শিক্ষা

জনগণনার কাজে যুক্ত শিক্ষকদের নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত! স্কুল সামলে নয়, বদলিও নয়—৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কী নির্দেশ বিকাশ ভবনের?

পশ্চিমবঙ্গে জনগণনার কাজে যুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে স্কুলশিক্ষা দফতর। ৮ সেপ্টেম্বরের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রথম দফার জনগণনা প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, জনগণনার কাজে নিযুক্ত শিক্ষক-কর্মীদের বদলি বা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছিল, জনগণনার কাজে শিক্ষককে প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে যেতে হবে, তবে তার জন্য স্কুলের পঠনপাঠন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

Share
জনগণনার কাজে যুক্ত শিক্ষকদের নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত! স্কুল সামলে নয়, বদলিও নয়—৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কী নির্দেশ বিকাশ ভবনের?

জনগণনার কাজ করবেন শিক্ষকরা, কিন্তু স্কুলের পড়াশোনাও যাতে ব্যাহত না হয়—নয়া নির্দেশ

কলকাতা: জনগণনা ২০২৭-এর কাজ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক মহলে ফের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা। জনগণনার কাজে যুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বদলি আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্কুলশিক্ষা দফতর। ৮ সেপ্টেম্বর জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, প্রথম দফার জনগণনা প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও আধিকারিকদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরানো বা বদলি করা হবে না। এই সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—এর অর্থ এই নয় যে শিক্ষকরা জনগণনার কাজ করবেন না। বরং জনগণনার দায়িত্ব বহাল থাকছে। একইসঙ্গে স্কুলের পঠনপাঠন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই ভারসাম্য বজায় রাখার নির্দেশই বারবার সামনে এসেছে।

নতুন নির্দেশে কী বলা হয়েছে?

বিকাশ ভবনের ৮ সেপ্টেম্বরের নির্দেশিকায় মূলত জনগণনার কাজে যুক্ত শিক্ষক ও কর্মীদের বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

অর্থাৎ যাঁরা বর্তমানে Census 2027-এর কাজে যুক্ত রয়েছেন, প্রথম দফার কাজ শেষ হওয়ার আগে তাঁদের বদলি বা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকছে।

প্রথম দফার জনগণনা কার্যক্রমের সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাহলে কি স্কুলের ক্লাস সামলে জনগণনার কাজ করতে হবে না?

এখানেই রয়েছে আসল বিষয়।

জনগণনার দায়িত্ব থেকে শিক্ষকরা অব্যাহতি পাচ্ছেন না। বরং কলকাতা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হয়েছে।

আগস্টে শিক্ষক সংগঠনগুলির মামলার শুনানিতে আদালত বলেছিল, Census কর্তৃপক্ষ কোনও শিক্ষককে কাজে নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের স্কুলের প্রধানকে কাজের তারিখ, সময় এবং স্থান জানাতে হবে। এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে শিক্ষককে জনগণনার কাজে যাওয়ার সুযোগ দেবে এবং প্রয়োজনে অন্য শিক্ষকদের দিয়ে ক্লাস চালু রাখার ব্যবস্থা করবে।

অর্থাৎ লক্ষ্য হল—শিক্ষক জনগণনার কাজও করবেন, আবার ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনাও যেন থমকে না যায়।

‘স্কুলের পর বা ছুটির দিনে Census’—পুরনো নির্দেশের কী হল?

এর আগে ৩ আগস্ট স্কুলশিক্ষা দফতরের একটি নির্দেশে বলা হয়েছিল, শিক্ষকরা যেন ক্লাসের পরে অথবা সপ্তাহান্তে জনগণনার কাজ করেন, যাতে স্কুলের পঠনপাঠন ব্যাহত না হয়। এই নির্দেশ নিয়েই শিক্ষক সংগঠনগুলির মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে রাজ্য সরকার ওই ৩ আগস্টের নির্দেশ প্রত্যাহার করে এবং ১৯ আগস্ট নতুন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানায়, জনগণনার কাজে শিক্ষকদের ব্যবহার করার সময় ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার স্বার্থ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ কী?

কলকাতা হাইকোর্ট বিষয়টি নিয়ে কার্যত একটি ভারসাম্যের পথ দেখিয়েছে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী—

  • Census কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন হলে শিক্ষককে জনগণনার কাজে নিতে পারবেন।

  • কাজের তারিখ, সময় ও স্থান স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

  • শিক্ষক জনগণনার কাজে গেলে স্কুলে বিকল্প শিক্ষক দিয়ে পঠনপাঠনের ব্যবস্থা করতে হবে।

  • Census duty-তে থাকা শিক্ষককে ‘On Duty’ হিসেবে গণ্য করতে হবে।

  • নির্দিষ্টভাবে Census duty দেওয়া হলে শিক্ষক সেই দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন না।

অর্থাৎ ‘স্কুল না Census’—এমন কোনও একটিকে বেছে নেওয়ার প্রশ্ন নেই। প্রশাসনের দায়িত্ব হল দু’টি কাজের মধ্যে সমন্বয় করা।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত?

Census 2027-এর কাজ ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে। কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ের self-enumeration হয়েছিল ১ থেকে ১৪ আগস্ট, আর House Listing Operations-এর সময়সীমা ছিল ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর। পুরো Census প্রক্রিয়ার reference date নির্ধারিত হয়েছে ১ মার্চ ২০২৭।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞে শিক্ষক ও সরকারি কর্মীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে তাঁদের বদলি, স্কুলের ক্লাস এবং Census duty—তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে সামলানো প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শিক্ষকদের জন্য এর অর্থ কী?

