BJP Parliamentary Board Rejig: পার্লামেন্টারি বোর্ডে বড় রদবদল, জায়গা পেতে পারেন ৪ মুখ্যমন্ত্রী
বিজেপির সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা পার্লামেন্টারি বোর্ডে শীঘ্রই বড় রদবদল হতে পারে। দলের নতুন সাংগঠনিক কাঠামো ঘোষণার পর এবার নজর পড়েছে এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার দিকে। সূত্রের খবর, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার মতো একাধিক মুখ্যমন্ত্রীর নাম সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
লিখেছেন
Priya Jana
নয়াদিল্লি: বিজেপির সাংগঠনিক স্তরে বড়সড় পরিবর্তনের পর এবার দলের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা পার্লামেন্টারি বোর্ডেও রদবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নতুন জাতীয় সভাপতি নীতিন নাবিনের দল ঘোষণার পর থেকেই বোর্ডের সম্ভাব্য পুনর্গঠন নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বিজেপির অন্দরের খবর, আগামী বিধানসভা নির্বাচনগুলির কথা মাথায় রেখে বোর্ডে অভিজ্ঞতা, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
আলোচনায় একাধিক মুখ্যমন্ত্রীর নাম
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এবার বিজেপির পার্লামেন্টারি বোর্ডে মুখ্যমন্ত্রীদের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য নামের তালিকায় রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তিনজনকে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যোগী আদিত্যনাথের অন্তর্ভুক্তি হলে তা বিজেপির জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর গুরুত্ব আরও বাড়ার ইঙ্গিত দেবে। বিশেষ করে ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন সামনে থাকায় তাঁর সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক ভূমিকা ইতিমধ্যেই জাতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে দেবেন্দ্র ফড়নবীসকে বিজেপির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে দেখা হয়। মহারাষ্ট্রের মতো বড় রাজ্যে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি জোট রাজনীতির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। ফলে তাঁকে পার্লামেন্টারি বোর্ডে জায়গা দেওয়া হলে তা কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তাঁর গুরুত্ব বৃদ্ধির বার্তা দিতে পারে।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নামও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর-পূর্ব ভারতে বিজেপির বিস্তার এবং দলের জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাঁকে বোর্ডে আনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তাঁর অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ পার্লামেন্টারি বোর্ড?
বিজেপির পার্লামেন্টারি বোর্ড দলের অন্যতম ক্ষমতাশালী সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা। মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সুপারিশ, জোট সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, নীতি নির্ধারণ এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বিষয়ে এই বোর্ডের ভূমিকা রয়েছে। বোর্ডের সদস্যরা কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সঙ্গেও যুক্ত থাকেন, ফলে নির্বাচনী প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও তাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নাবিন এবং জেপি নাড্ডার মতো শীর্ষ নেতারা বোর্ডে রয়েছেন। এর পাশাপাশি বিএস ইয়েদুরাপ্পা, সর্বানন্দ সোনোয়াল, কে লক্ষ্মণ, ইকবাল সিংহ লালপুরা, সত্যনারায়ণ জাটিয়া ও সুধা যাদবও বর্তমান কাঠামোর অংশ।
বদলাতে পারে পুরনো ‘মুখ্যমন্ত্রী নয়’ নীতি
মুখ্যমন্ত্রীদের পার্লামেন্টারি বোর্ডে অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নটি বিজেপির জন্য নতুন নয়। অতীতে নরেন্দ্র মোদী গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্য হয়েছিলেন। তবে ২০২২ সালে তৎকালীন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহানকে বোর্ড থেকে সরানোর পর মুখ্যমন্ত্রীদের এই সর্বোচ্চ সংস্থায় না রাখার একটি অলিখিত রীতি তৈরি হয়েছিল।
এর মূল যুক্তি ছিল, যে সংস্থা মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ের মতো সিদ্ধান্ত নেয়, সেই সংস্থায় কর্মরত মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় থাকলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে।
এবার সেই অবস্থান বদলানোর সম্ভাবনাই বিজেপির সাংগঠনিক রদবদলকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
সামনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন
২০২৭ সালে উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ, গুজরাত-সহ একাধিক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। ২০২৭-২৮ সালে পরপর বহু রাজ্যে নির্বাচনী লড়াইয়ের মুখে বিজেপি সংগঠনকে আরও সক্রিয় এবং নির্বাচনীভাবে কার্যকর করে তুলতে চাইছে বলে দলের অভ্যন্তরে আলোচনা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পার্লামেন্টারি বোর্ডে রাজ্যস্তরের শক্তিশালী নেতাদের অন্তর্ভুক্তি হলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং রাজ্য সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়তে পারে। একইসঙ্গে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ জাতীয় নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দেবে।
তবে চার মুখ্যমন্ত্রীই যে শেষ পর্যন্ত বোর্ডে জায়গা পাবেন, এমন কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। বোর্ডের আকার, বর্তমান সদস্যদের মধ্যে কারা থাকবেন এবং নতুন মুখ হিসেবে কাদের নেওয়া হবে—সবকিছু নিয়েই বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে। ফলে আগামী দিনে পার্লামেন্টারি বোর্ডের নতুন তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত জল্পনা অব্যাহত থাকবে।
Keep reading
More in রাজনীতি
রাজনীতি
স্টোল থেকে একই মঞ্চে: রাজনৈতিক টানাপোড়েন পেরিয়েও মমতা-সোনিয়ার সম্পর্ক
দিল্লিতে INDIA ব্লকের সাম্প্রতিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সোনিয়া গান্ধীর উষ্ণ মুহূর্ত ফের নজর কেড়েছে। মমতা সোনিয়াকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আনা…

রাজনীতি
Gyanesh Kumar ও SIR ইস্যুতে ৪ অক্টোবর মুম্বইয়ে প্রতিবাদ মিছিল, যোগ দেবে NCP-SP ও কংগ্রেস
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকার Special Intensive Revision (SIR)-কে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে ৪ অক্টোবর মুম্বইয়ে প্রস্তাবিত…
রাজনীতি
কর্ণাটকে SIR নিয়ে নতুন বিতর্ক, Form 7-এ ভোটার বাদ দেওয়ার তথ্য চাইলেন শিবকুমার
কর্ণাটকে চলা Special Intensive Revision (SIR) নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার Form 7-এর মাধ্যমে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার আবে…
রাজনীতি
‘ইস্তফা জনতা পার্টি’ কটাক্ষ রামদাস আঠাওয়ালের, CEC জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি ঘিরে বিতর্ক
CEC জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যে CJP-কে ‘ইস্তফা জনতা পার্টি’ বলে কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী…
রাজনীতি
SIR বিতর্কে কংগ্রেসের ৫ দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও CEC-এর পদত্যাগ চাইল দল
নির্বাচন কমিশনের Special Intensive Revision বা SIR ঘিরে চলা বিতর্কের মধ্যে মঙ্গলবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি একাধিক দাবি তুলেছে। দলের পক্ষ থেক…
রাজনীতি
রেভন্থ রেড্ডির ‘ধনী-গরিবের ঈশ্বর’ মন্তব্যে বিতর্ক, তীব্র আক্রমণ BJP-র
তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেভন্থ রেড্ডি ভগবান রামকে ‘ধনীদের ঈশ্বর’ এবং ভগবান শিবকে ‘গরিবদের ঈশ্বর’ হিসেবে উল্লেখ করায় রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হ…
