রাজ্যে ৯৩৩ পড়ুয়াহীন স্কুল! শূন্য পড়ুয়ার স্কুল নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সরকারের
পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পড়ুয়াশূন্য থাকা প্রায় ৯৩৩টি স্কুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের পথে রাজ্য সরকার। স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছেন, এই স্কুলগুলির ভবন, জমি, মাঠ-সহ সম্পত্তি কীভাবে ব্যবহার করা যায়, তা খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ওই সম্পত্তি অন্য সরকারি দফতরের কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
লিখেছেন
Priya Jana
৯৩৩ পড়ুয়াশূন্য স্কুল নিয়ে সরকারের নতুন উদ্যোগ
পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থায় পড়ুয়াশূন্য স্কুলের সংখ্যা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছে। এবার দীর্ঘদিন ধরে কার্যত ব্যবহার না হওয়া ৯৩৩টি স্কুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে পদক্ষেপ করছে রাজ্য সরকার।
স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছেন, প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক স্তর মিলিয়ে প্রায় ৯৩৩টি স্কুল রয়েছে, যেগুলির অনেকগুলি দীর্ঘ সময় ধরে পড়ুয়াশূন্য। এসব স্কুলের ভবন, জমি, মাঠ এবং অন্যান্য পরিকাঠামো কী অবস্থায় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে কমিটি তৈরি করা হয়েছে।
স্কুলের সম্পত্তি এবার অন্য কাজে?
মন্ত্রী জানিয়েছেন, পড়ুয়া না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্কুলগুলির সম্পত্তি অব্যবহৃত পড়ে থাকছে। তাই সেই পরিকাঠামো নষ্ট হওয়ার আগে অন্য সরকারি কাজে ব্যবহার করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা হিসেবে এই স্কুলগুলির সম্পত্তি সরকারের হাতে তুলে দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য দফতরের কাজে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। তবে কোন স্কুলে কী ধরনের ব্যবহার হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
২৩ জেলায় কমিটি, ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন জেলার জেলাশাসকদের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির কাজ হবে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলির ভবন, জমি, মাঠ এবং অন্যান্য পরিকাঠামোর বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করা।
এরপর রিপোর্টের ভিত্তিতে কোন সম্পত্তি কীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে ৯৩৩ বনাম ৪,১৩৩—দুটি সংখ্যা কেন?
এখানেই রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ৯৩৩টি স্কুল বলতে মূলত এমন স্কুলকে বোঝানো হচ্ছে, যেগুলি দীর্ঘ সময় ধরে পড়ুয়াশূন্য বা বিভিন্ন সময়ে কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে। অন্যদিকে কেন্দ্রের UDISE+ 2025-26 তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ওই শিক্ষাবর্ষে মোট ৪,১৩৩টি স্কুলে কোনও পড়ুয়া নথিভুক্ত ছিল না।
অর্থাৎ, দুই সংখ্যার সংজ্ঞা ও সময়সীমা এক নয়। ৯৩৩টি স্কুল নিয়ে বর্তমান রাজ্য সরকারের সম্পত্তি ও ভবিষ্যৎ ব্যবহারের পর্যালোচনা চলছে, আর ৪,১৩৩টি সংখ্যা UDISE+–এর নির্দিষ্ট শিক্ষাবর্ষের zero-enrolment data।
৪,১৩৩ স্কুলে ১৯,৫০২ শিক্ষক
UDISE+ 2025-26-এর তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ৪,১৩৩টি zero-enrolment স্কুলে ১৯,৫০২ জন শিক্ষক যুক্ত ছিলেন। একই সময়ে রাজ্যে এমন বহু স্কুল রয়েছে যেখানে পড়ুয়ার তুলনায় শিক্ষক বা পরিকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে।
এই বৈপরীত্যের কারণেই শিক্ষক ও কর্মীদের যুক্তিসঙ্গতভাবে অন্য স্কুলে বণ্টনের বিষয়টিও শিক্ষা দফতরের আলোচনায় রয়েছে। গত জুলাইয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে zero বা low-enrolment স্কুল থেকে শিক্ষককে প্রয়োজনীয়তা থাকা স্কুলে সরানোর জন্য নতুন SOP-এর কথাও উঠে এসেছিল।
সব পড়ুয়াশূন্য স্কুল কি বন্ধ হয়ে যাবে?
