লোহাগড় দুর্গে কেতন আগরওয়ালের দেহ উদ্ধার: ‘শান্ত’ ছিলেন সিয়া, উদ্ধারকারী দলের বিস্ফোরক দাবি
পুনের লোহাগড় দুর্গে কেতন আগরওয়ালের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্ধারকারী দলের সদস্যের নতুন বক্তব্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাঁর দাবি, ঘটনাস্থলে পৌঁছে কেতনের মাথার খুলি চূর্ণ অবস্থায় পাওয়া যায় এবং উপস্থিত সিয়া গোয়েল অন্যদের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে শান্ত ছিলেন। এদিকে তদন্তে উঠে এসেছে মোবাইল চ্যাট মুছে ফেলা ও পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
লিখেছেন
Priya Jana
লোহাগড় দুর্গে কেতন আগরওয়াল মৃত্যু: উদ্ধারকারী দলের সদস্যের বক্তব্যে নতুন মোড়
পুনের বহুল আলোচিত কেতন আগরওয়াল মৃত্যুকাণ্ডে সামনে এসেছে নতুন তথ্য। লোহাগড় দুর্গ থেকে কেতনের দেহ উদ্ধারে অংশ নেওয়া উদ্ধারকারী দলের সদস্য সুনীল গায়কওয়াড় দাবি করেছেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁরা কেতনকে গুরুতর মাথার আঘাত এবং চূর্ণবিচূর্ণ খুলি নিয়ে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পাশাপাশি তাঁর দাবি, সেখানে উপস্থিত সিয়া গোয়েল অন্যদের মতো ভেঙে না পড়ে অত্যন্ত শান্ত ছিলেন।
কী জানালেন উদ্ধারকারী দলের সদস্য?
উদ্ধারকারী দলের সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ খবর পায়। এরপর শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। দুর্গের দুর্গম খাদ থেকে দেহ উদ্ধার করে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে স্ট্রেচারে বহন করে অ্যাম্বুল্যান্স পর্যন্ত নিয়ে যেতে উদ্ধারকর্মীদের যথেষ্ট বেগ পেতে হয়।
তিনি জানান, কেতনের মাথায় মারাত্মক আঘাত ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে একাধিক ক্ষতের চিহ্ন দেখা যায়। তাঁর মতে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত অধিকাংশ মানুষ আতঙ্কিত ও কান্নায় ভেঙে পড়লেও সিয়া গোয়েলকে তুলনামূলকভাবে শান্ত অবস্থায় দেখা যায়।
কীভাবে সামনে আসে হত্যার অভিযোগ?
প্রথমদিকে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে মনে করা হলেও, পুনে গ্রামীণ পুলিশের তদন্তে উঠে আসে একাধিক অসঙ্গতি। তদন্তকারীদের অভিযোগ, কেতন আগরওয়ালকে পরিকল্পিতভাবে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং পরে তাঁকে গভীর খাদে ফেলে দেওয়া হয়।
এই মামলায় কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তাঁর কথিত প্রেমিক চেতন চৌধুরীর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে এবং পুলিশ আরও তথ্য সংগ্রহ করছে।
তদন্তে উঠে এল মোবাইলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
পুলিশের দাবি, ঘটনার আগে এবং পরে অভিযুক্ত দুইজনই নিজেদের মোবাইল ফোন থেকে চ্যাট হিস্ট্রি ও রিসাইকেল বিন মুছে ফেলেছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, এটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা হতে পারে।
এছাড়া তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে গত কয়েক মাসে দুই হাজারেরও বেশি ফোনালাপ হয়েছিল। পুলিশ ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
তদন্ত এখনও চলমান
এই মামলায় একের পর এক নতুন তথ্য সামনে এলেও তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। পুলিশ সমস্ত ডিজিটাল প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং ফরেনসিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আইনগতভাবে প্রমাণিত নয়।
Keep reading
More in অপরাধ
অপরাধ
‘জিনিসপত্র-সহ দেহ কীভাবে দাহ করা হল?’: যুবরাজ মাঞ্চন্দা খুনের তদন্তে গুরুগ্রাম পুলিশকে ভর্ৎসনা আদালতের
যুবরাজ সিং মাঞ্চন্দা খুনের তদন্তে গুরুগ্রাম পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলল দিল্লির একটি আদালত। দেহের সঙ্গে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র কীভাব…
অপরাধ
মুম্বইয়ে বড় খাদ্য জালিয়াতি: বদলানো হচ্ছিল Lay's, Kurkure, Maggi-র মেয়াদ
মুম্বইয়ের কাছে নবি মুম্বইয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্যের লেবেল ও expiry date বদলে বাজারজাত করার অভিযোগে বড়সড় চক্রের হদিশ মিলেছে। মহারাষ্ট্রের…
অপরাধ
গুজরাত থেকে মুম্বইয়ে ৩০ লক্ষ টাকার মাদক পাচার, গ্রেফতার প্রাক্তন কেবিন ক্রু
গুজরাত থেকে মুম্বইয়ে মাদক পাচারের অভিযোগে প্রাক্তন কেবিন ক্রু মানসি সায়েদ এবং তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ভদোদ…
অপরাধ
বিহারে অফিসার খুন: চালককে টয়লেট বিরতি না দেওয়ার পর হত্যার অভিযোগ, বিধায়কের বিরুদ্ধে স্ত্রীর বিস্ফোরক দাবি
বিহারে এক সরকারি আধিকারিক হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মৃত আধিকারিকের স্ত্রী অভিযোগ করেছেন, গাড়ির চালককে টয়লেট ব্যবহারের জ…
অপরাধ
বিহারের সিওয়ানে ছাত্র বিক্ষোভে AK-47 চালানো পুলিশকর্মী সাসপেন্ড, তদন্ত শুরু
বিহারের সিওয়ানে ছাত্র বিক্ষোভের সময় AK-47 থেকে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠা এক পুলিশকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়…
-1785143483008_v.jpg&w=3840&q=75)
অপরাধ
বারাবাঁকিতে বড় সাফল্য পুলিশের, দাগী অপরাধীসহ ৯ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার; উদ্ধার চোরাই মালপত্র
উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকি জেলায় পুলিশের বড় সাফল্য। অভিযান চালিয়ে একজন দাগী অপরাধীসহ মোট নয়জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের…