যে শিক্ষক ইতিমধ্যেই জনগণনার কাজে নিযুক্ত রয়েছেন, তাঁর ক্ষেত্রে এখন বদলির সম্ভাবনা আপাতত আটকে গেল—এমনটাই নতুন নির্দেশিকার মূল বক্তব্য।

তবে এর অর্থ এই নয় যে শিক্ষককে স্কুলের কাজ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। আবার Census-এর কাজের জন্য নিয়মিত ক্লাসও বন্ধ করা যাবে না।

প্রয়োজনে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিকল্প শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

শিক্ষকদের কি Census duty অস্বীকার করার সুযোগ আছে?

না। কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কোনও শিক্ষককে Census duty দেওয়া হলে সেই দায়িত্ব অস্বীকার করা যাবে না। তবে সেই শিক্ষক Census duty-তে গেলে তাঁকে On Duty হিসেবে গণ্য করতে হবে।

এতে শিক্ষক সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবিও স্পষ্ট হয়েছে—জনগণনার কাজকে তাঁদের নিয়মিত চাকরির বাইরে ব্যক্তিগত দায়িত্ব হিসেবে দেখা যাবে না।

এক নজরে নতুন পরিস্থিতি

বিষয়বর্তমান অবস্থানCensus dutyবহালশিক্ষক Census duty অস্বীকার করতে পারবেন?না, নির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব দেওয়া হলেCensus duty-তে শিক্ষকOn Duty হিসেবে গণ্যস্কুলের পড়াশোনাক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে নাবিকল্প শিক্ষকপ্রয়োজন হলে স্কুল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা করবেCensus-এ যুক্ত শিক্ষকদের বদলিপ্রথম দফার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞানতুন নির্দেশের সময়সীমা৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত

শেষ কথা

নতুন নির্দেশিকাকে ‘শিক্ষকদের দিয়ে স্কুল সামলে Census নয়’ হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি ঠিকভাবে ধরা হবে না। আসল সিদ্ধান্ত হল—জনগণনার কাজে যুক্ত শিক্ষকরা আপাতত বদলি হচ্ছেন না; একইসঙ্গে তাঁদের Census duty-ও বহাল থাকছে।

কলকাতা হাইকোর্টও স্পষ্ট করেছে, Census জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলেও তার জন্য স্কুলের পড়াশোনা বন্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। তাই শিক্ষককে Census-এর কাজে পাঠানোর সময় স্কুলকে বিকল্প শিক্ষক দিয়ে পঠনপাঠন চালিয়ে যেতে হবে।

Enjoyed this story? Share it.

Share

Keep reading

More in শিক্ষা

সব দেখুন
রাজ্যে ৯৩৩ পড়ুয়াহীন স্কুল! শূন্য পড়ুয়ার স্কুল নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সরকারের
Breaking

শিক্ষা

রাজ্যে ৯৩৩ পড়ুয়াহীন স্কুল! শূন্য পড়ুয়ার স্কুল নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সরকারের

পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পড়ুয়াশূন্য থাকা প্রায় ৯৩৩টি স্কুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের পথে রাজ্য সরকার। স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জা…

2 min read
8th Pay Commission: বছরে ৪ বার হবে DA বৃদ্ধি? অষ্টম বেতন কমিশনে নতুন কী খবর, জানুন সব আপডেট

শিক্ষা

8th Pay Commission: বছরে ৪ বার হবে DA বৃদ্ধি? অষ্টম বেতন কমিশনে নতুন কী খবর, জানুন সব আপডেট

অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়ছে। বছরে চারবার DA বৃদ্ধির খবর ঘুরলেও এখনও এমন কোনও সরকারি স…

3 min read
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আধিকারিক ও কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে বড় বদল! ২১ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নবান্নের নতুন উদ্যোগ

শিক্ষা

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আধিকারিক ও কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে বড় বদল! ২১ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নবান্নের নতুন উদ্যোগ

রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষক, আধিকারিক ও অশিক্ষক কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিচালনায় অভিন্ন আইনি কাঠামো আনার উদ্যোগ নিয়েছে নবান্ন। ‘দ্য…

2 min read
সরকারি স্কুলে উপস্থিতি সিস্টেমে বিরাট বদল, পড়ুয়া অনুপস্থিত হলেই অভিভাবকের মোবাইলে যাবে SMS

শিক্ষা

সরকারি স্কুলে উপস্থিতি সিস্টেমে বিরাট বদল, পড়ুয়া অনুপস্থিত হলেই অভিভাবকের মোবাইলে যাবে SMS

সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের উপস্থিতি নজরদারিতে বড়সড় পরিবর্তন। নতুন ব্যবস্থায় কোনও পড়ুয়া স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে তার অভিভাবকের মোবাইলে সরাসরি…

3 min read
যাদবপুরে সাদা করা দেওয়ালে ২৪ ঘণ্টায় ফিরল গ্রাফিতি, মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরও ছাত্রদের ‘Reclaim the Wall’

শিক্ষা

যাদবপুরে সাদা করা দেওয়ালে ২৪ ঘণ্টায় ফিরল গ্রাফিতি, মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরও ছাত্রদের ‘Reclaim the Wall’

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে রাজনৈতিক ও বিতর্কিত গ্রাফিতি মুছে সাদা রং করার এক দিনের মধ্যেই ফের দেখা গেল নতুন দেওয়াল লিখন। ‘Free Palestin…

2 min read
শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক, চলতি উদ্যোগের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা

শিক্ষা

শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক, চলতি উদ্যোগের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী বুধবার উচ্চশিক্ষা দফতর এবং স্কুলশিক্ষা ও সাক্ষরতা দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে আগে…

1 min read