জাতীয়

নানা পাটেকরের শেষ কয়েক ঘণ্টা: হার্ট অ্যাটাক নাকি কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট? কেন প্রতিটি মিনিট এত গুরুত্বপূর্ণ

প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকর ৮ অক্টোবর ২০২৬ সকালে গোয়ায় ৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্র অনুযায়ী, তিনি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হন এবং তাঁকে প্রায় ৪৫ মিনিট CPR ও কার্ডিয়াক ম্যাসাজ দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে ফেরানো যায়নি। Reuters তাঁর শেষ সময়ের ঘটনাপ্রবাহ সামনে আসার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে হার্ট অ্যাটাক ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পার্থক্য এবং জরুরি অবস্থায় প্রতিটি মিনিটের গুরুত্ব। WHO-র মতে, হার্ট অ্যাটাকে হৃদপেশিতে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং যত বেশি সময় রক্তপ্রবাহ ব্যাহত থাকে, তত বেশি হৃদপেশির ক্ষতি হতে পারে।

Share
নানা পাটেকরের শেষ কয়েক ঘণ্টা: হার্ট অ্যাটাক নাকি কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট? কেন প্রতিটি মিনিট এত গুরুত্বপূর্ণ

নানা পাটেকরের মৃত্যু ঘিরে বড় প্রশ্ন: সময়মতো চিকিৎসা পেলে কি তাঁকে বাঁচানো যেত?

৮ অক্টোবর ২০২৬। সকাল হওয়ার আগেই ছড়িয়ে পড়ে বলিউডের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর। ৭৫ বছর বয়সে গোয়ার নিজের বাসভবনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা দীর্ঘ সময় ধরে CPR এবং কার্ডিয়াক ম্যাসাজ দিয়ে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

তবে নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর শুধু বিনোদন জগতের জন্য শোকের খবর নয়। তাঁর শেষ কয়েক ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসচেতনতার প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে।

হার্ট অ্যাটাক আর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট কি একই জিনিস?

কেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই CPR শুরু করা জরুরি?

বুকে ব্যথা শুরু হওয়ার পর হাসপাতালে পৌঁছতে দেরি হলে কী হতে পারে?

আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কেউ যদি হার্টের সমস্যার কথা জানান, তখন পরিবারের সদস্য বা কাছের মানুষের ঠিক কী করা উচিত?

চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য বলছে, এই পরিস্থিতিতে সময়ই সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর।


নানা পাটেকরের শেষ সময়ের ঘটনাপ্রবাহ কী?

প্রকাশিত চিকিৎসা ও সংবাদসূত্র অনুযায়ী, নানা পাটেকর বৃহস্পতিবার ভোরে অসুস্থ বোধ করছিলেন। তিনি রাতের দিকে এক বন্ধুকে বার্তা পাঠিয়ে অসুস্থতার কথা জানিয়েছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সময়ের ক্ষেত্রে সামান্য পার্থক্য রয়েছে; তবে চিকিৎসকদের বর্ণনা অনুযায়ী, পরে তাঁর বন্ধু তাঁর বাসভবনে পৌঁছে তাঁকে ঘামতে এবং ধীরে ধীরে অচেতন হয়ে যেতে দেখেন।

এরপর জরুরি চিকিৎসা সহায়তা চাওয়া হয়। মেডিক্যাল টিম বাসভবনে পৌঁছে তাঁকে CPR দেওয়ার চেষ্টা শুরু করে। পরে তাঁকে গোয়ার Manipal Hospital-এ নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে CPR এবং কার্ডিয়াক ম্যাসাজ চালালেও তাঁকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হয়নি।

হাসপাতালের চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে প্রায় ভোর ৪টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে হাসপাতালে আনা হয়েছিল এবং সকাল সাড়ে ৫টার কাছাকাছি তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় মেডিকো-লিগ্যাল প্রক্রিয়া এবং পোস্টমর্টেমের কথাও জানানো হয়েছে। ফলে মৃত্যুর নির্দিষ্ট মেডিক্যাল কারণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা ও তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করবে।


হার্ট অ্যাটাক আর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট—পার্থক্য কোথায়?

এই দুটি শব্দকে অনেক সময় একই অর্থে ব্যবহার করা হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানে Heart Attack এবং Cardiac Arrest এক নয়।

হার্ট অ্যাটাক কী?

হার্ট অ্যাটাক সাধারণত ঘটে যখন হৃদযন্ত্রের কোনও অংশে রক্ত পৌঁছে দেওয়া করোনারি ধমনিতে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ কমে গেলে হৃদপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।

WHO বলছে, হার্ট অ্যাটাকে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হওয়ার পর হৃদপেশি কয়েক মিনিটের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করতে পারে। তাই এটি এমন একটি জরুরি অবস্থা, যেখানে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়।

কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট কী?

