'যাদবপুরের নাম পালটে নাথুরাম গডসে বিশ্ববিদ্যালয় করে দিন, ভিসি হোন শর্বরী', পাল্টা প্রস্তাব সৃজনের
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদল নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ঋষি অরবিন্দের নামে করার প্রস্তাব দেওয়ার পর পাল্টা কটাক্ষ করেছেন এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। তাঁর প্রস্তাব, ঋষি অরবিন্দ নয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নামই বদলে ‘নাথুরাম গডসে বিশ্ববিদ্যালয়’ করা হোক এবং শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে উপাচার্য করা হোক।
লিখেছেন
Priya Jana
কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ঋষি অরবিন্দের নামে করার দাবি তুলেছেন যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। অন্যদিকে সেই প্রস্তাবকে হাতিয়ার করেই পাল্টা তীব্র কটাক্ষ ছুড়লেন এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা বাম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য।
সৃজনের বক্তব্য, যদি নামই বদলাতে হয়, তাহলে ঋষি অরবিন্দের নাম নয়—যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ‘নাথুরাম গডসে বিশ্ববিদ্যালয়’ করে দেওয়া হোক। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীক বদলে বিনায়ক দামোদর সাভারকরের ‘মুচলেকার চিঠি’ বসানোর এবং শর্বরী মুখোপাধ্যায়কেই উপাচার্য করার কটাক্ষপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
কী বলেছিলেন শর্বরী?
বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিগুণা সেন মঞ্চে একটি বেদপাঠ ও জাতীয়তাবাদী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি দাবি করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে ঋষি অরবিন্দের গুরুত্বপূর্ণ যোগ রয়েছে। তাই তাঁর নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ হওয়া উচিত বলে মত দেন শর্বরী।
শুধু প্রস্তাব দিয়েই থামেননি তিনি। এই দাবির সমর্থনে প্রয়োজন হলে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী এবং প্রয়োজন পড়লে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের কাছেও আবেদন পাঠানোর কথা জানান তিনি।
‘অরবিন্দের নামে করলেও বিজেপির উদ্দেশ্য পূরণ হবে না’
শর্বরীর এই বক্তব্যের পরেই পাল্টা আক্রমণ করেন সৃজন ভট্টাচার্য। তাঁর যুক্তি, ঋষি অরবিন্দ ছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। ফলে তাঁর নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ করলেও বিজেপি বা আরএসএসের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।
সৃজনের অভিযোগ, বিজেপি বিভিন্ন রাস্তা ও প্রতিষ্ঠানের নাম বদলের মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক ভাবনা সামনে আনার চেষ্টা করে। সেই প্রসঙ্গেই তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবকে ব্যঙ্গ করে বলেন, “নাথুরাম গডসে বিশ্ববিদ্যালয়” করে দেওয়া হোক।
সাভারকরের ‘মুচলেকা’ নিয়েও কটাক্ষ
সৃজনের কটাক্ষ এখানেই থামেনি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী প্রতীকের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নন্দলাল বসুর আঁকা প্রতীক সরিয়ে তার জায়গায় সাভারকরের মুচলেকার চিঠি বসানো হোক।
পাশাপাশি শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করার কথাও বলেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্য যে মূলত শর্বরীর নামবদলের প্রস্তাবকে ব্যঙ্গ করেই দেওয়া, তা তাঁর বক্তব্যের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট থেকেই স্পষ্ট।
যাদবপুরকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে
নাম বদলের এই বিতর্ক এমন সময়ে সামনে এল, যখন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে একদিকে জাতীয়তাবাদী কর্মসূচি, অন্যদিকে বাম ছাত্র সংগঠনের মিছিল ও সমাবেশ ঘিরে দিনভর উত্তেজনা ছিল।
এর মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলের দাবি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শর্বরীর বক্তব্যের পাল্টা সৃজনের মন্তব্যে এখন বাম বনাম বিজেপি রাজনৈতিক সংঘাতের পাশাপাশি যাদবপুরের নাম ও ঐতিহ্য নিয়েও বিতর্ক সামনে এসেছে।
অরবিন্দ ঘোষের সঙ্গে যাদবপুরের যোগ কতটা?