এখনই এমনটা বলা যাচ্ছে না। মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, মূলত দীর্ঘদিন ধরে পড়ুয়াহীন এবং কার্যত অচল হয়ে থাকা স্কুলগুলির সম্পত্তি কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটিই পর্যালোচনার বিষয়।
দূরবর্তী এলাকায় কোনও স্কুলের আশপাশে বিকল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকলে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলাদা করে ভাবা হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ফলে সব zero-enrolment স্কুলের ক্ষেত্রে একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—এমনটা এখনও নিশ্চিত নয়।
বিকল্প ব্যবহারের ভাবনায় কী রয়েছে?
পড়ুয়াশূন্য স্কুলের অব্যবহৃত পরিকাঠামোকে অন্য সরকারি পরিষেবা, আন্তঃদফতরীয় কাজে বা স্থানীয় প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
কিছু প্রতিবেদনে কমিউনিটি পরিষেবা, দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র বা অন্য জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এগুলিকে সম্ভাব্য ব্যবহার হিসেবেই দেখা উচিত।
সামনে কী সিদ্ধান্ত?
এই মুহূর্তে সরকারের মূল লক্ষ্য হল—কোন স্কুল বাস্তবে কতদিন ধরে বন্ধ বা পড়ুয়াশূন্য, সেখানে কী পরিকাঠামো রয়েছে এবং সেই সম্পত্তি কীভাবে কাজে লাগানো সম্ভব, তা যাচাই করা।
কমিটির রিপোর্টের পর সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলির ভবন, জমি ও অন্যান্য সম্পত্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে ৯৩৩টি স্কুলের ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর।
Keep reading
More in শিক্ষা
শিক্ষা
8th Pay Commission: বছরে ৪ বার হবে DA বৃদ্ধি? অষ্টম বেতন কমিশনে নতুন কী খবর, জানুন সব আপডেট
অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়ছে। বছরে চারবার DA বৃদ্ধির খবর ঘুরলেও এখনও এমন কোনও সরকারি স…
শিক্ষা
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আধিকারিক ও কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে বড় বদল! ২১ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নবান্নের নতুন উদ্যোগ
রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষক, আধিকারিক ও অশিক্ষক কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিচালনায় অভিন্ন আইনি কাঠামো আনার উদ্যোগ নিয়েছে নবান্ন। ‘দ্য…
শিক্ষা
জনগণনার কাজে যুক্ত শিক্ষকদের নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত! স্কুল সামলে নয়, বদলিও নয়—৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কী নির্দেশ বিকাশ ভবনের?
পশ্চিমবঙ্গে জনগণনার কাজে যুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে স্কুলশিক্ষা দফতর। ৮ সেপ্টেম্বরের নির্দেশ অনুযায়ী, প্র…
শিক্ষা
সরকারি স্কুলে উপস্থিতি সিস্টেমে বিরাট বদল, পড়ুয়া অনুপস্থিত হলেই অভিভাবকের মোবাইলে যাবে SMS
সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের উপস্থিতি নজরদারিতে বড়সড় পরিবর্তন। নতুন ব্যবস্থায় কোনও পড়ুয়া স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে তার অভিভাবকের মোবাইলে সরাসরি…
শিক্ষা
যাদবপুরে সাদা করা দেওয়ালে ২৪ ঘণ্টায় ফিরল গ্রাফিতি, মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরও ছাত্রদের ‘Reclaim the Wall’
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে রাজনৈতিক ও বিতর্কিত গ্রাফিতি মুছে সাদা রং করার এক দিনের মধ্যেই ফের দেখা গেল নতুন দেওয়াল লিখন। ‘Free Palestin…
শিক্ষা
শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক, চলতি উদ্যোগের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী বুধবার উচ্চশিক্ষা দফতর এবং স্কুলশিক্ষা ও সাক্ষরতা দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে আগে…