অন্যদিকে, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপে গুরুতর সমস্যা তৈরি হয়ে হৃৎপিণ্ড কার্যকরভাবে রক্ত পাম্প করা বন্ধ করে দেয়।

এর ফলে মানুষ হঠাৎ অচেতন হয়ে যেতে পারেন এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। American Heart Association-এর মতে, এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত CPR এবং প্রয়োজনে AED ব্যবহার জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।

সহজ ভাষায় বললে:

  • হার্ট অ্যাটাক = হৃদযন্ত্রে রক্তপ্রবাহের সমস্যা

  • কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট = হৃদযন্ত্রের পাম্পিং কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া

  • হার্ট অ্যাটাক কখনও কখনও কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণ হতে পারে

  • কিন্তু প্রতিটি হার্ট অ্যাটাক কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে পরিণত হয় না।


কেন প্রতিটি মিনিট এত গুরুত্বপূর্ণ?

এখানেই রয়েছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্র কার্যকরভাবে রক্ত পাম্প না করলে মস্তিষ্ক এবং শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিতে অক্সিজেন পৌঁছনো বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে উঠতে পারে।

American Heart Association-এর ২০২৫ সালের CPR নির্দেশিকাতেও দ্রুত CPR এবং দ্রুত defibrillation-এর গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ধরনের cardiac arrest-এ প্রথম shock দিতে যত দেরি হয়, বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা তত কমতে পারে।

অর্থাৎ, অ্যাম্বুলেন্স আসার অপেক্ষায় রোগীকে একা ফেলে রাখা নয়—প্রশিক্ষিত ব্যক্তি বা জরুরি নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত CPR শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


CPR কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

CPR বা Cardiopulmonary Resuscitation-এর মূল উদ্দেশ্য হল কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সময় বুকের চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে শরীরে কিছুটা হলেও রক্তপ্রবাহ বজায় রাখা, যতক্ষণ না উন্নত চিকিৎসা বা defibrillation-এর ব্যবস্থা হচ্ছে।

American Heart Association বলছে, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে অবিলম্বে CPR শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দ্রুত CPR শুরু করলে হাসপাতালের বাইরে cardiac arrest-এর ক্ষেত্রে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা দ্বিগুণ বা তিনগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—CPR মানেই রোগী নিশ্চিতভাবে বেঁচে যাবেন, এমন নয়।

CPR একটি জীবনরক্ষাকারী জরুরি পদক্ষেপ। রোগীর বয়স, cardiac rhythm, arrest-এর কারণ, CPR শুরু হতে কত সময় লেগেছে এবং defibrillation কত দ্রুত হয়েছে—সবকিছু ফলাফলে প্রভাব ফেলে।

নানা পাটেকরের ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা দীর্ঘ সময় CPR এবং কার্ডিয়াক ম্যাসাজ করার পরও তাঁকে বাঁচাতে পারেননি। তাই শুধু CPR দেওয়া হয়েছিল কি না, তার ভিত্তিতে কারও জীবন বাঁচানো সম্ভব ছিল কি না—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো চিকিৎসাবিজ্ঞানের দিক থেকে ঠিক নয়।


হার্ট অ্যাটাকের কোন লক্ষণগুলি একেবারেই অবহেলা করবেন না?

হার্ট অ্যাটাক সবসময় সিনেমার মতো তীব্র বুকের ব্যথা দিয়ে শুরু হয় না। অনেক সময় উপসর্গ ধীরে শুরু হতে পারে বা আসা-যাওয়া করতে পারে।

American Heart Association-এর মতে, গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী লাগা বা ব্যথা

  • এক বা দুই হাতে অস্বস্তি বা ব্যথা

  • পিঠ, ঘাড়, চোয়াল বা পেটের দিকে ব্যথা

  • শ্বাসকষ্ট

  • ঠান্ডা ঘাম

  • বমি বমি ভাব

  • মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগা

  • অস্বাভাবিক ক্লান্তি

  • দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন

বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে উপসর্গ সবসময় একই রকম নাও হতে পারে। তাই বুকের অস্বস্তিকে গ্যাস বা সাধারণ দুর্বলতা ভেবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।


এমন পরিস্থিতিতে কী করবেন?

