IIT-এ পড়েও ছেলে কেন IIT-এ? টেকির মন্তব্যে তুমুল বিতর্ক
IIT-এ পড়াশোনা করে নিজের ও পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থান বদলে দেওয়াই যদি লক্ষ্য হয়, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মেরও কি একই প্রতিষ্ঠানে পড়ার প্রয়োজন থাকা উচিত? এই প্রশ্ন তুলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন টেকি আকাশ সম্পূর্ণানন্দ পাণ্ডে। তাঁর মন্তব্য, “আপনি IIT-এ পড়েছেন, তারপর আপনার ছেলেকেও IIT-এ পড়তে হয়েছে, তাহলে আপনি ব্যর্থ”—এই বক্তব্য ঘিরে দ্বিমত তৈরি হয়েছে।
লিখেছেন
Priya Jana
ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় IIT শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বহু পরিবারের কাছে এটি সামাজিক ও আর্থিক উন্নতির প্রতীক। JEE পেরিয়ে IIT-এ সুযোগ পাওয়া এখনও দেশের অন্যতম কঠিন শিক্ষাগত সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু সেই IIT-ই যদি এক প্রজন্মের সাফল্যের বদলে পরপর প্রজন্মের লক্ষ্য হয়ে ওঠে, তাহলে সেটিকে কীভাবে দেখা উচিত? এই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনেছে এক টেকির ভাইরাল মন্তব্য।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ আকাশ সম্পূর্ণানন্দ পাণ্ডে নামে এক টেকি লিখেছেন, তিনি একটি IIT অ্যালামনাই মিটে এমন একটি মন্তব্য শুনেছিলেন—“আপনি IIT-এ পড়েছেন, তারপর আপনার ছেলেকেও IIT-এ পড়তে হয়েছে, তাহলে আপনি ব্যর্থ।”
IIT কি পরিবারের ‘এস্কেপ ল্যাডার’?
পাণ্ডের বক্তব্যের মূল যুক্তি হল, IIT-কে তিনি শুধুমাত্র একটি ডিগ্রি অর্জনের জায়গা হিসেবে দেখছেন না। তাঁর মতে, IIT এমন একটি ‘এস্কেপ ল্যাডার’, যা একটি পরিবারকে এক প্রজন্মে সামাজিক ও আর্থিকভাবে উপরে উঠে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে।
তিনি যুক্তি দেন, একজন ১৯৮৫ সালের IIT স্নাতকের সন্তানদের এমন জায়গায় পৌঁছনোর সুযোগ তৈরি হওয়া উচিত, যেখানে তাদের সাফল্যের জন্য ফের IIT-এর উপর নির্ভর করতে হবে না। তাঁর বক্তব্যে Stanford বা Harvard-এর মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের উদাহরণও উঠে এসেছে।
পাণ্ডের মতে, IIT-কে পরিবারের চিরস্থায়ী ‘লিগ্যাসি’ বানানোর বদলে প্রথম প্রজন্মের জন্য একটি সামাজিক-অর্থনৈতিক লঞ্চপ্যাড হিসেবে দেখা উচিত। অর্থাৎ, বাবা-মা IIT থেকে উঠে এসে এমন সুযোগ ও পরিবেশ তৈরি করবেন, যাতে পরবর্তী প্রজন্মের সামনে আরও বিস্তৃত পথ খোলা থাকে।
Harvard-এর সঙ্গে কেন তুলনা?
ভাইরাল পোস্টে পাণ্ডে Harvard-এর মতো মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে IIT-এর তুলনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, Harvard-সহ বেশ কিছু অভিজাত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে বহু প্রজন্ম ধরে একই পরিবারের সদস্যদের পড়াশোনার ঐতিহ্যকে মর্যাদার বিষয় হিসেবে দেখা হয়।
অন্যদিকে, IIT-কে তিনি এমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরেছেন, যেখানে মূল গুরুত্ব মেধা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার উপর। ফলে একটি পরিবারে প্রথম প্রজন্ম IIT-এ গিয়ে যদি সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থান বদলাতে পারে, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একই ‘সিঁড়ি’ ব্যবহার করার প্রয়োজন না থাকাই সাফল্যের অন্য মাপকাঠি—এমনটাই তাঁর যুক্তি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। একাংশ মনে করছেন, বক্তব্যটির মধ্যে বাস্তবতা রয়েছে। তাঁদের যুক্তি, IIT-এ পড়াশোনার উদ্দেশ্য শুধু চাকরি পাওয়া নয়; শিক্ষা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং সামাজিক পরিসরকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আরও বিস্তৃত করা।
অন্যদিকে, অনেকেই এই যুক্তির বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, কোনও পরিবারে বাবা IIT-এ পড়েছেন এবং পরে সন্তানও নিজের যোগ্যতায় IIT-এ সুযোগ পেয়েছে—এটি ব্যর্থতা নয়, বরং দু’প্রজন্মের সাফল্য। একটি সন্তান একই প্রতিষ্ঠানে পড়তে চাইলে সেটিকে কেন পরিবারের সামাজিক উন্নতির ব্যর্থতার মাপকাঠি হিসেবে দেখা হবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মত উঠে এসেছে—ভারতের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন আরও বহু বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা, যাতে IIT বা কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমে। কেউ কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, IIT-কে ঘিরে দেশের অতিরিক্ত উন্মাদনাই কি আসল সমস্যা নয়?
