সরকারের সোশ্যাল মিডিয়া রিপোর্ট কার্ডে শীর্ষে প্রধানমন্ত্রী মোদি, মন্ত্রীদের পারফরম্যান্সে নতুন নজর
সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্ত্রীদের সক্রিয়তা ও জনসংযোগকে আরও গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সাম্প্রতিক ডিজিটাল পারফরম্যান্স মূল্যায়নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনলাইন উপস্থিতি সবচেয়ে শক্তিশালী বলে উঠে এসেছে। একই সময়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য ইনস্টাগ্রাম-সহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছেন। বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, যুব সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এখন সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।
লিখেছেন
Priya Jana
সোশ্যাল মিডিয়াতেই নতুন রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, শীর্ষে প্রধানমন্ত্রী মোদি
নয়াদিল্লি: রাজনীতির প্রচলিত ময়দান এখন অনেকটাই বদলে গিয়েছে। জনসভা, সংবাদ সম্মেলন ও টেলিভিশনের পাশাপাশি ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া। সেই পরিবর্তিত বাস্তবতায় কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীদের ডিজিটাল উপস্থিতি ও সোশ্যাল মিডিয়া পারফরম্যান্সও এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
সাম্প্রতিক মূল্যায়নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ডিজিটাল উপস্থিতি ও জনসম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে সরকারের নতুন করে জোর দেওয়ার প্রেক্ষাপটে মন্ত্রীদের সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকলাপও বেড়েছে।
মন্ত্রীদের ডিজিটাল সক্রিয়তায় নজর
India Today-এর একটি OSINT বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জুলাইয়ের দ্বিতীয়ার্ধে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার ৩০ জন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মধ্যে ১১ জন তাঁদের ইনস্টাগ্রাম কার্যকলাপ বাড়িয়েছিলেন। ওই সময়ে মন্ত্রীদের মোট পোস্টের সংখ্যা প্রায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। বিশ্লেষণটি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট বাদ দিয়ে করা হয়েছিল।
পোস্টের সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কয়েকজন মন্ত্রীর কার্যকলাপে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়। তবে শুধু পোস্টের সংখ্যা নয়, লাইক, কমেন্ট, শেয়ার এবং সামগ্রিক এনগেজমেন্টও ডিজিটাল প্রভাব নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠছে।
কারা সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি সক্রিয়?
ওই বিশ্লেষণে সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়নমন্ত্রী বিরেন্দ্র কুমারের পোস্টের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য এবং বন্দর, জাহাজ ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের ইনস্টাগ্রাম কার্যকলাপেও বড় বৃদ্ধি দেখা যায়। পাশাপাশি এস. জয়শঙ্কর, গিরিরাজ সিং, কিরেন রিজিজু, মনোহর লাল এবং অন্যান্য কয়েকজন মন্ত্রীও ডিজিটাল উপস্থিতি বাড়িয়েছেন।
অন্যদিকে, এনগেজমেন্টের নিরিখে প্রহ্লাদ যোশী ও চিরাগ পাসোয়ানের মতো নেতারা উল্লেখযোগ্য সাড়া পেয়েছেন। অমিত শাহ, অশ্বিনী বৈষ্ণব, এস. জয়শঙ্কর, রামমোহন নাইডু, এইচ ডি কুমারস্বামী এবং শিবরাজ সিং চৌহানও শক্তিশালী ডিজিটাল উপস্থিতি বজায় রেখেছেন।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ইনস্টাগ্রাম?