ঋষি অরবিন্দ বা অরবিন্দ ঘোষের সঙ্গে যাদবপুরের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নামও অরবিন্দ ভবন। শর্বরী সেই ঐতিহাসিক যোগের কথাই তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম তাঁর নামে করার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে সৃজনের বক্তব্য, অরবিন্দ ছিলেন স্বদেশি আন্দোলন ও ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত স্বাধীনতা সংগ্রামী। তাই তাঁকে সামনে রেখে নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
নাম বদলের দাবি কি বাস্তবে সম্ভব?
বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্য বা কোনও জনসভায় প্রস্তাবের মাধ্যমে হয়ে যায় না। এর জন্য সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
এই মুহূর্তে তাই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি আপাতত রাজনৈতিক বক্তব্য, পাল্টা বক্তব্য এবং দাবি-প্রতিদাবির পর্যায়েই রয়েছে।
তবে শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের নাম বদলের দাবি এবং তার পরেই সৃজন ভট্টাচার্যের ‘গডসে বিশ্ববিদ্যালয়’ মন্তব্যে যাদবপুরকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক যে আরও তীব্র হল, তা বলাই যায়।
একদিকে ঋষি অরবিন্দের নাম, অন্যদিকে নাথুরাম গডসেকে ঘিরে পাল্টা কটাক্ষ—যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এখন বাংলার রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।
Keep reading
More in রাজনীতি
রাজনীতি
স্টোল থেকে একই মঞ্চে: রাজনৈতিক টানাপোড়েন পেরিয়েও মমতা-সোনিয়ার সম্পর্ক
দিল্লিতে INDIA ব্লকের সাম্প্রতিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সোনিয়া গান্ধীর উষ্ণ মুহূর্ত ফের নজর কেড়েছে। মমতা সোনিয়াকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আনা…

রাজনীতি
Gyanesh Kumar ও SIR ইস্যুতে ৪ অক্টোবর মুম্বইয়ে প্রতিবাদ মিছিল, যোগ দেবে NCP-SP ও কংগ্রেস
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকার Special Intensive Revision (SIR)-কে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে ৪ অক্টোবর মুম্বইয়ে প্রস্তাবিত…
রাজনীতি
কর্ণাটকে SIR নিয়ে নতুন বিতর্ক, Form 7-এ ভোটার বাদ দেওয়ার তথ্য চাইলেন শিবকুমার
কর্ণাটকে চলা Special Intensive Revision (SIR) নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার Form 7-এর মাধ্যমে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার আবে…
রাজনীতি
‘ইস্তফা জনতা পার্টি’ কটাক্ষ রামদাস আঠাওয়ালের, CEC জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি ঘিরে বিতর্ক
CEC জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যে CJP-কে ‘ইস্তফা জনতা পার্টি’ বলে কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী…
রাজনীতি
SIR বিতর্কে কংগ্রেসের ৫ দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও CEC-এর পদত্যাগ চাইল দল
নির্বাচন কমিশনের Special Intensive Revision বা SIR ঘিরে চলা বিতর্কের মধ্যে মঙ্গলবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি একাধিক দাবি তুলেছে। দলের পক্ষ থেক…
রাজনীতি
রেভন্থ রেড্ডির ‘ধনী-গরিবের ঈশ্বর’ মন্তব্যে বিতর্ক, তীব্র আক্রমণ BJP-র
তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেভন্থ রেড্ডি ভগবান রামকে ‘ধনীদের ঈশ্বর’ এবং ভগবান শিবকে ‘গরিবদের ঈশ্বর’ হিসেবে উল্লেখ করায় রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হ…
