সংসদের বাদল অধিবেশনে বিরোধী জোটে ফাটল, অচলাবস্থায় NDA-র বাড়তি সুবিধা
সংসদের বাদল অধিবেশনে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকার ও বিরোধীদের সংঘাত অব্যাহত। এর মধ্যেই বিরোধী জোটের ঐক্যে ফাটল এবং বিভিন্ন দলের মধ্যে মতপার্থক্য NDA-কে কৌশলগত সুবিধা দিচ্ছে। ডিলিমিটেশন, মহিলা সংরক্ষণ এবং FCRA-র মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় অধিবেশনের বাকি সময়েও আইন প্রণয়নের কাজ কতটা এগোবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
লিখেছেন
Priya Jana
সংসদের বাদল অধিবেশনে বিরোধী জোটে ফাটল, অচলাবস্থায় NDA-র বাড়তি সুবিধা
নয়াদিল্লি: সংসদের বাদল অধিবেশন যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব। একদিকে গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আলোচনা ও আইন প্রণয়নের কাজ বারবার ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে পরিবর্তন তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিই শেষ পর্যন্ত NDA-কে কৌশলগত সুবিধা এনে দিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
২০ জুলাই শুরু হওয়া সংসদের বাদল অধিবেশন ১৩ অগস্ট পর্যন্ত চলার কথা। শুরু থেকেই NEET-সংক্রান্ত অভিযোগ, অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান নিয়ে বিতর্ক এবং একাধিক রাজনৈতিক ইস্যুতে বিরোধীদের প্রতিবাদে দুই কক্ষের কাজ ব্যাহত হয়েছে।
বিরোধী ঐক্যে কেন প্রশ্ন উঠছে?
বাজেট অধিবেশনের শেষদিকে বিরোধী দলগুলি একজোট হয়ে সংবিধান সংশোধনী বিল আটকে দিতে সক্ষম হয়েছিল। সেই সময় ২৩০ জন সাংসদ বিলের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে কয়েকটি দলের সাংসদদের অবস্থান বদল এবং ভাঙনের ফলে NDA-র সাংসদ সংখ্যা ও সম্ভাব্য সমর্থন বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধীদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি তৈরি হলে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংশোধনী বা অন্যান্য বিতর্কিত বিলের ক্ষেত্রে সরকারের দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়বে।
ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বড় পরীক্ষা
এই অধিবেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় ডিলিমিটেশন এবং মহিলা সংরক্ষণ। ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার সঙ্গে মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার বিষয়টি যুক্ত থাকায় দুই ইস্যুই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
এর আগে ডিলিমিটেশন-সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় আটকে গিয়েছিল। কিন্তু বিরোধী শিবিরে সাম্প্রতিক ভাঙন এবং NDA-র শক্তি বৃদ্ধির ফলে সেই অঙ্কে পরিবর্তন এসেছে। ফলে সরকার ফের বিলটি সামনে আনলে বিরোধীদের আগের মতো ঐক্যবদ্ধভাবে তা আটকানো কঠিন হতে পারে।
FCRA বিল নিয়েও অচলাবস্থা
বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন বা FCRA-সংক্রান্ত বিষয়ও অধিবেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বিরোধীরা একাধিক ইস্যুতে আলোচনার দাবি জানিয়ে সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত করছে। অন্যদিকে সরকার আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকার কথা জানালেও উভয় পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনও বড় ফারাক রয়েছে।
এই অচলাবস্থা চলতে থাকলে গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করার সময় কমে যেতে পারে। ফলে সরকারকে অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে আইন প্রণয়নের জন্য আরও কৌশলী হতে হবে।
NDA-র জন্য কোথায় বাড়তি সুবিধা?