ভারতের রাজনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইনস্টাগ্রাম, শর্ট ভিডিও এবং ব্যক্তিগত ধাঁচের কনটেন্ট ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী মোদিও তরুণ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ইনস্টাগ্রামে আরও সক্রিয় হয়েছেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যুব সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে সরকার ও বিজেপির ডিজিটাল কৌশলে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
এই পরিবর্তনের ফলে মন্ত্রীদের কাছেও শুধু সরকারি বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করাই যথেষ্ট নয়। ছোট ভিডিও, ব্যক্তিগত বার্তা, ক্যামেরার সামনে সরাসরি কথা বলা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেওয়ার মতো কৌশলও ক্রমশ গুরুত্ব পাচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়া পারফরম্যান্সে মোদির আধিপত্য
ডিজিটাল যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদি দীর্ঘদিন ধরেই দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অন্যতম। একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে তাঁর বিপুল অনুসারী সংখ্যা এবং নিয়মিত জনসংযোগ তাঁকে অন্য মন্ত্রীদের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে রেখেছে।
সরকারি মন্ত্রীদের সাম্প্রতিক ডিজিটাল সক্রিয়তার প্রবণতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আগামী দিনে রাজনৈতিক পারফরম্যান্সের মূল্যায়নে সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মন্ত্রকের প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি নাগরিকদের সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ, সরকারি প্রকল্পের প্রচার এবং জনমত বোঝার ক্ষেত্রেও অনলাইন উপস্থিতিকে এখন কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সরকারি তালিকায় প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক মন্ত্রী রয়েছেন, যাঁদের ডিজিটাল যোগাযোগের ধরনেও এখন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক যোগাযোগের নতুন যুগ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া এখন আর শুধুমাত্র প্রচারের মাধ্যম নয়, এটি সরাসরি জনসংযোগের একটি শক্তিশালী ক্ষেত্র। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিশ্বাসযোগ্যতা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং স্বাভাবিক উপস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মন্ত্রীদের সোশ্যাল মিডিয়া পারফরম্যান্স নিয়ে এই নতুন গুরুত্ব তাই শুধু অনলাইন জনপ্রিয়তার প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সরকারের বার্তা কত দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে, কোন নেতা কতটা জনসম্পৃক্ততা তৈরি করতে পারছেন এবং ডিজিটাল রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় কে কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করছেন।
সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী মোদির শীর্ষস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি মন্ত্রীদের ডিজিটাল উপস্থিতির এই মূল্যায়ন কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
Keep reading
More in রাজনীতি
রাজনীতি
স্টোল থেকে একই মঞ্চে: রাজনৈতিক টানাপোড়েন পেরিয়েও মমতা-সোনিয়ার সম্পর্ক
দিল্লিতে INDIA ব্লকের সাম্প্রতিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সোনিয়া গান্ধীর উষ্ণ মুহূর্ত ফের নজর কেড়েছে। মমতা সোনিয়াকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আনা…

রাজনীতি
Gyanesh Kumar ও SIR ইস্যুতে ৪ অক্টোবর মুম্বইয়ে প্রতিবাদ মিছিল, যোগ দেবে NCP-SP ও কংগ্রেস
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকার Special Intensive Revision (SIR)-কে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে ৪ অক্টোবর মুম্বইয়ে প্রস্তাবিত…
রাজনীতি
কর্ণাটকে SIR নিয়ে নতুন বিতর্ক, Form 7-এ ভোটার বাদ দেওয়ার তথ্য চাইলেন শিবকুমার
কর্ণাটকে চলা Special Intensive Revision (SIR) নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার Form 7-এর মাধ্যমে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার আবে…
রাজনীতি
‘ইস্তফা জনতা পার্টি’ কটাক্ষ রামদাস আঠাওয়ালের, CEC জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি ঘিরে বিতর্ক
CEC জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যে CJP-কে ‘ইস্তফা জনতা পার্টি’ বলে কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী…
রাজনীতি
SIR বিতর্কে কংগ্রেসের ৫ দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও CEC-এর পদত্যাগ চাইল দল
নির্বাচন কমিশনের Special Intensive Revision বা SIR ঘিরে চলা বিতর্কের মধ্যে মঙ্গলবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি একাধিক দাবি তুলেছে। দলের পক্ষ থেক…
রাজনীতি
রেভন্থ রেড্ডির ‘ধনী-গরিবের ঈশ্বর’ মন্তব্যে বিতর্ক, তীব্র আক্রমণ BJP-র
তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেভন্থ রেড্ডি ভগবান রামকে ‘ধনীদের ঈশ্বর’ এবং ভগবান শিবকে ‘গরিবদের ঈশ্বর’ হিসেবে উল্লেখ করায় রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হ…
