‘আইনি নির্দেশের আগেই অন্যায্য মিডিয়া ট্রায়াল’, NCLT-এর নতুন বেঞ্চের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে NCLAT-এ ড. সুভাষ চন্দ্র
এসেল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. সুভাষ চন্দ্র তাঁর ব্যক্তিগত দেউলিয়া সংক্রান্ত মামলায় NCLT-এর পাঁচ সদস্যের নতুন বেঞ্চ গঠন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন NCLAT-এ। তাঁর আইনজীবীর অভিযোগ, চূড়ান্ত আইনি নির্দেশ আসার আগেই তাঁকে নিয়ে ‘অন্যায্য মিডিয়া ট্রায়াল’ হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চের ক্ষমতা ও গঠন নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে।
লিখেছেন
Priya Jana
নয়াদিল্লি: এসেল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও Zee-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. সুভাষ চন্দ্রের ব্যক্তিগত দেউলিয়া মামলায় নতুন মোড়। NCLT-এর পাঁচ সদস্যের বিশেষ বেঞ্চের বৈধতা ও সেই বেঞ্চের গঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলে NCLAT-এর দ্বারস্থ হয়েছেন চন্দ্র। তাঁর আইনজীবীর দাবি, মামলায় চূড়ান্ত কোনও নির্দেশ কার্যকর হওয়ার আগেই সংবাদমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে, যা কার্যত ‘অন্যায্য মিডিয়া ট্রায়াল’-এর রূপ নিয়েছে।
মামলাটি মূলত চন্দ্রের দেওয়া ব্যক্তিগত গ্যারান্টির সঙ্গে যুক্ত। Essel Group-এর বিভিন্ন সংস্থার নেওয়া ঋণের ক্ষেত্রে তিনি ব্যক্তিগত গ্যারান্টার ছিলেন। এই মামলায় মোট দাবিকৃত ঋণের পরিমাণ প্রায় ২২,০০৬.৫৭ কোটি টাকা, আর আগের NCLT-এর সিদ্ধান্তে প্রায় ৬.২৫ কোটি টাকার একটি repayment plan অনুমোদনের পথ তৈরি হয়েছিল।
কোথা থেকে শুরু বিতর্ক?
২৫ আগস্ট NCLT-এর তৃতীয় সদস্য নীলেশ শর্মা চন্দ্রের repayment plan অনুমোদনের পক্ষে মত দেন। তবে সেটি ছিল একটি বৃহত্তর প্রক্রিয়ার অংশ এবং পরবর্তী consequential ও implementation directions-এর জন্য বিষয়টি মূল বেঞ্চে পাঠানোর কথা ছিল।
এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরই বিপুল বিতর্ক শুরু হয়। কারণ, প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার দাবির বিপরীতে মাত্র ৬.২৫ কোটি টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কয়েকজন পাওনাদার। ফলে বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা হয়।
‘চূড়ান্ত নির্দেশের আগেই মিডিয়া ট্রায়াল’ অভিযোগ
NCLAT-এ শুনানির সময় সুভাষ চন্দ্রের হয়ে সওয়াল করা সিনিয়র অ্যাডভোকেটের বক্তব্য, মামলায় তখনও কোনও চূড়ান্ত কার্যকরী আদেশ ছিল না। অথচ গত প্রায় ১৫ দিন ধরে সংবাদমাধ্যমে চন্দ্রকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন তিনি ২২ হাজার কোটি টাকার দায় মাত্র ৬.৫ কোটি টাকায় মিটিয়ে ফেলেছেন।
আইনজীবী আরও প্রশ্ন তোলেন, কোন আইনি ক্ষমতাবলে পাঁচ সদস্যের নতুন NCLT বেঞ্চ আগের তৃতীয় সদস্যের মতামতের ওপর স্থগিতাদেশ দিল এবং সেই বেঞ্চ কীভাবে গঠিত হল।
অন্যদিকে, ঋণদাতাদের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, NCLAT-এর কার্যক্রমকে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়ার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ কেন তৈরি হল?
প্রথমে NCLT-এর দুই সদস্যের বেঞ্চে চন্দ্রের repayment plan নিয়ে মতভেদ তৈরি হয়েছিল। সেই মতপার্থক্য মেটাতে তৃতীয় সদস্যকে যুক্ত করা হয়। তৃতীয় সদস্য পরে পরিকল্পনার পক্ষে মত দেন। এরপর মামলাটি নিয়ে নতুন করে পাঁচ সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়।
এই বেঞ্চের নেতৃত্বে রয়েছেন NCLT-এর প্রেসিডেন্ট বিচারপতি অনুপিন্দর সিং গ্রেওয়াল। নতুন বেঞ্চ আগের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দিয়ে মামলাটি ফের শুনবে বলে জানায়। পাশাপাশি চন্দ্রকে তাঁর সম্পত্তি হস্তান্তর বা বিক্রি না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ঋণদাতাদের আপত্তি কোথায়?
চন্দ্রের repayment plan নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে একাধিক ঋণদাতা। তাঁদের প্রধান প্রশ্ন, প্রায় ২২,০০৬ কোটি টাকার দাবির বিপরীতে এত কম অর্থে কীভাবে নিষ্পত্তি সম্ভব?
ঋণদাতাদের একাংশ পরিকল্পনার পক্ষে ভোট দেওয়া কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে চন্দ্রের সম্পর্ক রয়েছে বলেও প্রশ্ন তুলেছে। পাশাপাশি চন্দ্রের সম্পত্তি ও সম্পদের বিষয়ে ফরেনসিক তদন্তের দাবিও উঠেছে।
তবে চন্দ্রের পক্ষ থেকে পাল্টা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে যে, ২২,০০৬ কোটি টাকা তাঁর ব্যক্তিগত ঋণ নয়; এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগত গ্যারান্টি সংক্রান্ত insolvency proceedings-এ দাখিল করা বিভিন্ন creditor claims-এর মোট অঙ্ক। তাঁর দফতরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ঋণগুলি মূলত বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থার নেওয়া এবং তিনি সেগুলির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গ্যারান্টি দিয়েছিলেন।
NCLAT কী বলল?
পাঁচ সদস্যের NCLT বেঞ্চের গঠন নিয়ে চন্দ্রের আপত্তি শুনলেও NCLAT এই পর্যায়ে বেঞ্চটির বৈধতা নিয়ে আলাদা করে কোনও চূড়ান্ত রায় দেয়নি। আদালত জানিয়েছে, চন্দ্র চাইলে ১ সেপ্টেম্বরের NCLT-এর আদেশকে পৃথকভাবে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।
এদিকে ঋণদাতাদের দায়ের করা আপিলগুলি এখনই প্রত্যাহার না করে মুলতুবি রাখা হয়েছে। মামলাটি পরবর্তী শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর ২০২৬ তালিকাভুক্ত হয়েছে।
এখন কী হতে পারে?
ফলে আপাতত সুভাষ চন্দ্রের ৬.২৫ কোটি টাকার repayment plan কার্যকর হচ্ছে না। পাঁচ সদস্যের বেঞ্চের স্থগিতাদেশের কারণে বিষয়টি নতুন করে শুনবে NCLT। একই সঙ্গে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ গঠনের আইনি ক্ষমতা নিয়ে চন্দ্রের প্রশ্নও পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এই মামলার ফল শুধু চন্দ্রের ব্যক্তিগত insolvency proceedings-এর জন্য নয়, ব্যক্তিগত গ্যারান্টারদের দায়, creditor recovery এবং NCLT-এর বেঞ্চ গঠনের ক্ষমতা—এই তিন ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে।
তবে এখনও কোনও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে ২২ হাজার কোটি টাকার দাবি বা ৬.২৫ কোটি টাকার repayment plan—কোনটিই মামলার শেষ সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না।
Keep reading
More in ব্যবসা-বাণিজ্যের