কারও মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলে প্রথম কাজ হল জরুরি চিকিৎসা সহায়তা চাওয়া।

আর যদি ব্যক্তি হঠাৎ অচেতন হয়ে যান এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নেন, তাহলে পরিস্থিতি কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে। তখন:

  1. দ্রুত জরুরি পরিষেবায় ফোন করুন।

  2. ব্যক্তির সাড়া এবং স্বাভাবিক শ্বাস পরীক্ষা করুন।

  3. প্রশিক্ষণ থাকলে বা জরুরি পরিষেবার নির্দেশনা অনুযায়ী CPR শুরু করুন।

  4. কাছাকাছি AED থাকলে সেটি ব্যবহার করুন এবং ডিভাইসের নির্দেশ অনুসরণ করুন।

  5. চিকিৎসক বা জরুরি টিম না আসা পর্যন্ত জীবনরক্ষাকারী পদক্ষেপ চালিয়ে যান।

American Heart Association-এর “Chain of Survival”-এ cardiac arrest-এর ক্ষেত্রে দ্রুত শনাক্তকরণ, জরুরি সাহায্য ডাকা, CPR, দ্রুত defibrillation এবং উন্নত চিকিৎসাকে একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে ধরা হয়েছে।


নিজের গাড়িতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কি সবসময় ভালো সিদ্ধান্ত?

বুকে ব্যথা বা হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহ হলে অনেকে অ্যাম্বুলেন্সের বদলে নিজের গাড়িতে হাসপাতালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু জরুরি চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভব হলে জরুরি মেডিক্যাল পরিষেবায় যোগাযোগ করাই নিরাপদ।

কারণ অ্যাম্বুলেন্স টিম পথে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করতে পারে এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই জরুরি ব্যবস্থাপনা করতে পারে। American Heart Association-ও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি পরিষেবায় ফোন করার পরামর্শ দেয়।


“দুই ঘণ্টা তড়পে ছিলেন”—এই দাবি নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি

নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর শেষ সময় নিয়ে নানা দাবি সামনে আসছে। কিন্তু “দুই ঘণ্টা ধরে তড়পে ছিলেন” বা নির্দিষ্ট সময় ধরে তিনি চিকিৎসাহীন অবস্থায় ছিলেন—এমন কোনও দাবিকে চূড়ান্ত চিকিৎসা-তথ্য হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

প্রকাশিত চিকিৎসা বিবরণে রাতের অসুস্থতার বার্তা, পরে বন্ধুর পৌঁছনো, বাড়িতে CPR শুরু এবং হাসপাতালে চিকিৎসার চেষ্টা—এই ঘটনাগুলির কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সময়ের বর্ণনায়ও কিছু পার্থক্য রয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সময়মতো চিকিৎসা পেলে নিশ্চিতভাবে বাঁচানো যেত কি না, তা কেবল ঘটনাস্থলের সম্পূর্ণ মেডিক্যাল তথ্য, cardiac rhythm, arrest-এর কারণ এবং চিকিৎসা-রেকর্ড বিশ্লেষণ করেই বলা সম্ভব।


সাধারণ মানুষের জন্য বড় শিক্ষা কী?

নানা পাটেকরের মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিল, হৃদরোগের ক্ষেত্রে “আর একটু দেখি”, “গ্যাস হতে পারে”, “সকাল হলে ডাক্তার দেখাব”—এই ধরনের সিদ্ধান্ত বিপজ্জনক হতে পারে।

WHO-র সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, হার্ট অ্যাটাকে যত বেশি সময় হৃদপেশি পর্যাপ্ত রক্ত থেকে বঞ্চিত থাকে, ক্ষতির ঝুঁকি তত বাড়ে। তাই দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে বিষয়টি আরও জরুরি। সেখানে রোগী অচেতন এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে দ্রুত CPR ও defibrillation-এর ব্যবস্থা করা জীবন বাঁচানোর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে।


নানা পাটেকরের মৃত্যু থেকে যে ৫টি বিষয় মনে রাখা জরুরি

১. হার্ট অ্যাটাক ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এক নয়।
দুটি ভিন্ন চিকিৎসা পরিস্থিতি হলেও একটির সঙ্গে অন্যটির সম্পর্ক থাকতে পারে।

২. বুকের অস্বস্তি অবহেলা করবেন না।
চাপ, ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঘাম বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

৩. কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অচেতন ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে দ্রুত CPR শুরু করা জরুরি।

৪. AED একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবনরক্ষাকারী যন্ত্র।
উপযুক্ত পরিস্থিতিতে দ্রুত defibrillation বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।

৫. গুজব নয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্যকে গুরুত্ব দিন।
নানা পাটেকরের ক্ষেত্রে ঠিক কতটা সময় চিকিৎসার বাইরে কেটেছিল বা আগে চিকিৎসা পেলে ফলাফল কী হত—এমন সিদ্ধান্ত প্রমাণ ছাড়া দেওয়া ঠিক নয়।


