তৃণমূলে তৃণমূল স্তরে সংকট! ফোন ধরছেন না নেতারা, দিশাহীন কর্মীরা, বাড়ছে অসন্তোষ
তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনের নিচুতলায় অসন্তোষ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। বিভিন্ন এলাকায় অভিযোগ, স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না কর্মীরা। ফোন ধরছেন না নেতারা, গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও মিলছে না স্পষ্ট নির্দেশ। এর ফলে মাঠপর্যায়ে কর্মীদের মধ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা এবং দিশাহীনতা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের অভাব এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
লিখেছেন
Priya Jana
তৃণমূল স্তরে বাড়ছে সাংগঠনিক সংকট, প্রশ্নের মুখে নেতৃত্ব
রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনের তৃণমূল স্তরে ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে এক নতুন সংকট। বিভিন্ন জেলা ও ব্লক স্তর থেকে অভিযোগ উঠছে, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। একাধিক কর্মীর দাবি, ফোন করলেও সাড়া মিলছে না, ফলে সাংগঠনিক কাজ পরিচালনা করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
ফোন ধরছেন না নেতারা, ক্ষোভ কর্মীদের মধ্যে
দলের একাংশের কর্মীদের অভিযোগ, এলাকার সমস্যা, কর্মসূচি বা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করার জন্য নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনও উত্তর মিলছে না। এর ফলে মাঠপর্যায়ে কাজ করা কর্মীদের মধ্যে হতাশা এবং অসন্তোষ বাড়ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নেতৃত্ব ও কর্মীদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ না থাকলে সংগঠনের ভিত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে পঞ্চায়েত ও বিধানসভা নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক লড়াইয়ের আগে এই ধরনের পরিস্থিতি দলীয় সংগঠনের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
নির্দেশের অভাবে থমকে সাংগঠনিক কাজ
দলের নিচুতলার অনেক কর্মীর বক্তব্য, বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্পষ্ট নির্দেশ না থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও একই বিষয়ে একাধিক নির্দেশ আসছে, আবার অনেক ক্ষেত্রেই কোনও নির্দেশই পৌঁছাচ্ছে না বলে অভিযোগ।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় স্তরে সংগঠনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দ্রুত সমন্বয় না ঘটলে ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও বড় আকার নিতে পারে।
বিরোধীদের কটাক্ষ
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি ইতিমধ্যেই এই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে শাসকদলকে আক্রমণ শুরু করেছে। তাদের দাবি, সংগঠনের অভ্যন্তরে সমন্বয়ের অভাব এবং নেতৃত্বের সঙ্গে কর্মীদের দূরত্ব এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সাংগঠনিক উদ্যোগ নেওয়া হলে কর্মীদের আস্থা ফেরানো সম্ভব হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা কোনও রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেই সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নিয়মিত যোগাযোগ, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং কর্মীদের সঙ্গে নেতৃত্বের সম্পর্ক বজায় রাখাই এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার মূল চাবিকাঠি।
আগামী দিনে দলীয় নেতৃত্ব কীভাবে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করে এবং কর্মীদের অভিযোগের সমাধান করে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগগুলি বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্র ও কর্মীদের দাবির ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা হবে।
Keep reading
More in রাজনীতি
রাজনীতি
স্টোল থেকে একই মঞ্চে: রাজনৈতিক টানাপোড়েন পেরিয়েও মমতা-সোনিয়ার সম্পর্ক
দিল্লিতে INDIA ব্লকের সাম্প্রতিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সোনিয়া গান্ধীর উষ্ণ মুহূর্ত ফের নজর কেড়েছে। মমতা সোনিয়াকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আনা…

রাজনীতি
Gyanesh Kumar ও SIR ইস্যুতে ৪ অক্টোবর মুম্বইয়ে প্রতিবাদ মিছিল, যোগ দেবে NCP-SP ও কংগ্রেস
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকার Special Intensive Revision (SIR)-কে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে ৪ অক্টোবর মুম্বইয়ে প্রস্তাবিত…
রাজনীতি
কর্ণাটকে SIR নিয়ে নতুন বিতর্ক, Form 7-এ ভোটার বাদ দেওয়ার তথ্য চাইলেন শিবকুমার
কর্ণাটকে চলা Special Intensive Revision (SIR) নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার Form 7-এর মাধ্যমে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার আবে…
রাজনীতি
‘ইস্তফা জনতা পার্টি’ কটাক্ষ রামদাস আঠাওয়ালের, CEC জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি ঘিরে বিতর্ক
CEC জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যে CJP-কে ‘ইস্তফা জনতা পার্টি’ বলে কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী…
রাজনীতি
SIR বিতর্কে কংগ্রেসের ৫ দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও CEC-এর পদত্যাগ চাইল দল
নির্বাচন কমিশনের Special Intensive Revision বা SIR ঘিরে চলা বিতর্কের মধ্যে মঙ্গলবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি একাধিক দাবি তুলেছে। দলের পক্ষ থেক…
রাজনীতি
রেভন্থ রেড্ডির ‘ধনী-গরিবের ঈশ্বর’ মন্তব্যে বিতর্ক, তীব্র আক্রমণ BJP-র
তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেভন্থ রেড্ডি ভগবান রামকে ‘ধনীদের ঈশ্বর’ এবং ভগবান শিবকে ‘গরিবদের ঈশ্বর’ হিসেবে উল্লেখ করায় রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হ…
