কলকাতায় ‘আজাদি’ স্লোগান নিয়ে সরব সুদীপ্ত অধিকারী, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ‘পরিষ্কার’ করার বার্তা
কলকাতায় ‘আজাদি’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে সরব হয়েছেন সুদীপ্ত অধিকারী। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘পরিষ্কার’ করার বার্তা দিয়ে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চর্চা। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের রাজনৈতিক পরিবেশ এবং ছাত্র রাজনীতি নিয়েও ফের প্রশ্ন উঠেছে।
লিখেছেন
Priya Jana
‘আজাদি’ স্লোগান ঘিরে কলকাতায় নতুন বিতর্ক
কলকাতায় ‘আজাদি’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে ফের রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন সুদীপ্ত অধিকারী। তাঁর বক্তব্যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ উঠে আসায় রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।
সুদীপ্ত অধিকারীর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশে এমন কোনও স্লোগান বা রাজনৈতিক কার্যকলাপ গ্রহণযোগ্য নয়, যা নিয়ে বৃহত্তর সমাজে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘পরিষ্কার’ করার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের ছাত্র রাজনীতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কোনও রাজনৈতিক স্লোগান বা কর্মসূচি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হলে তার প্রভাব শিক্ষাঙ্গনের বাইরেও পড়ে।
‘আজাদি’ স্লোগান নিয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই পুরনো বিতর্ককেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন, অন্যদিকে জাতীয়তাবাদ ও শিক্ষাঙ্গনের রাজনৈতিক পরিবেশ—দুই দিক থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
‘পরিষ্কার’ করার বার্তা কেন গুরুত্বপূর্ণ
সুদীপ্ত অধিকারীর ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পরিষ্কার’ করার বার্তা রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে। তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে—‘পরিষ্কার’ বলতে ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন ও ছাত্র রাজনীতির ক্ষেত্রে তার প্রভাব কী হতে পারে।
শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক মতপ্রকাশের অধিকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা দীর্ঘদিনের বিতর্কের বিষয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ক্যাম্পাসে সেই প্রশ্ন আরও স্পর্শকাতর।
ফের আলোচনার কেন্দ্রে ছাত্র রাজনীতি
এই মন্তব্যের পর ফের আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি। রাজনৈতিক দলগুলির প্রভাব, ক্যাম্পাসে বিভিন্ন মতাদর্শের প্রকাশ এবং শিক্ষাঙ্গনে স্লোগানের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তবে ‘আজাদি’ স্লোগানের প্রেক্ষাপট, কারা স্লোগান দিয়েছেন এবং ঠিক কোন পরিস্থিতিতে তা ব্যবহার করা হয়েছে—এই বিষয়গুলি স্পষ্টভাবে জানা জরুরি। রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণ প্রেক্ষাপট সামনে না এলে বিষয়টি নিয়ে একতরফা সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।
কলকাতায় এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কতটা তীব্র হয় এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা ছাত্র সংগঠনগুলি কী অবস্থান নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
Keep reading
More in রাজনীতি
রাজনীতি
Nandigram Bye Election: মিলন প্রধানকে দেওয়া স্বস্তি খারিজ, সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশে স্থগিতাদেশ! ভোটের আগে ফের জটিলতা
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ঘিরে আইনি জটিলতা আরও বাড়ল। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ ২০০৭ সালের এক…
রাজনীতি
Municipal Election: পুজোর ছুটির পরই হবে রাজ্যের ৭ পুরসভায় নির্বাচন, ভোট গণনা হতে পারে ডিসেম্বরের শুরুতেই
দুর্গাপুজোর ছুটি শেষ হওয়ার পরই পশ্চিমবঙ্গের সাতটি পুরসভায় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, ২৭ বা ২৮ নভেম্বর…
রাজনীতি
Supreme Court: জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে? কমিশনকে জানাতে বলল সুপ্রিম কোর্ট, শিবসেনার প্রসঙ্গ উঠল আদালতে
তৃণমূল কংগ্রেসের ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক ও দলের নাম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে করা মামলায় বৃহস…
রাজনীতি
Nandigram Bye Election: মিলন প্রধানের গ্রেফতারিতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ, বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ রাজ্যের
নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের একটি মামলায় নতুন করে গ্রেফতারি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে বড…
রাজনীতি
BJP in West Bengal: ভোটে এত টাকা খরচ করেছে বিজেপি? পাঁচ রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পশ্চিমবঙ্গেই
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি মোট ₹৫২৯.৩৮ কোটি টাকা খরচ করেছে বলে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া খরচের হিসাব থেকে জানা যাচ্ছে। এর মধ্যে পশ…
রাজনীতি
CJP on Gyanesh Kumar: ফের পথে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি? এবার ইস্যু নির্বাচন কমিশন? ‘জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো’, লিখলেন অভিজিৎ দীপকে
নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতবিরোধের খবর প্রকাশ্যে আসার পর এবার নির্বাচন কমিশন সংস্কারের দাবিতে পথে নামার ইঙ্গিত দিয়েছে Cockroach Janta Party (…