‘IIT-এ পড়া’ বনাম ‘IIT-কে সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি ভাবা’
এই বিতর্কের কেন্দ্রে আসলে IIT নয়, বরং সাফল্যের সংজ্ঞা। একজন IITian-এর সন্তানও IITian হলেই কি পরিবারের উন্নতি থেমে গেল? নাকি নিজের পছন্দ ও যোগ্যতা অনুযায়ী একই প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পাওয়াও একটি সাফল্য?
বিশেষজ্ঞদের মতামত না থাকলেও সোশ্যাল মিডিয়ার বিতর্ক থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—ভারতীয় মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে IIT এখনও প্রবল আকর্ষণের জায়গা। তবে নতুন প্রজন্মের কাছে সাফল্যের অর্থ ক্রমশ বদলাচ্ছে। IIT, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, উদ্যোক্তা হওয়া, গবেষণা কিংবা অন্য পেশা—সবকিছুকেই এখন একই বৃহত্তর ক্যারিয়ার মানচিত্রের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাণ্ডের বক্তব্য তাই শুধু IIT-এ ভর্তি নিয়ে নয়। এটি আসলে প্রশ্ন তুলেছে, একটি প্রজন্মের শিক্ষা ও সাফল্য পরবর্তী প্রজন্মের জীবনে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে এবং সেই পরিবর্তনকে কীভাবে মাপা উচিত।
Keep reading
More in শিক্ষা
শিক্ষা
THE-র ‘রিসার্চ কোয়ালিটি’ সূচকে IISc-কে ছাপাল Galgotias, উঠছে প্রশ্ন
Times Higher Education-এর World University Rankings 2027-এ ‘Research Quality’ সূচকে Galgotias University-এর স্কোর IISc-এর চেয়ে বেশি হয়েছে। G…
শিক্ষা
IIT Bombay ছাত্রের আত্মহত্যা: তদন্ত কমিটি বদলের দাবিতে পড়ুয়াদের মোমবাতি মিছিল
IIT Bombay-এর দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া সাহিল ওয়াকোডের মৃত্যুর তদন্তে গঠিত কমিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিক্ষোভরত পড়ুয়ারা। তদন্ত কমিটি ভেঙে দিয়ে…
শিক্ষা
রাজ্যে ৯৩৩ পড়ুয়াহীন স্কুল! শূন্য পড়ুয়ার স্কুল নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সরকারের
পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পড়ুয়াশূন্য থাকা প্রায় ৯৩৩টি স্কুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের পথে রাজ্য সরকার। স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জা…
শিক্ষা
8th Pay Commission: বছরে ৪ বার হবে DA বৃদ্ধি? অষ্টম বেতন কমিশনে নতুন কী খবর, জানুন সব আপডেট
অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়ছে। বছরে চারবার DA বৃদ্ধির খবর ঘুরলেও এখনও এমন কোনও সরকারি স…
শিক্ষা
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আধিকারিক ও কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে বড় বদল! ২১ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নবান্নের নতুন উদ্যোগ
রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষক, আধিকারিক ও অশিক্ষক কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিচালনায় অভিন্ন আইনি কাঠামো আনার উদ্যোগ নিয়েছে নবান্ন। ‘দ্য…
শিক্ষা
জনগণনার কাজে যুক্ত শিক্ষকদের নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত! স্কুল সামলে নয়, বদলিও নয়—৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কী নির্দেশ বিকাশ ভবনের?
পশ্চিমবঙ্গে জনগণনার কাজে যুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে স্কুলশিক্ষা দফতর। ৮ সেপ্টেম্বরের নির্দেশ অনুযায়ী, প্র…
