অভিষেককে বিদেশে চোখের চিকিৎসার অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের, রাজ্যকে ভর্ৎসনা
চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে তিন সপ্তাহের জন্য বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করানোর অনুমতি দিয়েছে। আদালত জানায়, কোনও ব্যক্তির বিদেশ যাওয়ার অধিকার এবং নিজের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। রাজ্যের আপত্তি নিয়েও আদালত স্পষ্ট করে দেয়, কোথায় চিকিৎসা হবে তা নির্ধারণ করা রাজ্যের কাজ নয়।
লিখেছেন
Priya Jana
অভিষেককে বিদেশে চোখের চিকিৎসার অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের, রাজ্যকে ভর্ৎসনা: ‘চিকিৎসা কোথায় হবে, তা আপনারা ঠিক করতে পারেন না’
নয়াদিল্লি: চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার, ১০ অগস্ট, সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে তিন সপ্তাহের জন্য বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করানোর অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে কলকাতা হাইকোর্টের আগের নির্দেশের কারণে তৈরি হওয়া আইনি বাধা আপাতত কাটল।
অভিষেকের বিদেশযাত্রার আবেদনের বিরোধিতা করেছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সেই আপত্তির প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, একজন ব্যক্তি নিজের চিকিৎসার জন্য কোন হাসপাতালে যাবেন, তা বেছে নেওয়ার অধিকার রাখেন। বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করানোর বিষয়েও আদালত ব্যক্তিগত স্বাধীনতার দিকটি গুরুত্ব দিয়েছে।
তিন সপ্তাহ বিদেশে থাকার অনুমতি
সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে তিন সপ্তাহের জন্য বিদেশে যেতে পারবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বাম চোখের নীচে আঘাতজনিত সমস্যার চিকিৎসার জন্যই বিদেশে যাওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। আদালতের নথিতে সমস্যাটিকে ‘ব্লান্ট ট্রমা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন অভিষেক। কিন্তু সেখানে তাঁকে প্রথমে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দিয়ে পরীক্ষা করানোর কথা বলা হয়। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, কলকাতাতেও উন্নত চক্ষু চিকিৎসার পরিকাঠামো রয়েছে এবং বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা আগে যাচাই করা দরকার।
হাইকোর্টে ধাক্কার পর সুপ্রিম কোর্টে অভিষেক
কলকাতা হাইকোর্টের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য ছিল, চোখের সমস্যার জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রয়োজন এবং তিনি বিদেশে সেই চিকিৎসা করাতে চান। ২৪ জুলাই সুপ্রিম কোর্টে আবেদনটি দাখিল করা হয়েছিল।
মামলাটি চলমান তদন্তের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাঁর বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি প্রয়োজন ছিল। এর আগে হাইকোর্ট অভিষেককে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছিল এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশে যেতে নিষেধ করেছিল।
‘চিকিৎসার জায়গা বেছে নেওয়া ব্যক্তির অধিকার’
সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আদালত জানিয়েছে, প্রত্যেক ব্যক্তির বিদেশ ভ্রমণের মৌলিক অধিকার রয়েছে এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোন হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্র বেছে নেওয়া হবে, সেটিও ব্যক্তির সিদ্ধান্তের অংশ।
রাজ্যের পক্ষ থেকে চিকিৎসা ভারতে করানোর যুক্তি তোলা হলেও আদালত সেই যুক্তিকে গ্রহণ করেনি। আদালতের বক্তব্যের মূল সুর ছিল—কোনও ব্যক্তির চিকিৎসা কোথায় হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব প্রশাসনের নয়।
কেন বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে এত টানাপড়েন?
অভিষেকের বিদেশযাত্রার বিষয়টি শুধু চিকিৎসার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁর বিরুদ্ধে চলমান একটি মামলার তদন্তের কারণে বিদেশযাত্রায় আদালতের অনুমতির শর্ত ছিল। সেই কারণেই বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি পেতে তাঁকে প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়।
২০ জুলাই কলকাতা হাইকোর্ট বিদেশে চিকিৎসার জন্য তাঁর জরুরি আবেদন গ্রহণ করেনি। আদালত কলকাতায় চিকিৎসার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে এসএসকেএমের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেছিল। পরে ৩০ জুলাই অভিষেক সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান।
সুপ্রিম কোর্টের সোমবারের নির্দেশে সেই আইনি জটিলতার গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়ের অবসান হল। এখন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদেশে গিয়ে চোখের চিকিৎসা করাতে পারবেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা।
রাজনৈতিক মহলেও নজর অভিষেকের বিদেশযাত্রায়
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রার অনুমতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ফলে চিকিৎসার কারণে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও মামলাগুলির আইনি প্রক্রিয়া বা তদন্ত বন্ধ হচ্ছে না।
সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত মূলত তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি। আদালতের এই নির্দেশকে তাই চলমান তদন্তে কোনও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
অন্যদিকে, আদালতের পর্যবেক্ষণ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, বিদেশে চিকিৎসা এবং একজন নাগরিকের চিকিৎসার পছন্দের অধিকার নিয়ে বৃহত্তর আইনি প্রশ্নও সামনে এনেছে। এই মামলায় আপাতত স্পষ্ট—চিকিৎসার প্রয়োজন থাকলে কোথায় চিকিৎসা নেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্তে ব্যক্তির পছন্দকে আদালত যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে।
Keep reading
More in রাজনীতি
রাজনীতি
স্টোল থেকে একই মঞ্চে: রাজনৈতিক টানাপোড়েন পেরিয়েও মমতা-সোনিয়ার সম্পর্ক
দিল্লিতে INDIA ব্লকের সাম্প্রতিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সোনিয়া গান্ধীর উষ্ণ মুহূর্ত ফের নজর কেড়েছে। মমতা সোনিয়াকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আনা…

রাজনীতি
Gyanesh Kumar ও SIR ইস্যুতে ৪ অক্টোবর মুম্বইয়ে প্রতিবাদ মিছিল, যোগ দেবে NCP-SP ও কংগ্রেস
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকার Special Intensive Revision (SIR)-কে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে ৪ অক্টোবর মুম্বইয়ে প্রস্তাবিত…
রাজনীতি
কর্ণাটকে SIR নিয়ে নতুন বিতর্ক, Form 7-এ ভোটার বাদ দেওয়ার তথ্য চাইলেন শিবকুমার
কর্ণাটকে চলা Special Intensive Revision (SIR) নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার Form 7-এর মাধ্যমে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার আবে…
রাজনীতি
‘ইস্তফা জনতা পার্টি’ কটাক্ষ রামদাস আঠাওয়ালের, CEC জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি ঘিরে বিতর্ক
CEC জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যে CJP-কে ‘ইস্তফা জনতা পার্টি’ বলে কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী…
রাজনীতি
SIR বিতর্কে কংগ্রেসের ৫ দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও CEC-এর পদত্যাগ চাইল দল
নির্বাচন কমিশনের Special Intensive Revision বা SIR ঘিরে চলা বিতর্কের মধ্যে মঙ্গলবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি একাধিক দাবি তুলেছে। দলের পক্ষ থেক…
রাজনীতি
রেভন্থ রেড্ডির ‘ধনী-গরিবের ঈশ্বর’ মন্তব্যে বিতর্ক, তীব্র আক্রমণ BJP-র
তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেভন্থ রেড্ডি ভগবান রামকে ‘ধনীদের ঈশ্বর’ এবং ভগবান শিবকে ‘গরিবদের ঈশ্বর’ হিসেবে উল্লেখ করায় রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হ…
