন্থ রেড্ডি ভগবান রামকে ‘ধনীদের ঈশ্বর’ এবং ভগবান শিবকে ‘গরিবদের ঈশ্বর’ হিসেবে উল্লেখ করায় রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হ…