বিরোধী জোটের দুর্বলতা NDA-কে শুধু সংখ্যার দিক থেকেই সুবিধা দিচ্ছে না, রাজনৈতিক কৌশলের ক্ষেত্রেও কিছুটা বাড়তি জায়গা তৈরি করছে। বিরোধীদের মধ্যে মতপার্থক্য যত বাড়বে, ততই সরকার বিভিন্ন বিলের ক্ষেত্রে পৃথক দলগুলির সঙ্গে সমর্থন বা সমঝোতার রাস্তা খুঁজতে পারবে।
সংসদের অধিবেশন শুরুর আগেই বিরোধী শিবিরে ভাঙন এবং NDA-র সম্ভাব্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জিত হলে ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সাংবিধানিক পরিবর্তনের পথ তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে।
তবে অচলাবস্থার দায় শুধু বিরোধীদের নয়
সংসদে লাগাতার হট্টগোল ও মুলতবি হওয়ার ফলে আইন প্রণয়নের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ বিলের বিস্তারিত আলোচনা ও সংসদীয় নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
অন্যদিকে বিরোধীদের বক্তব্য, সরকারের কাছে জবাবদিহি চাওয়ার জন্য সংসদই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ এবং তারা সেই সুযোগ দাবি করছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি শুধু সরকার বনাম বিরোধী সংঘাত নয়, সংসদীয় গণতন্ত্রের কার্যকারিতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করছে।
শেষ পর্যন্ত কী হতে পারে?
অধিবেশনের বাকি সময় এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী দলগুলি যদি নিজেদের মধ্যে সমন্বয় ফিরিয়ে আনতে পারে, তবে গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলির ক্ষেত্রে সরকারের ওপর চাপ বাড়ানো সম্ভব। কিন্তু বিভাজন অব্যাহত থাকলে NDA-র পক্ষে সংখ্যার অঙ্ককে কাজে লাগিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইন এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ফলে সংসদের বাদল অধিবেশনের শেষ কয়েক দিন শুধু কোন বিল পাশ হল বা কোন বিল আটকে গেল, তার হিসাবেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ ঐক্য এবং NDA-র সংসদীয় শক্তির সমীকরণও এই অধিবেশন থেকে নতুন করে স্পষ্ট হতে পারে।
Keep reading
More in জাতীয়

জাতীয়
নানা পাটেকরের শেষ কয়েক ঘণ্টা: হার্ট অ্যাটাক নাকি কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট? কেন প্রতিটি মিনিট এত গুরুত্বপূর্ণ
প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকর ৮ অক্টোবর ২০২৬ সকালে গোয়ায় ৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্র অনুযায়ী, তিনি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত…
জাতীয়
‘You saved everyone’: Smit Machchhar-এর সাহসে মুগ্ধ PM Modi, বললেন—‘ভারতীয় পাইলটদের সম্মানও রক্ষা করেছেন’
ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানে মাঝআকাশে ভয়াবহ হামলার পর পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে ফোন করে তাঁর সাহস, উপস্থিত বুদ্ধি ও মানসিক দৃঢ়তার প্রশংস…
জাতীয়
‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ প্যানেলের প্রস্তাব খারিজ, CJI সূর্য কান্ত ও অন্যান্য বিচারপতির সঙ্গে হবে না বৈঠক
‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ সংক্রান্ত বিল পরীক্ষা করা যৌথ সংসদীয় কমিটির সঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বর্তমান বি…
জাতীয়
মুম্বইয়ে অভিজিৎ দিপকেকে আটক করার খবর অস্বীকার CJP-র, Gyanesh Kumar-কে নিশানা
মুম্বইয়ে প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আগে Cockroach Janta Party (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেকে পুলিশ আটক করেছে—এমন খবর অস্বীকার করেছে দলটি। CJP-র…
জাতীয়
‘দেশের ভবিষ্যৎ মানুষই ঠিক করবেন’, জন্তর মন্তর বিক্ষোভের আগে বললেন AISA-র নেত্রী নেহা বোরাই
জন্তর মন্তরে ২ অক্টোবরের প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আগে All India Students' Association (AISA)-এর জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাই নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম…
জাতীয়
জন্তর মন্তর বিক্ষোভে অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ, বাড়ানো হল নিরাপত্তা
জন্তর মন্তরে ২ অক্টোবর প্রস্তাবিত বিক্ষোভের জন্য কোনও সংগঠনকেই অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। Special Intensive Revision (SIR)…