উপসংহার: নানা পাটেকরের মৃত্যু শুধু শোকের খবর নয়, বড় সতর্কবার্তাও

নানা পাটেকরের আকস্মিক মৃত্যু ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের জন্য নিঃসন্দেহে এক বড় ধাক্কা। কিন্তু তাঁর শেষ সময়ের ঘটনাপ্রবাহ সাধারণ মানুষের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রেখে গেল।

হার্টের সমস্যা কখনও “পরে দেখব” ধরনের বিষয় নয়।

বুকে অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। আর কেউ হঠাৎ অচেতন হয়ে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ধরে নিয়ে দ্রুত জরুরি সহায়তা, CPR এবং সম্ভব হলে AED ব্যবহারের ব্যবস্থা করা জরুরি।

নানা পাটেকরকে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি। কিন্তু তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হতে পারে অন্য কারও ক্ষেত্রে একটি মিনিটও নষ্ট না করা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, হৃদরোগের জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপই অনেক সময় জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য তৈরি করতে পারে।

নোট: এই প্রতিবেদনটি স্বাস্থ্যসচেতনতার উদ্দেশ্যে। কোনও ব্যক্তির নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও সরকারি মেডিক্যাল রিপোর্টের ভিত্তিতেই গ্রহণ করা উচিত।

Enjoyed this story? Share it.

Share

Keep reading

More in জাতীয়

সব দেখুন
‘You saved everyone’: Smit Machchhar-এর সাহসে মুগ্ধ PM Modi, বললেন—‘ভারতীয় পাইলটদের সম্মানও রক্ষা করেছেন’

জাতীয়

‘You saved everyone’: Smit Machchhar-এর সাহসে মুগ্ধ PM Modi, বললেন—‘ভারতীয় পাইলটদের সম্মানও রক্ষা করেছেন’

ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানে মাঝআকাশে ভয়াবহ হামলার পর পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে ফোন করে তাঁর সাহস, উপস্থিত বুদ্ধি ও মানসিক দৃঢ়তার প্রশংস…

2 min read
‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ প্যানেলের প্রস্তাব খারিজ, CJI সূর্য কান্ত ও অন্যান্য বিচারপতির সঙ্গে হবে না বৈঠক

জাতীয়

‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ প্যানেলের প্রস্তাব খারিজ, CJI সূর্য কান্ত ও অন্যান্য বিচারপতির সঙ্গে হবে না বৈঠক

‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ সংক্রান্ত বিল পরীক্ষা করা যৌথ সংসদীয় কমিটির সঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বর্তমান বি…

2 min read
মুম্বইয়ে অভিজিৎ দিপকেকে আটক করার খবর অস্বীকার CJP-র, Gyanesh Kumar-কে নিশানা

জাতীয়

মুম্বইয়ে অভিজিৎ দিপকেকে আটক করার খবর অস্বীকার CJP-র, Gyanesh Kumar-কে নিশানা

মুম্বইয়ে প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আগে Cockroach Janta Party (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেকে পুলিশ আটক করেছে—এমন খবর অস্বীকার করেছে দলটি। CJP-র…

2 min read
‘দেশের ভবিষ্যৎ মানুষই ঠিক করবেন’, জন্তর মন্তর বিক্ষোভের আগে বললেন AISA-র নেত্রী নেহা বোরাই

জাতীয়

‘দেশের ভবিষ্যৎ মানুষই ঠিক করবেন’, জন্তর মন্তর বিক্ষোভের আগে বললেন AISA-র নেত্রী নেহা বোরাই

জন্তর মন্তরে ২ অক্টোবরের প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আগে All India Students' Association (AISA)-এর জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাই নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম…

2 min read
জন্তর মন্তর বিক্ষোভে অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ, বাড়ানো হল নিরাপত্তা

জাতীয়

জন্তর মন্তর বিক্ষোভে অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ, বাড়ানো হল নিরাপত্তা

জন্তর মন্তরে ২ অক্টোবর প্রস্তাবিত বিক্ষোভের জন্য কোনও সংগঠনকেই অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। Special Intensive Revision (SIR)…

2 min read
দিল্লিতে MCD-র পার্ক বুকিংয়ের নিয়ম বদল, ৫ বছরের ইভেন্ট ইতিহাস থাকলে মিলবে অনুমতি

জাতীয়

দিল্লিতে MCD-র পার্ক বুকিংয়ের নিয়ম বদল, ৫ বছরের ইভেন্ট ইতিহাস থাকলে মিলবে অনুমতি

দিল্লির মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (MCD) পার্কে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের বুকিংয়ের নিয়মে পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়মে কোনও ornamental park-এ অন্…

3 min read