ব্যবসা-বাণিজ্যের
পিএম কিষান যোজনার ২৪তম কিস্তি কবে? কৃষকদের অ্যাকাউন্টে ২,০০০ টাকা পাঠানোর সম্ভাব্য তারিখ
প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনার ২৪তম কিস্তি নিয়ে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ৩০ অক্টোবর ২০২৬-এ কিস্তি দেওয়…

ব্যবসা-বাণিজ্যের
সবুজ বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়তেই চাপে উত্তর ভারতের পাওয়ার গ্রিড, নিরাপদ সীমা ছাড়াচ্ছে ট্রান্সফরমারের লোড
রাজস্থানে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন দ্রুত বাড়ায় উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যু…

ব্যবসা-বাণিজ্যের
উৎপাদন খরচের চাপে ফের দাম বাড়াবে হিন্দুস্তান ইউনিলিভার, জানালেন সিইও প্রিয়া নায়ার
কাঁচামাল ও অন্যান্য উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দাম ধাপে ধাপে বাড়ানোর পরিকল্পনা চালিয়ে যাবে হিন্দুস্তান ইউনিলিভার লিমিটেড (HUL)। সংস্…

ব্যবসা-বাণিজ্যের
৫০ বছরের অভিজ্ঞ কর্মী থেকে ২৩ বছরের ইঞ্জিনিয়ার—মাইক্রোসফটের স্বেচ্ছাবসর প্রস্তাবে দ্বিধায় কর্মীরা
মাইক্রোসফট বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০,০০০ কর্মীকে আর্থিক সহায়তাসহ স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব বিবেচনা করার সুযোগ দিয়েছে। ভারতে সংস্থাটির কর…
ব্যবসা-বাণিজ্যের
টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদ নিয়ে নোয়েল টাটার আপত্তি, চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক
টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরনের আরও পাঁচ বছরের মেয়াদে পুনর্নিয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল ট…
ব্যবসা-বাণিজ্যের
রিলায়েন্স জিওর IPO ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ, কী সম্ভাবনা টেলিকম ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে?
রিলায়েন্স জিওর সম্ভাব্য IPO ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ভারতের টেলিকম ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ক্ষেত্রে জিওর বিস্তার, গ্রাহকভি…
